এবার পুরো পৃথিবী বাংলায়

উজ্জ্বল প্রাণবন্ত রূপের রহস্য, জেনে নিন এখনই!

সবাই চটজলদি ঈর্ষণীয় সুন্দর হতে চায়। কারণ রূপচর্চায় ব্যয় করার মত সময় এবং ধৈর্য্য আজকাল কারোরই নেই। এবং অনেকেই শুধু ফেসিয়ালের উপরই নির্ভর করে। তবে বয়স ত্রিশের পরে নিয়মিত ফেসিয়াল করা যেতে পারে কিন্তু এর আগে বিশেষ উপলক্ষ ছাড়া ফেসিয়ালের উপর নির্ভর না করাই ভালো। নিয়মিত ম্যাসেজ করা যেতে পারে আর অল্প সময় নিয়ে ঘরোয়া কিছু উপাদান দিয়েই রুপচর্চা করলে ন্যাচারালি ত্বক সুন্দর হয়।জেনে নিন সৌন্দর্য্যের চাবিকাঠি।
রূপচর্চায় লেবু:
লেবু সর্ব গুণে গুণান্বিত। সৌন্দর্যচর্চায় এর রয়েছে বহুমুখী ব্যবহার। লেবুতে প্রচুর সাইট্রিক এসিড রয়েছে। এটি শরীরের যে কোন কালচে দাগ,ব্রন, মেছতার দাগ দূর করে ত্বকের স্বাভাবিক দীপ্তি ও উজ্জ্বলতা ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করে। এটি বডি থেরাপির জন্য সপ্তাহে একদিন লেবুর রস সারা শরীরে ম্যাসেজ করতে পারেন। সেনসেটিভ ত্বকের জন্য একটু পানি মিশিয়ে নিন। কয়েকদিনেই ত্বকের কালচে দাগ দূর হবে। লেবু, শসা এবং একটু মধু মিশিয়ে পরিষ্কার ত্বকে লাগাতে পারেন। দেখবেন ত্বকে অন্যরকম একটি গ্লেস চলে আসছে, উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি পেয়েছে। লেবুর রস, পরিষ্কার বেসন এবং একটু হলুদ গুড়ো মিশিয়ে সারা শরীরে ম্যাসেজ করে গোসল করে নিতে পারেন ত্বক পরিষ্কার হবে। এছাড়া কাজের শেষে হাত ও নখের কালচে দাগ বা পেয়াজের গন্ধ দূর করতে লেবু ঘষে নিন দাগ ও গন্ধ চলে যাবে। আবার, একটি আস্ত লেব অর্ধেক কেটে উপরে চিনি ছিটিয়ে ত্বকে ভালোভাবে পাঁচমিনিট ঘষে নিন এতে ত্বকের মৃতকোষ দূর করার পাশাপাশি ত্বক মসৃণ করে তুলবে।তাছাড়া প্রতিদিন লেবু খেলে ভিটামিন সি এর অভাব পূরণ করে যেটা খুবই দরকার শরীরের জন্য।বাড়তি মেদ কমাতে এবং ভেতর থেকে ত্বক সুন্দর রাখতে সকালে খালি পেটে উষ্ণ গরম পানিতে লেবুর রস খেলে ভালো কাজ হবে।
রূপচর্চায় এ্যালোভেরা:
এ্যালোভেরা আরেকটি যাদুকরী উপাদান। ত্বককে ঈর্ষণীয়ভাবে আকর্ষনীয় করে তুলতে এর জুড়ি নেই। ভেতরের জেলটি বের করে একটু লেবুর রস মিশিয়ে জেলটি থেতো করে একটু পানি মিশিয়ে আইস বক্সে করে ফ্রীজের ডিপে রেখে দিন। বাইরে থেকে ফিরে মুখ পরিষ্কার করে আইস কিইবটি ত্বকে আস্তে আস্তে ঘষুন। এতে রোদে পোড়া দাগ তুলতে সাহায্য করবে এবং ত্বকের যেকোন কালচে দাগ রুক্ষতা দূর করে ত্বক সুন্দর রাখে। শসার রস, লেবু রস এ্যালোভেরা জেল মিশিয়ে পরিষ্কার ত্বকে ম্যাসেজ করে দশ মিনিট পরে ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন তারপর আয়নায় দেখুন কতটা পরিষ্কার, উজ্জ্বল লাগছে। নিয়মিত ব্যবহার করলে ত্বক সুন্দর করে তোলে। এমনিতেও এর জেলটি নিয়মিত ত্বকে ঘষলে ত্বক উজ্জ্বল মসৃণ হয়।
এই জেলটির সাথে একটু চিনি এবং পানি মিশিয়ে রোজ খেলে ভেতর থেকে, ন্যাচারেলি ত্বক সুন্দর হবে তো বটেই এবং শরীরের যে কোন ব্যাথা, দুর্বলতা দূর করে।
রূপচর্চায় চিরতা:
রূপচর্চায় তেমন ব্যবহার হয়না তবে চিরতার গুন সম্পর্কে অতি প্রাচীন কাল থেকেই এর ব্যবহার প্রসিদ্ধ । চিরতা ভেজানো পানি দিয়ে নিয়মিত মুখ ধুলে ব্রন , এ্যালার্জি দূর হয়, ব্রনের দাগ ও ত্বকের যেকোন দাগ, ফুসকুড়ি, ত্বকের লালচে দাগ, মেছতা কমাতেও সাহায্য করে।
রোজ রাতে পরিষ্কার পাত্রে চিরতা ভিজিয়ে রাখুন। এই পানি সরাসরি মুখ ও ত্বকে ব্যবহার করতে পারেন।আপনি গোসলের পানিতেও এটি মিশিয়ে গোসল করতে পারেন নিয়মিত। ভালো ফল পাবেন।
রোজ সকালে খালি পেটে চিরতা ভেজানো পানি পান করলে ত্বক তো সুন্দর হবেই এবং শরীরের টক্সিন বের করে দেয়, ম্যালেরিয়া সারাতে, ক্যানসারের ঝুকি কমায়, পাইল্স , ডায়বেটিস , রক্তচাপ ইত্যাদি নিয়ন্ত্রনে রাখতেও সাহায্য করে।
এছাড়াও সৌন্দর্যের ক্ষেত্রে অনেক সাধারণ বিষয়ও অসাধারণ ভূমিকা পালন করে। এজন্য কিছু বদ অভ্যাস পাল্টে ফেলতে হবে, কিছু নিয়ম শৃঙ্খলা মেনে চলতে হবে খাবারে ব্যাপারে। যে বিষয়গুলো খুবই জরুরী।
যেমন,
পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা:
সবসময় নিজেকে পরিচ্ছন্ন রাখা উচিৎ। বাইরে থেকে ফিরেই সুন্দরভাবে হাত, মুখ, পা ধুয়ে ফেলে বাইরের কাপড়টা ছেড়ে ফেলা উচিৎ। ঘুমানোর আগে ভালোভাবে মেকআপ তুলে সুন্দরভাবে ত্বক পরিষ্কার করে একটি ময়েশ্চারাইজার ক্রিম বা ভালো ব্র্যান্ডের নাইটক্রিম লাগিয়ে ঘুমানো উচিৎ।
তাছাড়া প্রতি ঘন্টায় মুখে ঠান্ডা পানির ঝাপটা দেয়া উচিৎ তাতে ত্বকে ময়লা জমতে পারে না এবং এই গরমে একটা ঠান্ডা ভাব এনে দেবে ত্বকে। মাথার ত্বকেও ময়লা বা খুসকি জমতে দেয়া উচিৎ না কারণ এ থেকেও ত্বকে ব্রণের সমস্যা হয়।
পর্যাপ্ত পানি পান:
প্রতিদিন আট থেকে দশ গ্লাস পানি পান করা উচিৎ। পানি শরীরের বর্জ্য পদার্থ বের করে দেয়,কোষ্ঠ্যকাঠিণ্যতা দূর করে ফলে ত্বক স্বচ্ছ ও সুন্দর থাকে। তবে ঋতুভেদে বা কার্জ ক্ষমতা ভেদে পানির চাহিদাও বেশী কম হতে পারে।
পরিষ্কার মুক্ত বাতাস:
প্রতিদিন কিছু সময় মুক্ত পরিবেশে বা খোলা হাওয়ায় ঘুরে বেড়ানো বা হাঁটা শরীর এবং মন দুটোর জন্যই ভালো। যেটার প্রভাব ত্বকের উপরেও পড়ে।
পর্যাপ্ত এবং নিয়মমাফিক ঘুম:
প্রতিদিন সাত/আট ঘন্টা ঘুম দরকার। কম করে হলেও ছয় ঘন্টা তো ঘুমোতেই হয় নয়তো শরীর খারাপ হবে। আর ত্বকও নির্জীব ঘোলাটে হয়ে যাবে।
মনের পরিচর্যা:
মনেরও পরিচর্যার প্রয়োজন। কারণ মনের প্রভাব অবিশ্বাস্যভাবে ত্বক, মুখশ্রীর উপরে পড়বেই। সব পরিবেশ ও পরিস্থিতির সাথে নিজেকে মানিয়ে চলার চেষ্টা করুন। জীবনকে ইতিবাচক দিক থেকে ভাবুন। হীনমন্যতা বর্জন করুন। মনকে প্রফুল্ল রাখুন এবং প্রাণ খুলে হাসুন।
মনে কখনও ঈর্ষাকে স্থান দেবেন না মানুষের প্রতি বা মানুষের জন্য ভালোবাসাকে স্থান দিন। দেখবেন আপনার নিজের কাছেই নিজেকে সুন্দর লাগছে আর বাকীরা তো পাগল হতে বাধ্য….।
সবার জন্য রইলো শুভকামনা!
লেখিকাঃ মির্জা তানিয়া
মন্তব্য
লোডিং...