কমিক সুপারহিরো “থর” এর পেছনের গল্প


থর অডিনসন হচ্ছে নর্স মিথলজির বজ্রদেবতা। আসগার্ডিয়ান দেবরাজ অডিনের পুত্র। কমিকস অনুযায়ী থরের জন্ম হয়েছিল বহু শতাব্দী পূর্বে নরওয়ের এক গুহায়। মায়ের দুধ ছাড়ার পর অডিন তাকে আসগার্ডে নিয়ে আসে।

তার এক পালক ভাই রয়েছে, নাম লকি লাউফিসান। দুষ্কর্মের দেবতা এবং মারভেল ইউনিভার্সের প্রধান সুপারভিলেন।

ইয়োথানদের সাথে যুদ্ধ জয়ের পর ইয়োথেনহাইম থেকে ফেরার পথে অডিন, শিশু লকিকে নিয়ে  আসগার্ডে আসে। গাইয়া এবং অডিন লকিকে তাদের নিজের ছেলের মত লালন পালন করে। তবে থরই ছিল আসগার্ডের সিংহাসনের প্রকৃত উত্তরাধিকারী এবং অডিনের যোগ্য উত্তরসূরী। 

থর একজন যুদ্ধ দেবতা। যুদ্ধের দেবতা বলেই কিনা অসুরের শক্তি তার শরীরে। অস্ত্র বলতে তার ছিল কিংবদন্তীর অবিনাশী পাথর উরু দিয়ে তৈরি মায়োনিয়ার নামের প্রকাণ্ড হাতুড়ি। মায়োনিয়ার দিয়ে সে মেঘ, বজ্রপাত এবং বাতাসকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। অডিনের বক্তব্য অনুযায়ী যোগ্য কেউ ব্যতীত মায়োনিয়ার  তোলার সামর্থ্য কারো নেই। থর নিজেকে পৃথিবীর রক্ষক হিসেবে নিযুক্ত করে, তার পিছনে কারণ মূলত থর পরে জানতে পেরেছিল তার আসল মা হচ্ছে অগ্রজ দেবি গাইয়া।

শতাব্দী পর শতাব্দী আসগার্ডকে শত্রুর কবল থেকে রক্ষা করতে করতে থরের ভিতর এক ধরনের অহমিকা এবং একগুঁয়েমি তৈরি যার জন্যে সর্ব পিতা অডিন থরকে মিডগার্ডে (পৃথিবী) নির্বাসিত করে একজন সাধারন মানুষ হিসেবে। যাতে সে মানুষের সাথে থেকে তাদের ক্ষীণ এবং দুর্বলতার মধ্যে বসবাস করে নম্রতা এবং উদারতা শিখতে পারে। কমিক অনুযায়ী থরকে তার পিতা অডিন ডঃ ডোনাল্ড ব্লেইক নামের এক পঙ্গু মেডিকেল ছাত্রের মধ্যে স্থাপন করে। তখন তার মধ্যে কোন স্বর্গীয় শক্তি বা স্মৃতি ছিলনা। অডিনের বশীকরণের ফলে সে তার অতীতের সবকিছু ভুলে নিজেকে একজন সাধারণ মানুষ হিসেবে বিশ্বাস করা শুরু করে। ডাক্তারী পাশ করার পর নরওয়েতে ছুটি কাটানোর সময় ব্লেইক এক এলিয়েন স্কাউটদলকে পৃথিবীতে অবতরণ করতে দেখে এবং সেখান থেকে আশ্চর্যজনক ভাবে সে উড়ে যায় সেই গুহায় (যেখানে তার জন্ম হয়েছিল)। সেখানে সে নিজের ছড়িটি দিয়ে পাথরে আঘাত করে এবং সে রুপান্তরিত হয় তার পূর্বের রুপে; বজ্রদেবতা থর হিসেবে।

মারভেল কমিকসের সুপারহিরো বজ্র দেবতা থরকে পাঠকদের কাছে প্রথম উপস্থাপন করা হয় ১৯৬২ সালের অগাস্ট মাসে প্রকাশিত বিজ্ঞান-কল্পকাহিনী সঞ্চয়ন ‘জার্নি ইনটু মিস্ট্রি’তে। তখন ফিচারটির সম্পাদনায় ছিলেন লেখক স্ট্যান লি, তার ভাই ল্যারি লাইবার এবং চিত্রশিল্পী জ্যাক কুর্বি। ২০০২ সালে স্ট্যান লি মারভেল প্যানথিয়নে থরকে নিয়ে হাল্কের উপমার পরিপ্রেক্ষিতে বলেন,

আপনি কিভাবে কাউকে শক্তিমান ব্যক্তি থেকেও শক্তিশালী করতে পারেন। এবং পরিশেষে আমার মাথায় আসলো তাকে মানুষ বানানোর কি দরকার- সে হবে একজন দেবতা। আমি নিশ্চিত ছিলাম যে পাঠকরা ইতিমধ্যে গ্রিক এবং রোমান দেবতাদের সাথে পরিচিত ছিল। এবং প্রাচীন নর্স কিংবদন্তিকে তুলে আনার ব্যাপারটা মজার হতে পারে, তাছাড়া থরকে আমি কল্পনা করছিলাম পুরনো ভাইকিং দের মত করে; বহমান দাড়ি, শৃঙ্গযুক্ত মুকুট এবং যুদ্ধক্লাব বিশিষ্ট নর্স দেবতা; ঠিক এমন একজন জার্নি ইনটু মিস্ট্রির প্রয়োজন ছিল, তাই আমি থরকে বেছে নিয়েছিলাম বইটির শিরোনামের জন্য। মনে উদয় হওয়া চরিত্রগুলো নিয়ে একটি রুপলেখা রচনার পর আমি আমার ভাই ল্যারিকে বললাম একটি লেখাটি সম্পূর্ণ করার জন্য কারন আমার হাতে পর্যাপ্ত সময় ছিলোনা এবং স্বভাবগতভাবেই চিত্রায়নের দায়িত্ব দিয়েছিলাম জ্যাক কুর্বির উপর।

দীর্ঘদিন লেখার দায়িত্ব স্ট্যান লি’র উপর অব্যহত থাকে তবে পরবর্তীকালে ল্যারি লেইবারের পাশাপাশি তার সাথে লেখালেখির দায়িত্বে যুক্ত হোন রবার্ট বার্নস্টেইন (ছদ্মনাম রবার্ট বার্ন)। এছাড়া বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন চিত্রশিল্পী ফিচারটির চিত্রায়নের দায়িত্বে নিয়েছিলেন; জ্যাক কুর্বির সহ জো সিনট, ডন হেক এবং অ্যাল হার্টলে। ১৯৬৩ সালের অক্টোবর মাসে জার্নি ইনটু মিস্ট্রি^৯৭ প্রকাশের সময় এর সাথে ‘ট্যেইলস অফ আসগার্ড’ নামে থরের আলাদা একটি ফিচার প্রকাশ করা হয়। ১৯৬৪ সালের ফেব্রুয়ারী মাসে থেকে প্রকাশিত জার্নি ইনটু মিস্ট্রি^১০১’র অনেকদিন সাথে যুক্তভাবে প্রকাশ হবার পর ১৯৭০ সালের অগাস্ট মাসে সিরিজটির নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় থর^১৭৯। ১৯৬৩ সালের অগাস্ট মাসে স্ট্যান লি এবং কুর্বি ‘দ্যি আভেঞ্জার্স#১’ প্রকাশ করার সময় থরকে এর প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হিসেবে নিয়ে যুক্ত করেন। এর পর থেকে দ্য আভেঞ্জার্স সিরিজের পরবর্তী প্রত্যেকটি বইয়ে থরের এপ্যেয়ারেন্স ছিল। ১৯৭০ সালের সেপ্টেম্বর-অক্টোবরের মাঝামাঝি সময়ে কুর্বি চলে যাওয়ার পর চিত্রায়ণের দায়িত্বে নিয়েছিলেন নিল এডামস এবং তার পরে জন বুসেমা এর নিয়মিত আর্টিস্ট নিযুক্ত হন। কোনরকম বিরাম ছাড়াই ১৯৭৮ সালের ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত চিত্রায়নের দায়িত্ব বুসেমার উপরই ছিল। এছাড়া কুর্বি চলে যাওয়ার পরপরই স্ট্যান লি ও স্ক্রিপ্ট লেখা বন্ধ করে দেন। এবং বুসেমার সময়ে অধিকাংশ ক্ষেত্রে মুল গল্প লেখার দায়িত্বে ছিলেন গ্যারি কনওয়ে, লেন ও্যইন, অথবা রয় থমাস। বুসেমা চলে যাওয়ার পর থমাস দীর্ঘ সময় ধরে কেইথ পোলার্ড নামের চিত্রশিল্পীর সাথে কাজ করেন। সেই সময় নর্স মিথলজির বেশ কিছু অংশ তিনি কমিকের সাথে সংযুক্ত করেন। থমাসের সময় থরের বিভাগটি একটি সৃষ্টিশীল দলে পরিবর্তিত হয়েছিল। ১৯৮৩ সালে ওয়াল্ট সিমনসন লেখার এবং আঁকার দায়িত্বও একাই নিয়ে নেন। তার গল্পে তিনি পৌরাণিক কাহিনীগুলোর উৎসের উপর তিনি বেশি জোর দেন। ১৯৮৬ সালের দিকে চিত্রায়নের দায়িত্ব ছেড়ে দিলেও তিনি লেখা চালিয়ে যান ১৯৮৭ সাল পর্যন্ত। সিমনসনের পরবর্তী গল্পগুলোতে চিত্রায়নের দায়িত্বে ছিলেন সল বুসেমা। বুসেমা বলেন, “সিমনসনের গল্পগুলো ছিল খুবই অনুপ্রেরনীয়। তার কাহিনীগুলো নিয়ে কাজ করা ছিল সৌভাগ্যের ব্যাপার এবং সেগুলো চিত্রের মাধ্যমে প্রকাশ করাটা ছিল অনেক আনন্দদায়ক। তার অনেক ভাল ভাল আইডিয়া ছিল। সে থরকে পরিচালিত করে সম্পূর্ণ নতুন এক লক্ষ্যের দিকে।” সিমনসনের পর ১৯৯৩ সালের তখনকার মারভেলের প্রধান এডিটর টম ডিফাল্কো লেখার দায়িত্ব নেন এবং রন ফ্রেঞ্জকের প্রাথমিকভাবে অংকনের দায়িত্বে নিযুক্ত করেন। এরপর নব্বইয়ের দশকেই বিভিন্ন সুপার হিরোর সমন্বয়ে ‘হিরোস রিবর্ন’ নামে নতুন এক কমিক বের হয়। যা পরিপ্রেক্ষিতে প্রায় এক বছরের জন্য থরের প্রকাশ বন্ধ ছিল। পরবর্তীতে ১৯৯৬ সালের নবেম্বর মাসে প্রকাশিত জার্নি ইনটু মিস্ট্রি^৫০৩-এ থরকে ফিরিয়ে আনা হয় এবং এর পাশাপাশি দ্য লস্ট গড, মাষ্টার অফ কুংফু, ব্লাক উইডো ও হানিবাল কিং এই চারটি ফিচার নিয়মিত ভাবে প্রকাশ করা হয়। চরিত্রগুলোকে মুলধারায় ফিরিয়ে আনার পর ১৯৯৮ সালের জুলাই মাস থর ভলিউমঃ২ প্রকাশিত হয়। প্রথম ৭৯ ইস্যু রচনা করেন ড্যান জারগেন্স এবং ডিসেম্বর ২০০৪ সাল অব্দি বাকিগুলো সমাপ্ত করেন ড্যানিয়েল বারমেন এবং মাইকের এভন অমিং। ২০০৭ সালের জুন মাসে থরের তৃতীয় ভলিউম প্রকাশিত হয়, প্রাথমিক লেখাগুলো ছিল জে. মাইকেল স্ট্রাজিনস্কির এবং চিত্রায়নে ছিলেন অলিভার কপেল। জানুয়ারি ২০০৯ সালে থর^৬০৪ প্রকাশের পূর্বে কাহিনী লেখার দায়িত্ব বর্তায় কেইরন গিলেন এবং চিত্রাঙ্কনে নিযুক্ত হন বিলি ট্যান, রিচার্ড এলসন এবং ডুগি ব্রেফোইট। আসন্ন থর চলচ্চিত্রের সাথে মিল রেখে ২০১০ সালের মাঝামাঝি সময় মারভেল থরের নতুন কিছু সিরিজ চালু করে। থরঃ মাইটি আভেঞ্জার্স রচনা করেন রজার লাংরিজ এবং ক্রিস সাম্নি; থরঃ ফার্স্ট থান্ডার রচনা করেন ব্র্যায়ান জে লে গ্লাস এবং তাং ইং হুয়াত; থরঃ ফর আসগার্ড রচনা করেন রবার্ট রডি, সিমনে বিয়াঞ্চি এবং আইরন ম্যান/থর রচনা করেন ড্যান আবনেট এবং অ্যান্ডি ল্যানিং। এপ্রিল ২০১১ তে থরকে তার পূর্বের শিরোনাম ‘জার্নি ইনটু মিস্ট্রিতে’ ফিরিয়ে নেয়া হয় এবং তাতে লকিকেও নিয়ে আসা হয়। এবং এই সিরিজ চলাকালীন সময়েই ফ্রাকশন এবং কইপেলের দ্য মাইটি থর সিরিজটি চালু করা হয় এবং ২০১২ সালের অক্টোবর মাসে সিরিজটি সমাপ্ত করা হয়। ২০১২ সালের এই অক্টোবর মাস থেকেই থরকে ‘আনক্যানি আভেঞ্জার্সে’ নিয়মিত উপস্থাপন করা হয়।

অ্যাবিলিটিঃ সুপারহিউম্যান স্ট্রেন্থ, স্পিড, ইন্ডিউরেন্স এন্ড লনজেভিটি। ম্যিয়লনিরের ক্ষমতা ডাইমেনশনাল ট্রান্সপোর্টেশন, ইলেকট্রিক ম্যানিপুলেশন ফ্লাইট।

কমেন্ট করুন

What's Your Reaction?

hate hate
0
hate
confused confused
0
confused
fail fail
2
fail
fun fun
0
fun
geeky geeky
0
geeky
love love
0
love
lol lol
0
lol
omg omg
1
omg
win win
0
win

লগইন করুন

আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন।

Don't have an account?
সাইন আপ করুন

পাসওয়ার্ড রিসেট করুন!

পাসওয়ার্ড রিসেট করুন!

সাইন আপ করুন

আমাদের পরিবারের সদস্য হোন।

Choose A Format
Personality quiz
Series of questions that intends to reveal something about the personality
Trivia quiz
Series of questions with right and wrong answers that intends to check knowledge
Poll
Voting to make decisions or determine opinions
Story
Formatted Text with Embeds and Visuals
List
The Classic Internet Listicles
Meme
Upload your own images to make custom memes
Video
Youtube, Vimeo or Vine Embeds
Audio
Soundcloud or Mixcloud Embeds
Image
Photo or GIF
Gif
GIF format