এবার পুরো পৃথিবী বাংলায়

ইসলামের ইতিহাস নির্ভর ১০ মুভি- দেখতে পারেন আজই!

0 275

- Advertisement -

en.shafaqna.com
en.shafaqna.com

আমরা মুভি বলতে নাচে গানে আর ক্রাইমে ভরপুর এমন কিছু কে বুঝি | কিন্তু সিনেমা যে মানুষের বিশেষ করে মুসলমানদের দৃষ্টিভঙ্গি বদলে দিতে পারে, এসব সিনেমা না দেখলে বুঝা যাবেনা | আজ আপনাদের সেই সব মুভির সাথে পরিচয় করে দিব | অনেকেই আছেন যারা এই ধরনের মুভির ভক্ত | দেখুন তো এসব মুভির মধ্যে আপনি কোনটা মিস করেছেন কিনা!

১। দা ম্যাসেজ –The Message (1976)

ইসলামদের শেষ নবী ও রাসুল মুহাম্মদ (সা:)এর জীবনী নিয়ে এই সিনেমার কাহিনী গঠিত, ইসলাম প্রতিষ্ঠা করতে মুহাম্মদ (সা:) যে কি পরিমান কষ্ট শিকার করেছেন তার কিছু অংশ এখানে উঠে এসেছে | হজরত হামজা (রা:), হজরত ওমর (রা:), হজরত বেলাল (রা:) এর ইসলামের প্রতি ত্যাগ ও এখানে জায়গা পেয়েছে | না দেখে থাকলে এই মুভিটা দেখে নিতে পারেন, হয়ত এই সিনেমাটা আপনার জীবনকে বদলে দিতে পারে |

২। চিলড্রেন অফ হেভেন – Children of Heaven (1997)

ছোট শিশু আলী ঘটনাক্রমে তার ছোট বোনের একটিমাত্র জোড়া জুতার মধে একটা জুতা হারিয়ে ফেলে, এই দিকে তাদের আর্থিক অবস্থা খুব খারাপ, এরকম একটা শিক্ষনীয় কাহিনী নিয়ে মজিদ মাজদির সিনেমা যা আপনার হৃদয় কে নারা দিবেই |

৩।  দা কালার অফ প্যারাডায়েজ – The Color of Paradise (1999)

মুসলিম পরিবারের অন্ধ একজন শিশুকে নিয়ে এই সিনেমার কাহিনী গড়ে উঠেছে | একজন অন্ধের মানবিকতা এবং তার কঠিন পথচলা নিয়ে দা কালার অফ প্যারাডায়েস এর গল্প

৪। মুহাম্মাদ – দা মাসেঞ্জার অফ গড -Muhammad: The Messenger of God(2015)

মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা:)এর শিশুকাল এই সিনেমায় প্রাধান্য পেয়েছে | মজিদ মাজিদির পরিচাননায় এবং এ আর রহমান এর সঙ্গীতায়নে এই সিনেমায় দিয়েছে আরো পূর্ণতা | যদিও এই সিনেমা নিয়ে অনেক বিতর্কিত মতামত আছে |

৫। লায়ন অফ ডেজার্ট – Lion of Desert (1980)

এই সিনেমা লিবিয়ান প্রতিরোধের নেতা ওমর মুখতার কে নিয়ে , যিনি ১৯১১-১৯৩১ থেকে ইতালীর অন্যায়ের বিরুদ্ধে লিবিয়ার প্রতিরোধের নেতৃত্ব দিয়েছেন | একটা  নির্ভুল গল্প ও সিনেমা যা মুসলিম রাজত্বকালে সঞ্চালিত | এই সিনেমার পরিচালক ও দা ম্যাসেজ সিনেমার পরিচালক মুস্তাফা আকন্দ |

- Advertisement -

৬। দ্য কিংডম অব সুলাইমান -The Kingdom of Sulaiman

এ মুভিটি ইরানে নির্মিত। ধর্মীয় ও ঐতিহাসিক কাহিনী নির্ভর এ ট্রলজি মুভির প্রযোজক মজতাবা ফারাভারদেহ ও পরিচালক শাহরিয়ার বাহরানি, যিনি এর আগে বানিয়েছিলেন আরো একটি মুভি সেন্ট মেরি। এ মুভিটি ২০১০ সালের নভেম্বরে আন্তর্জাতিকভাবে মুক্তি পাবার কথা থাকলেও কিছু প্রযুক্তিগত কারণে এর মুক্তির তারিখ পিছিয়ে যায়। এর আগে মুভিটি ইরানে প্রদর্শিত হয়।  সুলাইমান (আ) ছিলেন একজন সম্মানিত নবী এবং তাঁর বাবা, আল্লাহর আরো ১ জন সম্মানিত নবী দাউদ (আ) এর পর তিনিই ছিলেন তাঁর বাবার সিংহাসনের উত্তরাধিকারী। পিতার মৃত্যুর পর সুলাইমান একইসাথে সিংহাসন ও আল্লাহর কাছ থেকে ঐশীবাণী প্রাপ্ত হন। তিনি জিন ও শয়তানকে নিজের বশে রেখেছিলেন, বাতাসকে করতে পারতেন নিজের ইচ্ছার অধীন। তিনি আশেপাশের সব রাজ্যকে একেশ্বরবাদী ধর্মের প্রতি আহবান জানান।

৭। সেন্ট মেরি -Saint Mary

এ মুভিটি ১৯৯৭ সালে মুক্তি পায়, যার পরিচালকও ছিলেন শাহরিয়ার বাহরানি।  মুভির প্রেক্ষাপট খ্রিস্টপূর্ব ১৬ সাল। জেরুজালেমের জনগণ ইমরান নামক এক ধার্মিক ব্যক্তির পুত্র সন্তান জন্মের জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছিলেন। কিন্তু প্রতিক্ষীত “মেসিয়াহ” নয়, ইমরানের স্ত্রীর গর্ভে জন্ম নিলেন এক কন্যা, যার নাম রাখা হয় মেরি বা মরিয়ম (স্রষ্টার আজ্ঞাবাহক)। ৬ বছর বয়সে তাকে উপাসনালয়ে রেখে আসা হয় ও সেখানে তিনি ১৬ বছর পর্যন্ত উপাসনালয়ের দায়িত্বে থাকা যাকারিয়ার তত্ত্বাবধানে থাকেন। নির্জনবাসের সময় তিনি সব সময়ই কাজ ও প্রার্থনায় ব্যস্ত থাকতেন। ইহুদি পুরোহিতরা তাঁকে নিয়ে হাসাহাসি করতো। প্রার্থনার মাধ্যমে তিনি অন্য রকম পবিত্র অবস্থানে পৌঁছে যান। এঞ্জেল গ্যাব্রিয়েল বা ফেরেশতা জিব্রাইল (আ) এসে তাঁকে এ সুখবর দেন যে, তিনি খুব শীঘ্রই গর্ভধারণ করবেন। মরিয়ম হচ্ছেন ইসা (আ) বা খ্রিস্টানদের মতে যিশু খ্রিস্টের মা।

৮। সুলতান মোহাম্মদ আল ফাতিহ/ ফেতিহ ১৪৫৩-Fetih 1453

১৪৫৩ সাল। বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্যের রাজধানী  কনস্টান্টিনোপলের ঘিরে রেখেছে ওসমানীয়রা তুর্কীরা। শহরটি ইতোমধ্যেই সম্রাটের অতিরিক্ত খরুচে জীবন যাপনের জন্য তার গৌরব হারিয়েছে। অন্যদিকে ওসমানীয় সাম্রাজ্য ক্রমাগত হচ্ছিল শক্তিশালী। অনেক দিন অপেক্ষা করার পর, উচ্চাভিলাষী তুর্কী সুলতান মেহমেত বা ২য় মাহমুদ বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্যের বিরুদ্ধে যুদ্ধযাত্রা শুরু করেন, যা পরিণত হয় সেসময়ের সবচেয়ে দীর্ঘ অবরোধ আরোপের ঘটনায়। ২০১২ সালে মুক্তি পায় এই এপিক একশন মুভি। পরিচালক ফারুক একশয়, প্রযোজনায় ছিলেন তিনি নিজে, সেরভেত একশয় ও আইসি গার্মেন।

৯। প্রিন্সেস অব রোম -Princess of Rome

এটি একটি ইরানি এনিমেটেড মুভি। ১২ তম শিয়া ইমাম মুহাম্মদ আল-মাহদির মা মালিকার জীবন এ মুভির মূল চরিত্র যিনি ছিলেন একজন খ্রিস্টান রাজকন্যা ও রোমের কাইজারের নাতনি। ৭৫ মিনিটের এ মুভিতে মালিকার সামারাতে যাওয়ার ঘটনা দেখানো হয়, যেখানে তিনি ১১ তম শিয়া ইমাম হাসান-আল-আশকারিকে বিয়ে করেন ও নতুন নাম নেন নার্গিস খাতুন। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক উৎসবে ছবিটি প্রদর্শিত হয়। ছবিতে চরিত্র আছে ৪০ টি, ১০০ জন দক্ষ ব্যক্তি এর জন্য কাজ করেন। হাদি মোহাম্মাদিয়ান মুভিটির গল্প লিখেন ও পরিচালনা করেন, হামিদ জাফারি ছিলেন প্রযোজক। ছবিটি নির্মাণে ব্যয় হয় ৬ লাখ ডলার।

১০। হি হু সেইড নো -He Who Said No

আহমেদ রেজা দারভিশ পরিচালিত এ মুভিটি একটি ধর্মীয় ইতিহাস নির্ভর চলচ্চিত্র। আশুরার দিন কারবালার ময়দানে সংঘটিত যুদ্ধ এবং ৬৮০ সালে ইয়াজিদ ইবনে মুয়াবিয়াহ আবু সুফিয়ানের বিরুদ্ধে মহানবী (স) এর দৌহিত্র হুসাইন ইবনে আলীর রুঁখে দাঁড়ানোর ঘটনা এ মুভির মূল উপজীব্য। বিগ বাজেটের এ মুভির প্রযোজনা করেছে ইরানি এবং ইরানের বাইরের কিছু মুভি ফার্ম। কারণ মুভিটির পোস্ট প্রডাকশনের কাজ হয়েছে একটা ব্রিটিশ স্টুডিওতে। মুভিটিতে থ্রি ডি ভিত্তিক সিজিআই প্রযুক্তি ব্যবহ্ররত হয়েছে।

লেখক: মামুনুর রশিদ রনি, পেশায় ডিজিটাল মার্কেটিং প্রফেসনাল, একটা মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানি তে “অনলাইন মার্কেটিং ম্যানেজার” হিসেবে কর্মরত আছেন, অনেক বাস্ততার মাঝেও লিখতে ভালবাসেন।

সহলেখকঃ জুলকারনাইন মেহেদী, প্রধান সম্পাদক, বাংলাহাব.নেট

মন্তব্য
লোডিং...