এবার পুরো পৃথিবী বাংলায়

পুরুষের স্পার্ম বা শুক্রাণু নিয়ে ১৪ টি মজার তথ্য

আমরা সবাই জানি পুরুষের স্পার্ম বা শুক্রাণু ছাড়া আরেকটি নতুন প্রাণের সৃষ্টি সম্ভব নয়, কিন্তু বেশিরভাগ সময়েই তাদেরকে তাদের প্রাপ্য কৃতিত্বটা দেয়া হয় না! কারণ সম্ভবত নারীরা তাদের গর্ভে এই প্রাণ ধারণ করেন বলে পুরুষের কৃতিত্বকে আর কেউ মনে রাখে না, তবে সত্যটা হচ্ছে একটি নতুন প্রাণ সঞ্চারের পেছনে পুরুষও সমান কৃতিত্বের দাবিদার। চলুন জেনে নেয়া যাক পুরুষের স্পার্ম বা শুক্রাণু সম্পর্কে মজাদার কিছু তথ্য-

১। উল্টা-পাল্টা খাবার গ্রহণে বীর্যে শুক্রাণুর পরিমাণ কমে।
আপনি যদি আপনার বীর্যে শুক্রাণুর অনুপাতের হার সঠিক রাখতে চান তবে উল্টা-পাল্টা খাবার গ্রহণের পরিমাণ কমাতে হবে। খাবার গ্রহণের সময়টাও ঠিক রাখতে হবে। পনির, অ্যালকোহল, পোড়া মাংস (বেকন) আর ধুমপানের বদাভ্যাস আজই ছাড়া লাগবে।

২। শরীরে অতিরিক্ত মেদ স্পার্মের হার পরিমাণ কমিয়ে দিতে পারে।
যদি আপনি অতিরিক্ত মোটা হন অর্থাৎ আপনার BMI (Body Mass Indax, ওজনের সাথে উচ্চতার অনুপাত) ২৫ এর বেশি হয় তবে আপনার বীর্যে স্পার্মের হার কমতে থাকবে। স্পার্মের নিষেক ক্ষমতাও কমে যেতে পারে।

৩। স্পার্ম ৫ দিন পর্যন্ত বাঁচতে পারে!
নারী যোনি অভ্যন্তরে স্পার্ম সাধারণত ২৪ থেকে ৪৮ ঘন্টা পর্যন্ত কর্মক্ষম থাকে। তবে যোনির অভ্যন্তরীণ পরিবেশের উপর নির্ভর করে স্পার্ম ৫ দিন পর্যন্তও বাঁচতে পারে।

৪। প্রতি ফোঁটা বীর্যে প্রায় ২০০ মিলিয়ন শুক্রাণু থাকে!

৫। স্পার্ম দুই ধরনের হয়ে থাকে।
স্পার্ম সাধারণ দুই ধরণের হয়ে থাকে- মেল এবং ফিমেল। মেল স্পার্ম Y ক্রোমোসোম আর ফিমেল স্পার্ম X ক্রোমোসোম বহন করে থাকে। কোন ধরনের স্পার্ম নিষেক কাজে অংশ নিল তার উপর ভিত্তি করেই নবজাতকের লিঙ্গ নির্ধারিত হয়।

৬। মৃত মানুষের স্পার্মও নিষেক কাজে অংশ নিতে পারে!
ল্যাবটরীতে বিজ্ঞানীরা মৃত মানুষের শুক্রাণু ব্যবহার করেও নারী ডিম্বাণুকে নিষিক্ত করতে সক্ষম হয়েছেন। নতুন একটা প্রাণের জন্ম দিতে কেবল DNA (ডিঅক্সিরাইবোনিউক্লিক অ্যাসিড) এর দরকার হয়।

৭। ওয়্যারলেস টেকনোলজি শুক্রাণু ধ্বংস করে!
ল্যাপটপ এবং ফোন থেকে নির্গত হওয়া রেডিয়েশন, ওয়াই-ফাই কানেকশান ইত্যাদি ওয়্যারলেস টেকনোলজি শুক্রাণু এবং ডিম্বাণু দুটোর জন্যই ক্ষতিকারক!

৮। শুক্রাণুতে ক্যালোরি থাকে!
শুক্রাণুতে সামান্য পরিমাণে ক্যালোরি এবং চর্বি থাকে। এক চা চামচ পরিমাণ বীর্যে প্রায় ২০ ক্যালোরি পরিমাণ শক্তি থাকে।

৯। রূপচর্চায় এর ব্যবহার আছে!
বীর্যে স্পারমিডিন (Spermidine) নামে একটা উপাদান থাকে যা ত্বকের বুড়িয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়াকে ধীর করে দেয়। এছাড়াও এটা রক্তকোষের উন্নতি সাধন করার মাধ্যমে বহিঃত্বকের কোষকে রক্ষা করে।

১০। মাত্র একবারের মিলনে গর্ভধারণের সম্ভাবনা কম।
একবার বীর্যপাতে মাত্র পাঁচ শতাংশ শুক্রাণু থাকে। তাই দম্পতিদের জন্য মাত্র একবার মিলনে গর্ভধারণ করা বেশ কষ্টসাধ্য। অবশ্য গর্ভধারণ অনেকটা শুক্রাণুর গুণগত মানের উপরও নির্ভর করে।

১১। শুক্রাণু নানা আকারের হতে পারে!
আমাদের ধারণা সব শুক্রাণুই দেখতে এক রকম- সামনে একটি ডিম্বাকৃতির মাথা আর পেছনে লম্বা একটি লেজ থাকে। কিন্তু সত্যটা হচ্ছে শুক্রাণু দেখতে ভিন্ন ভিন্ন রকমের হতে পারে। কিছু শুক্রাণুর মাথা ছোট, কোনটার বা দুটো মাথা, কোনটার মাথা মস্ত বড়, কোনটার থাকে কয়েকটা লেজ, আবার কোনটার লেজ ‘ইউ’-র মত বাঁকানো আবার কোনটার লেজ ছিঁড়াও হতে পারে!

১২। শুক্রাণু তৈরি হতে অনেক সময়ের দরকার!
পুরুষের দেহের অভ্যন্তরে শুক্রাণুর জন্ম নেয়া যদিও একটি নিয়মিত এবং স্বাভাবিক ঘটনা, তারপরেও একটি পরিপূর্ণ এবং স্বাস্থ্যবান শুক্রাণু জন্ম নিতে প্রায় দুই মাস সময়ের দরকার হয়!

১৩। নিয়মিত সহবাস বীর্যের গুণগত মান বৃদ্ধি করে!

১৪। সব শুক্রাণু ডিম্বাণুর দিকে ধাবিত হয় না।
নারী দেহের অভ্যন্তরে প্রবেশ করা সব শুক্রাণু সরাসরি ডিম্বাণুর দিকে সাঁতরাতে শুরু করে না। প্রতি পাঁচটি শুক্রাণুর মাঝে কেবল মাত্র একটি সরাসরি ডিম্বাণুর দিকে ধাবিত হয়। বাকিগুলো ভেতরে চক্রাকারে ঘুরতে থাকে।

মন্তব্য
লোডিং...