অনুপ্রেরণার ৫ ছোট্ট গল্প


motivation-inspirationমানুষ যদি একঘেঁয়ে জীবন যাপনে অভ্যস্থ হতো তবে পৃথিবীর রূপ অন্যরকম হতো হয়তো। কিন্তু মানুষ সৃষ্টির সেরা জীব। নতুন কিছু সৃষ্টি করে করে চলায় তার ধর্ম। বুদ্ধিদীপ্ত মানুষ বুদ্ধি হওয়ার পর থেকে একটাই স্বপ্ন দেখে “জীবনে কিছু করতে/হতে হবে”। এই কিছু হওয়ার পিছনে অনেক কিছু করতে হয়। কিছু বিষয় এমন থাকে যা থেকে কখনো শিক্ষা দেয় , কখনো প্রেষণা যোগায়। জীবনে এই “কিছু” করার জন্য নিজের ইচ্ছাশক্তির পর সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন যেটা তা হল “অনুপ্রেরণা”। এই অনুপ্রেরণা যেমন কোন মানুষ দিতে পারে, আবার কয়েকটি শব্দগুচ্ছ কিংবা একটি বাক্য অথবা একটি ছোট গল্প থেকেও পাওয়া যেতে পারে।

দিন যত যাচ্ছে জীপন যাপনের ধরণও পালটে যাচ্ছে পাল্লা দিয়ে। বদলে যাচ্ছে জীবনে কিছু অর্জনের নকশা। তাই কখনো কখনো হতাশা ভর করে বসে কাঁধে যেন আর নামতে চায় না। এই সময় যদি সাহস দেয়ার মত কিংবা অনুপ্রেরণা দেয়ার মত বা অনুপ্রেরণার গল্প শুনানোর মত একটা হাত অন্য কাঁধে পাওয়া যায়। তখন ‘হতাশা” নামক অশুভ শক্তি একটি স্বপ্নকে শেষ করতে না পারায় হতাশ হয়ে হাওয়ায় মিলিয়ে যায়। আর সেই সাথে স্বপ্নটিও উড়বে বলে ডানা ঝাপটিয়ে হয়ে যায় ভারমুক্ত।

০১। প্রত্যেকের জীবনে একটি গল্প থাকে

২৪ বছর বয়সী এক ছেলে ট্রেনের জানালা দিয়ে বাইরে দেখছিল আর চিৎকার করে বলছিল
“বাবা, দেখো গাছগুলো সব পিছনের দিকে চলে যাচ্ছে”
বাবা হাসছিল এবং পাশের সিটা বসা এক জুটি ছেলেটির এমন বাচ্চা সুলভ আচরণ সহানুভুতি নিয়ে দেখছিল। হঠাৎ করে ছেলেটি আবারও চেঁচিয়ে উঠল-
“বাবা, দেখো মেঘগুলো আমাদের সাথে দৌড়াচ্ছে”

জুটিটি আর নিরব থাকতে পারল না, বৃদ্ধ বাবাকে বলে ফেলল-

“আপনি আপনার ছেলেকে কেন কোন ডাক্তারকে দেখাচ্ছেন না”

উত্তরে হেসে বাবা বলল-

‘আমি দেখিয়েছি, আমরা হাসপাতাল থেকেই আসছি, আমার ছেলে জন্ম অন্ধ, আজকেই সে তার চোখের আলো ফিরে পেল, আজকেই সব কিছু দেখতে পারছে।

(পৃথিবীতে প্রতিটি মানুষের একটি গল্প থাকে। কাউকে ভালোভাবে না জেনে তার সম্পর্কে কিছু বিচার করে ফেলা ঠিক না। সত্যিটা আপনাকে চমকে দিতে পারে।)

০২। ঝেড়ে ফেলা

এক লোকের খুব প্রিয় গাধাটি একদিন একটি গভীর খাড়া পাহাড়ে খাদে পড়ে যায়। লোকটি গাধাটিকে টেনে তোলার আপ্রান চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়। শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত নেন গাধাকে জীবন্ত সমাহিত করার।

তিনি গাধার উপর মাটি ঢালতে থাকেন। অপরদিকে ভার কমাতে গাধাটি গায়ে পড়া মাটি ঝেড়ে ফেলে দিতে থাকে। আর তার উপর দাড়াতে থাকে।

আরো মাটি পড়তে থাকে , সে ঝাড়তে থাকে ।

এভাবে মাটি ঝেড়ে ফেলতে ফেলতে আর তার উপর দাড়াতে গিয়ে দুপুর নাগাদ সে অনেকখানি
উপরে ঊঠে আসে।

(সমস্যাকে ঝেড়ে ফেলে, তার থেকে শিক্ষা নিয়ে চলতে থাকলে সুদিন আসবেই।)

০৩। হাতির দড়ি

এক লোক হাতির পাশ দিয়ে হেটে যাচ্ছিল, হটাৎ থেমে গেলন। একটি বিষয় মনে দ্বিধা তৈরী করায় তিনি থমকে যান। তিনি দেখলেন এতো বড় প্রাণী গুলো শুধুমাত্র সামনের পায়ে ছোট্ট একটি দড়ি দ্বারা বাঁধা হচ্ছিল। কোন চেইন বা কোন খাঁচা নয়। এই দড়ি এতো বড় প্রাণীর পক্ষে ছেড়া খুব মামুলি ব্যাপার। যেকোন সময় চাইলে এটি ছিড়ে তারা মুক্তভাবে চলে যেতে পারে কিন্তু বিশেষ কোন কারণে তারা তা করে না। কারণটাই তাকে ভাবাচ্ছিল।

কাছেই তিনি একজন প্রশিক্ষককে পেলেন এবং জানতে চাইলেন কেন এই প্রাণী গুলো এভাবে দাঁড়িয়ে থাকছে, দূরে পালিয়ে যাবার কোন চেষ্টা কেন করছে না। তখন প্রশিক্ষক উত্তরে বললেন-যখন তারা খুব ছোট ছিল, তখনও তাদেরকে এই সাইজের দড়ি দিয়ে বেঁধে রাখা হতো, যা বেঁধে রাখার জন্য তাদের ঐ সময়ের সাইজের জন্য যথেষ্ট ছিল। বড় হতে হতে তারা ধারনা করতে থাকে এই দড়ি তাদের নিয়ন্ত্রন করছে, এটি থেকে বেরিয়ে যাওয়া যাবে না। এক সময় এটি বিশ্বাসে পরিণত হয়, যেমন এখন, তাদের সাইজ দড়ির চেয়ে বহুগুন বড় হলে বিশ্বাস যে এই দড়ি এখনো তাদের ধারণ করতে পারে। তাই তারা তা ছিড়ে বাইরে যাবার কোন প্রচেষ্টা কোন দিন করে না।

লোকটি খুব অবাক হয়েছিল। এই প্রাণীগুলো চাইলেই তাদের বন্ধন থেকে বাইরে আসতে পারে কিন্তু শুধুমাত্র “তারা পারবে না ” এই বিশ্বাসের কারণে তারা সেখানেই আটকে থাকে ,যেখানে তাদের আটকে রাখা হয়।

হাতির মত , আমাদের অনেকেই বিশ্বাস করে বসে আছেন যে জীবনে কিছু করতে পারবেন না। শুধুমাত্র, জীবনে কোন এক সময় ব্যর্থ হয়েছিলেন এই কারণে।

(ব্যর্থতা হল শিখার একটি অংশ, জীবন সংগ্রামে কখনো হাল ছেড়ে দেওয়া উচিত না।)

০৪। আলু, ডিম, কফি

একদিন মেয়ে তার বাবাকে নিজের জীবন নিয়ে হতাশার অভিযোগ করছিল। বলছিল সে আর পারছে না, সে জানে না কিভাবে কি করতে হবে ,লড়তে লড়তে সে আজ ক্লান্ত। এই যেন একটি সমস্যা শেষ হলে আরেকটি হাজির হওয়া।

মেয়েটির বাবা পেশায় একজন রন্ধনশিল্পী। মেয়ের হতাশার কথা শুনে তিনি মেয়েকে রান্না ঘরে ডেকে আনলেন। তারপর তিনটি পাত্রে পানি ভর্তি করে তা আগুনের উপর বসিয়ে দিলেন। যখন পাত্র তিনটিতে বলক আসল, তখন তিনি একটিতে আলু, একটিতে ডিম আর অন্য একটিতে কফি ঢেলে দিলেন। এভাবে আরো কিছুক্ষন সিদ্ধ হতে থাকল, মেয়ের সাথে কোন কথা বললেন না। অপর দিকে মেয়ে অধৈর্য্য হয়ে দেখে যাচ্ছিল বাবা কি করছিল।

বিশ মিনিট পর তিনি চুলা বন্ধ করে একে একে প্রথমে আলু উঠিয়ে নিয়ে একটি বাটিতে রাখলেন, ডিম রাখলেন আর কফি একটি কাপে ঢাললেন। তারপর মেয়েকে জিজ্ঞেস করলেন” তুমি এখন কি দেখছো”

মেয়ে উত্তর দিল ” আলু , ডিম আর কফি”

বাবা বললেন ভালো করে দেখো এবং ধরে দেখো।

মেয়ে বাবার কথা মত ধরে দেখলো আলু নরম হয়ে গেছে, ডিমের খোসা খুলে দেখা গেল সিদ্ধ হয়ে শক্ত হয়ে গেছে। অন্যদিকে কফির কাপ থেকে বের হয়ে আসা ঘ্রাণে তার মুখ হাসোউজ্জল হয়ে যায়।

‘এসবের অর্থ কি বাবা”মেয়ে জানতে চাইল।

বাবা ব্যাখ্যা করলেন-

আলু, ডিম, কফি বিন যদিও একই তাপমাত্রার ফুটন্ত পানিতে অর্থাৎ একই দৈব পরিবেশের সম্মুখীন হয়েছিল। কিন্তু নিজের মত করে অর্থাৎ ভিন্ন ভিন্ন প্রতিক্রিয়া দেখায়। শক্ত আলু নরম হয়ে যায়। পাতলা আবরণে সুরক্ষিত নরম ডিম শক্ত হয়ে যায়। আর কফিবিনগুলো ছিল সম্পূর্ণ অন্যরকম। ফুটন্ত পানিতে এরা নিজেদের মেলে ধরে পানিটাকেই পরিবর্তন করে ফেলে। নতুন এক জিনিস সৃষ্টি করে।

” তুমি কোনটা?” মেয়ের কাছে বাবা জানতে চাইলেন। প্রতিকুল পরিবেশ যখন তোমার দুয়ারে কড়া নাড়বে তখন তুমি কিসের মত প্রতিক্রিয়া দেখাবে?।

০৫। এক গ্লাস পানির ওজন কত

একজন মনোবিজ্ঞানী স্ট্রেস ম্যানেজমেন্ট পড়ানোর সময় রুমে চারপাশে হাঁটতে হাঁটতে এক সময় শ্রাতাদের সামনে এক গ্লাস পানি উপর করে তুলে ধরলেন। তখন সবাই ভেবে ছিল হয়তো তিনি গ্লাস অর্ধেক খালি না অর্ধেক ভর্তি এই প্রশ্নটি করবেন। কিন্তু তিনি তা করলেন না। তিনি হাসিমুখে প্রশ্ন করলেন ” এই এক গ্লাস পানি কত ভারী”। উত্তর আসল আট আউন্স থেকে বিশ আউন্সের ভেতর।

তিনি বললেন এর আসল ওজন এখানে কোন ব্যাপার না। ব্যাপার হলো আমরা এটাকে কতক্ষন ধরে রাখছি। ওজনটাও তার উপর নির্ভর করছে।

যদি আমি এটাকে এক মিনিটের জন্য ধরে রাখি, তবে কোন সমস্যা হবে না। যদি এটাকে এক ঘন্টা ধরে রাখি তবে আমার হাতে ব্যাথা অনুভূত হবে। আর যদি একদিনের জন্য এভাবে ধরে থাকি তবে আমি অসাড় এবং পক্ষঘাতগ্রস্থ বোধ করব। প্রতিটা ক্ষেত্রে এর আসল ওজনে কোন পরিবর্তন হয় না। কিন্তু ধরে রাখার সময় বাড়ার সাথে সাথে এটি ভারী থেকে ভারী লাগতে শুরু করে।

তিনি আরো বিশদে গিয়ে বলেন আমাদের জীবনের চাপ এবং উদ্বেগগুলো এই গ্লাসের পানির মত। যা নিয়ে কিছুক্ষন ভাবলে তেমন কোন কিছু হবে না। কিন্তু এই চাপ আর উদ্বেগ যদি আমরা সারাদিনের জন্য ধরে রাখি, মনে রাখি ।তবে তা আমাদের কোন কিছু করার সামর্থ্যটা কেড়ে নিতে পারে। তাই চাপ কখনো সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত টানতে যাবেন না। এটাকে সব সময় ছেড়ে দিতে হবে। অর্থাৎ গ্লাস নামিয়ে রাখতে হবে মনে করে।

কমেন্ট করুন

What's Your Reaction?

hate hate
2
hate
confused confused
0
confused
fail fail
0
fail
fun fun
1
fun
geeky geeky
0
geeky
love love
2
love
lol lol
0
lol
omg omg
0
omg
win win
0
win

লগইন করুন

আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন।

পাসওয়ার্ড রিসেট করুন!

পাসওয়ার্ড রিসেট করুন!

সাইন আপ করুন

আমাদের পরিবারের সদস্য হোন।

Choose A Format
Personality quiz
Series of questions that intends to reveal something about the personality
Trivia quiz
Series of questions with right and wrong answers that intends to check knowledge
Poll
Voting to make decisions or determine opinions
Story
Formatted Text with Embeds and Visuals
List
The Classic Internet Listicles
Meme
Upload your own images to make custom memes
Video
Youtube, Vimeo or Vine Embeds
Audio
Soundcloud or Mixcloud Embeds
Image
Photo or GIF
Gif
GIF format