এবার পুরো পৃথিবী বাংলায়

AFTER HUMAN: DEMOLISHERS-পৃথিবীতে মানুষ না থাকলে কি ঘটবে?

কোনো একটি ভিনগ্রহী সভ্যতা জেনে যায় মানুষ নামের এক উন্নত প্রজাতির অস্তিত্ব রয়েছে। তাও এই গ্যালাক্সিতে। কয়েকদিন নজরদারীর পর তারা দেখলো এই প্রজাতিটি প্রচুর এগিয়ে। তারা এমনকি পরমাণু থেকে কি করে শক্তি উৎপাদন করতে হয় তাও জেনে গেছে এবং এই শক্তির ধ্বংসাত্মক ক্ষমতাও অর্জন করেছে যা তাদের পক্ষে হুমকী স্বরূপ। ব্যাস, অমনি তাদের চুলকানি শুরু। তারা ভাবলো যদি এখন হতে কোনো ব্যবস্থা না নেয়া হয় তবে এই প্রজাতিটি তাদের জন্য এক বিরাট প্রতিপক্ষ হতে পারে। ফলে একটাই উপায়, সময় থাকতে এই প্রজাতিটিকে নিঃচিহ্ন করে ফেলতে হবে।  তারা এমনি করে আসছে, যেসব উন্নত প্রজাতি বিকশিত হচ্ছে তাদের একে একে ধ্বংস করে দেয়। এজন্য পুরো মহাবিশ্বে সকলে তাদের এক নামে চেনে, ডেমোলিশার্স।  তাদের সমকক্ষ এখনো কেউ হতে পারেনি।

ফলে তারা বায়্যোওয়েপন তৈরি করলো এবং তা সমগ্র মানুষের মাঝে ছড়িয়ে দিল। তাও ডেমোলিশার্স স্টাইলে।
সঙ্গে সঙ্গে মানুষ ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হলো এবং মৃত্যুবরণ করলো।

কিন্তু কি করে?

তারা অসংখ্য ভাইরাসবাহী ক্যাপসুল তৈরি করে যেগুলো আপাতদৃষ্টিতে দেখে মনে হতে পারে ছোট ছোট উল্কা। তারপর এগুলো পৃথিবীর সাথে সংঘর্ষ ঘটায়। সংঘর্ষের স্থান হতে দ্রুত বেগে ভাইরাস সবখানে ছড়িয়ে পড়ে।

কয়েক সেকেন্ড পর, পুরো পৃথিবীর যাবতীয় গাড়ি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একে অপরের সাথে সংঘর্ষ ঘটতে লাগলো। পুরো রাস্তা জুড়ে সংঘর্ষ, বিষ্ফোরণ, গাড়ির ধ্বংসাবশেষ এসবে ভর্তি। পাশের পেট্রোল স্টেশনে পেট্রোল ভরারত অবস্থায় দাড়িয়ে গাড়িগুলোর পেট্রোল ভর্তি হয়ে গড়িয়ে পড়তে লাগলো। আশেপাশে কোথাও আগুন জ্বলছিল দাহ্য বস্তুর স্বংস্পর্শে এসে আগুন ধরে গেল। বিরাট বিষ্ফোরণ। আকাশে উড়ন্ত বিমান, হেলিকপ্টারগুলো একে একে নিয়ন্ত্রণ হারাতে লাগলো এবং মহাকর্ষ বল বাকি কাজটা সারলো।

পুরো পৃথিবী জ্বলছে। যেন এক বিশাল দাবানল। যদি মানুষ থাকতো তবে ডিসকভারির “ডেস্ট্রয়ড ইন সেকেন্ডস” প্রোগ্রামটি বিশ্বের এক নম্বর প্রোগ্রাম হতো।

১০ মিনিট পর…

পুরো পৃথিবী এখনো চলছে। সকল কম্পিউটার এখনো চালু। স্যাটেলাইট এখনো পৃথিবীবাসীর সাথে যোগাযোগ রাখছে। কিন্তু কিছুক্ষণ পর বিদ্যুৎ চলে যায়। সমস্ত কম্পিউটার সিস্টেম অফ হয়ে যায়। নিউইয়র্ক, সাংহাই, দুবাই এর মতো বড় বড় শহরগুলি বিদ্যুতের অভাবে অচল হয়ে পড়ে। । স্কুল, কলেজ, ঘর, হাসপাতাল বিদ্যুৎ বিহীন হয়ে পড়ে।

অজস্র মহাশুন্যযান, যেগুলো সৌরজগতে ঘুরাঘুরি করছে সেগুলোও যোগাযোগের অভাবে নিঃসঙ্গ হয়ে পড়ে। কি হবে, মহাকাশে নিঃসঙ্গ পথচারীর ন্যায় ঘুরাফেরা করবে।

৫৫ মিনিট পর…

কিছু এলাকায় এখনো বিদ্যুৎ আছে। ঐ যে বায়ুচালিত বিদ্যুৎ ব্যাবস্থা। যেমন যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভেনিয়া। আর সবচেয়ে মজার বিষয় এটার নিয়ন্ত্রন সম্পূর্ণ কম্পিউটার ভিত্তিক। কিন্তু হঠাৎ কম্পিউটারে কিছু ত্রুটি ধরা পড়লো এবং পুরো সিস্টেম বন্ধ হয়ে গেল। আর, কোনো মানুষতো বেঁচে নেয় যে ত্রুটি সারিয়ে সিস্টেমটি পুনরায় চালু করবে।

৬ ঘণ্টা পর…

এখন হবে রাসায়নিক বিপর্যয়। পুরো পৃথিবীর যাবতীয় রাসায়নিক প্ল্যান্টগুলোতে বিদ্যুৎ লাগে, যাতে গ্যাস তরল অবস্থায় থাকে। কিন্তু বিদ্যুৎ চলে যাবার পর বাতাসে গ্যাস ছড়িয়ে পড়ে এবং এর বিষক্রিয়ায় অসংখ্য প্রাণীর মৃত্যু ঘটে।

১-২ দিন পর,
সারা পৃথিবীর বাড়িতে বিভিন্ন প্রকারের গৃহপালিত পশু আছে। কিন্তু মানুষ না থাকায় তাদের খাওয়ানোর কেউ নেই। হয়তোবা তারা এদিক সেদিক ছুটাছুটি করবে খাবারের খোঁজে কিন্তু যাদের গলায় চেইন বাঁধা তারা কি করবে? চাড়িয়াখানার প্রাণীরাও কি করবে? তারাতো খাদ্যের অভাবে মারা পড়বে।

পুরো পৃথিবীর দাবানল এখনো নেভেনি। কারণ নেভানোর জন্যে কেউ নেই। সকল দমকল কর্মীতো মারা গেছে।

৩-৫ দিন পর,
লন্ডনের বিখ্যাত বিগ বেন ঘড়ি তার শেষ ঘন্টা বাজাবে।

জন্তুরা এদিক সেদিক খাবারের খোঁজ করবে। দুর্বল গৃহপালিত পশু যেমন বিড়াল যারা ঘরে স্পেশাল ফুড খেতো তারা আজ অন্যের স্পেশাল ফুড হবে।

সারা পৃথিবীর অজস্র খামারে খাদ্যের যোগান বন্ধ। পানিও শেষ হয়ে আসছে। কিছু জাঁদরালে টাইপ প্রাণী নিশ্চয় সামনে যা পায় তা ভেঙ্গে দৌড় মারবে কিন্তু ভদ্র সিধা প্রাণীগুলো কি করবে। তারা তো সেখানেই বসে ঘাস তুলবে।

৫-১০ দিন পর,
গৃহপালিত কুকুরগুলো অবশিষ্ট খাদ্য শেষ করে ফেলবে। এবার তাদের খাদ্যের জন্য পাড়ার লোকাল বদমাশ কুত্তাগুলো সাথে ঝামেলা লাগবে। হয়তো বা তাদের মধ্যে কিছু ছোট ছোট কুকুর অন্যের খাদ্য হবে।

সকল নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট বন্ধ হয়ে যাবে এবং সকল রেডিওএক্ট্যিভ মাল বায়ুমন্ডলে ছড়িয়ে পড়বে। ফলে রেডিওএক্ট্যিভ বৃষ্টি হবে যার তেজস্ক্রিয়ার প্রভাবে  আশেপাশের সবকিছু মারা পড়বে।

১০ দিন থেকে ১ মাস পর,
লোকাল বদমাশ কুত্তাগুলো এবার খাদ্য পরিবর্তন করে মৃত্যু খামারপশুগুলোর দিকে নজর দিবে। খামারমুরগিগুলো শিকারে পরিণত হবে।
তবে কিন্তু মানুষের অনুপস্থিতি ইঁদুরের জন্য লাভদায়ক হবে। তাদের আশ্রয়স্থল এখন শহরের বড় বড় সুপার মার্কেট। তারা সেখানে খাবে আর বংশবৃদ্ধি ঘটাবে। ফলে ইঁদুরের জনবিষ্ফোরণ ঘটবে। এমন অবস্থা কয়েক মাস চলবে যতদিননা শহরে বিড়ালের প্রভাব বাড়বে।

৩ মাস পর,
বায়ুমন্ডলে তেজস্ক্রিয়তার প্রভাব কমতে থাকবে। আবহাওয়ার এখন ধীরে ধীরে উন্নতি হবে।
বদমাশ কুত্তাগুলো এবার একটু বেশি করে ফেলবে। তারা এবার চিড়িখানা থেকে পালিয়ে আসা জন্তুদের শিকার করতে বসবে। কিন্তু তারা এতটাও সফল হবেনা। কারণ তাদের বড় শিকারি হচ্ছে মানুষ। সেখানে লোকাল কুত্তাগুলো মোটেও পাত্তা পাবেনা।
শহুরে সুপার মার্কেটগুলো বিড়ালদের স্বর্গরাজ্যে পরিণত হবে কারণ সেখানে খাবারের কোনো অভাব নেই। না না ঐসব খাবারের কথা বলছি না, সুপার মার্কেটের জনবিষ্ফোরিত ইঁদুরের কথা বলছি। এবার ইঁদুরগুলো গণহারে শিকার হবে।

৬মাস পর,
উত্তর গোলার্ধে শীতের শুরু হবে। সেখানে থাকা প্রাণীগুলোর বাঁচতে হলে দক্ষিণে মাইগ্রেট করতে হবে। কিন্তু তেলাপোকা হয়তো এই অবস্থায় টিকতে পারবে না। কারণ মানুষ নেই, কৃত্রিম তাপেরও কোনো ব্যাবস্থা নেই। ফলে অজস্র তেলাপোকা গণহারে তেলাপোকার ন্যায় মরবে।
এই দিনটিরই অপেক্ষায় ছিলাম। সারাজীবন জ্বালাতন করছছ, এবার লও ঠেলা।

ফা* ইউ!

যারা দক্ষিণে মাইগ্রেট করছে তাদের একমাত্র আশ্রয় হবে শহুরে ঘর। ফলে সেগুন কাঠের দামী দামী ফার্ণিচারগুলো ব্যাপক ক্ষতিসাধন হবে।

১০-১২ মাস পর,
বসন্তকালীন বৃষ্টি এবার দেখাবে তার আসল খেল। সকল রেডিওএক্ট্যিভ মাল ধুয়ে পরিষ্কার করে নিয়ে যাবে। প্রকৃতি আবার তার আসল রূপে ফিরতে শুরু করছে। নতুন গাছপালা জন্মানোর সুযোগ পাচ্ছে।

এবার হবে প্রকৃতির আসল লীলা। সদ্য জন্মানো উদ্ভিদ গুলো বায়ুমন্ডল হতে এত দ্রুত কার্বন-ডাই-অক্সাইড শোষণ করবে যা আগে আর কখনো ঘটে নি। পুরো পৃথিবীর গ্রীন হাউজ গ্যাসের পরিমাণ কমতে শুরু করবে। মানুষ যেই পরিমাণে প্রকৃতিকে ধ্বংস করছিল প্রকৃতি এবার পূর্ণ শক্তিতে সেগুলো ঠিক করবে।
মানুষের কুকর্ম এবার প্রকৃতি সাফ করে ফেলে।
মানুষের আবাস্থলে এবার মসের রাজত্ব  বাড়বে।

৩-১৫ বছর পর,
দেখাশুনার অভাবে রাস্তা ভাঙতে শুরু করবে। জায়গায় জায়গায় ফাটল দেখা দিবে। রাস্তায় মসের আস্তরণ দেখা দিবে ও ফাটল হতে বিভিন্ন ক্ষুদ্র উদ্ভিদ জন্ম নিবে। বাড়ির সুন্দর লন যেটার পেছনে অজস্র টাকা ঢালছেন সেখানে জন্ম নিবে বিভিন্ন আবাঞ্চিত আগাছা। কোটি কোটি গাড়ীতে মরিচা পড়বে।

৩০ বছর পর,
সৌরঝড় ও ব্যাটারী নষ্ট হয়ে যাওয়ায় স্যাটেলাইটগুলো এবার কক্ষপথ হতে  ছিটকে পড়বে।
মানুষের বড় বড় স্থাপনা গগনচুম্বী অট্টালিকা এখন গাছপালার দখলে। বিভিন্ন প্রাকৃতিক দূর্যোগের ফলে অট্টালিকাও ভাঙতে শুরু করবে।

৬০ বছর পর,
কুকুরের বিভিন্ন প্রজাতি বিলুপ্ত হয়ে যায়। শহরে এখন নেকড়ের প্রভাব বাড়ে। তারা এখন কুকুরের সাথে শিকারে প্রতিযোগীতায় নামবে।

১৫০ বছর পর,
তাপমাত্রা অস্বাভাবিক হারে কমে যায়। উত্তরের শহরগুলি এখন বরফের নিচে সমাধিস্থ। লন্ডন এখন জলাভূমিতে রূপান্তরিত। তবে বিগ বেন ঘড়ি এখনও দাড়িয়ে। ক্যালিফোর্নিয়া এখন শুকনো। সকল পুল, জলধারা শুকিয়ে গেছে।

৫০০ বছর পর,
প্রত্যেক শহর জঙ্গলে পরিণত হয়।

১০০০ বছর পর,
আইফেল টাওয়ারের চারটি পা ভেঙ্গে গেছে এবং এটি সোজা এসে মাটিতে পড়লো। স্ট্যাচু অব লিবার্টি এখন মাটিতে সমাধিস্থ। তবে তার নিচের কংক্রিটের অংশ এখনও অক্ষত। এটি আরো কয়েক হাজার বছর টিকবে।

২৫০০০ বছর পর,
পৃথিবীতে নতুন করে তুষারযুগ শুরু হয়। হিমবাহ উত্তর হতে দক্ষিণ দিক প্রায় আবৃত করে ফেলে। নিউ ইয়র্ক সিটির অস্তিত্ব পুরোপুরি মিশে যায়। মানব প্রজাতির কোনো চিহ্ন নেই। তবে তাই বলে ইতিহাস থেকে পুরোপুরি মিশে গেছে তা নয়। মানুষের বিভিন্ন পাথরের নির্মাণ শিল্প যেমন পিরামিড ইত্যাদি টিকে যাবে। এছাড়াও মানুষের প্রমাণ চাঁদের মধ্যেও রয়েছে।

ডেমোলিশার্সদের কাজ শেষ। তারা তাদের লক্ষ্যে সফল। কিন্তু কোথাও কি একটা রহস্য রয়ে গেছে?

মহাজাগতিক কিউরেটর। প্রথমে যদিও বা তারা পিঁপড়া তুলে নিয়ে যায় তবে মহাজাগতি কাউন্সিলের চাপে তাদের আবার মানুষ নিয়ে যেতে হয়।
ডেমোলিশার্সদের কর্মকান্ড সম্পর্কেও তারা অবগত। ফলে তারা ক্লোনিং এর মাধ্যমে কিছু মানব প্রজাতি পৃথিবীতে রেখে আসে। এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা…

সূত্র:
https://en.m.wikipedia.org/wiki/Aftermath:_Population_Zero

 

মন্তব্য
লোডিং...