এবার পুরো পৃথিবী বাংলায়

বিগব্যাঙ ও তার কিছু সত্য!

183

- Advertisement -

বিংশ শতাব্দি হতে বর্তমানের সবচেয়ে আলোচ্য বিষয় হচ্ছে বিগব্যাং বা মহাবিষ্ফোরণ। শুধু আলোচ্য বিষয় না প্রচুর তর্ক বিতর্কের জন্ম দেয় এই তত্ত্ব। আর সবচেয়ে মজার বিষয় এই মহাবিষ্ফোরণ সম্পর্কে যাদের জ্ঞান ক অক্ষর গোমাংস, তাদেরও আলোচনার বিষয় বিগব্যাং। যদিও বা তারা রহস্য উন্মোচনের চেয়ে এর বিরোধে গাইতে বেশি পছন্দ করে। কথা না বাড়িয়ে জেনে নেয়া যাক মহাবিষ্ফোরণ সংঘটিত হওয়ার কিছু উপযুক্ত প্রমাণ:

মহাবিশ্ব ক্রমশ সম্প্রসারণমান

১. প্রসারমাণ মহাবিশ্ব:

আমরা সকলে কমবেশী জানি নিশ্চয় বিজ্ঞানী এডুইন হাবল সর্বপ্রথম টেলিস্কপের মাধ্যমে পর্যবেক্ষণ করে বলেন ছায়াপথগুলো একে অপরের হতে দূরে সরে যাচ্ছে। আর এদের কিছুরও গতি সেকেন্ডে হাজার কিলোমিটারও ছাড়াতে পারে। আর ছায়াপথের এই সরে যাওয়া দেখে এটাই বুঝা যায় মহাবিশ্ব প্রসারিত হচ্ছে। আর যেহেতু এটি প্রসারমাণ তাহলে অতীতে নিশ্চয় এটি সংকুচিত ছিল। আর ভাবুন এমন একটা মুহূর্ত যখন পুরো মহাবিশ্বটাই একটা বিন্দুতে আবদ্ধ ছিল পরে কোনো একটা বিষ্ফোরণের ফলে এগুলো বাইরের দিকে প্রসার ঘটতে থাকে। এটাই হচ্ছে মহাবিষ্ফোরণ।

লাল আলোর তরঙ্গ দৈর্ঘ্য বেশী ফলে দূরের ছায়াপথগুলিরও লাল আলো দেখা যায়

২. দূরবর্তী ছায়াপথগুলির লাল আলো:

ধরুণ আপনি রাস্তায় দাড়িয়ে। ঠিক তখনি পাড়ার একটা ছোকরা তার বাইকের হর্ন বাজিয়ে আপনার পাশ দিয়ে চলে গেল। আপনি কি প্রত্যক্ষ করলেন?
বাইকের হর্ন এর আওয়াজ তীব্র হতে কমতে কমতে একপর্যায়ে ক্ষীণ হয়ে গেল।
ঠিক এমনি কান্ড ঘটে আমাদের ছায়াপথের সাথে। যখন সে পাড়ার ছোকরার মতো আমাদের হতে দূরে সরে যেতে থাকে তখন তার আলোর তরঙ্গের বেশি দুরত্ব অতিক্রম করতে হয়। ফলে যার তরঙ্গ দৈর্ঘ্য বেশী সেই আলোই সুযোগ পাই। আর আমরা জানি লাল আলোর তরঙ্গ দৈর্ঘ্য বেশী শক্তি কম ফলে দূরের ছায়াপথগুলিরও লাল আলো দেখা যায় যেহেতু বেশি দুরত্বের ব্যাপার।

মহাবিশ্বে এমন অসংখ্য আলো আছে যা আমরা খালি চোখে দেখতে পাই না

- Advertisement -

৩. মহাবিষ্ফোরণের পরবর্তী আলো:

মহাবিষ্ফোরণ ঘটে। পুরো মহাবিশ্ব আলোকিত হয়ে যায়। কিন্তু মহাবিশ্ব প্রসারণের সাথে আলোও প্রসারিত হয়ে মাইক্রোওয়েবে পরিণত হয়। কিন্তু এই আলো আমাদের পক্ষে দেখা অসম্ভব। কারণ আমাদের চোখ বিবর্তিত হয়েছে ১০^-৭ মি. তরঙ্গ দৈর্ঘ্য বা বেগুনী হতে লাল আলো দেখার জন্য। এই মহাবিশ্বে এমন অসংখ্য আলো আছে যেমন রেডিও, ইনফ্রারেড, গামা, বেতার, অতিবেগুনী আর মাইক্রোওয়েভ যা আমরা খালি চোখে দেখতে পাই না। এর জন্য যন্ত্রের চোখ প্রয়োজন। এই ক্ষেত্রে মাইক্রোওয়েব টেলিস্কোপ কার্যকর।
মাইক্রোওয়েব টেলিস্কোপ একেবারে মহাবিশ্বের শুরুর দিককার আলো দেখতে পাই। সাধারণ টেলিস্কোপ শুধুমাত্র নির্দিষ্ট কোনো কিছুর আলো দেখতে পারে কিন্তু মাইক্রোওয়েব টেলিস্কোপ দেখতে পাই মহাবিশ্বের শুরুর আলো। একে বলে “কসমিক মাইক্রোওয়েব ব্যাকগ্রাউন্ড”। ফলে এটিও মহাবিষ্ফোরণের বড় একটা প্রমাণ।

সৃষ্টির শুরুতে মহাবিশ্ব ছিল গ্যাসের তৈরি

৪. মহাবিশ্বের শুরুর দিককার গ্যাসের মেঘ:

মহাকাশে তাকানোর মানে হচ্ছে অতীতের দিকে তাকানো। কারণ হচ্ছে আলোর গতি। কোনো বস্তু যদি মিলিয়ন আলোকবর্ষ দূরে থাকে তবে সেখান হতে আলো আসতে সময় লাগে মিলিয়ন বছর। ফলে আমরা সেটির মিলিয়ন বছরের পূর্বরূপ দেখবো।
আমাদের বর্তমান আধুনিক টেলিস্কোপ বিলিয়ন আলোকবর্ষের দূরের জিনিস দেখতে সম্ভব।
মহাবিষ্ফোরণের পরপরই আমরা কি আশা করবো। হয়তো এমন একটি অবস্থা যখন কোনো নক্ষত্র বা ছায়াপথ তৈরি হয় নি। পুরো মহাবিশ্বে গ্যাসীয় মেঘের আস্তরণে আবদ্ধ।

মহাবিশ্বের বিবর্তিন

২০১২ সালে কোয়াসারের নিকট ১৩ বিলিয়ন আলোকবর্ষ দূরে গ্যাসের মেঘের সন্ধান পাওয়া যায়। আর এত সুবিশাল দূরত্ব থাকা সত্ত্বেও আমরা আজ জানতে পারি এগুলো কি দিয়ে তৈরি। এই পদ্ধতিটির নাম স্পেক্টোসক্রপি যাতে আগত আলো বিশ্লেষণ করা যায়। এই পদ্ধতিটির মাধ্যমে জানা গেছে এগুলোও তৈরি হাইড্রোজেন ও হিলিয়াম দ্বারা যেটা কোনো নক্ষত্রের কেন্দ্রে থাকে।

মহাবিষ্ফোরণ হচ্ছে সম্পূর্ণ বাস্তবিক একটা তত্ত্ব। এতে কোনো সন্দেহ নেই আমাদের শুরু একটা মহাজাতিক স্বপ্নের ন্যায় মহাজাগতিক বিশৃঙ্খলের ফল।

মন্তব্য
লোডিং...