এবার পুরো পৃথিবী বাংলায়

বুক রিভিউ: মনোজদের অদ্ভুত বাড়ি

635

- Advertisement -

বইয়ের নামঃ মনোজদের অদ্ভুত বাড়ি 
লেখকঃ শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
পৃষ্ঠাঃ ১৫৮
প্রকাশকালঃ ১৯৭৮
ক্যাটাগরিঃরহস্য,থ্রিলার,অ্যাডভেঞ্চার,হাস্যরস।
প্রকাশনীঃআনন্দ পাবলিশার্স

- Advertisement -

মনোজদের বাড়ি থুড়ি বাড়ির বাসিন্দারা বড়ই অদ্ভুত। “হারিকেনটাকে সকাল থেকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছেনা “। ভুল করছেন,এই হারিকেন কোন বাতি কিংবা ঝড় না। হারিকেন আসলে একটা গরু । আর গরুর নাম হারিকেন যে পরিবারটি রাখতে পারে, সেই পরিবারটি যে অদ্ভুত হবে তাতে আর কোন সন্দেহ নেই।

এ বাড়িতে রয়েছেন বুড়ো বয়সেও গুলতি ছুঁড়ে বেল পারতে পারা“সবার ঠাকুরঝি” ; আছাড় খাওয়া যার নেশা। রয়েছেন উবু হয়ে বসতে না পারলে যিনি পড়াতেই পারেননা “দুঃখহরণবাবু “।আরো আছেন গানের মাস্টার “গণেশ ঘোষাল ” যিনি আবার একটু তাল-লয় এদিক ওদিক হলে গলায় দড়ি দিতে যান।

মনোজদের বাড়িতে আদ্যিকাল থেকে পড়ে আছে এক ফটো,তবে কেউ জানেনা ফটোর ছেলেটি কে! অন্যদিকে আছে ডাকাত দলের মেজো সর্দার যার ডাকাতিতে মন নেই। মনোজদের বাড়ির এইসব আজগুবি ঘটনার পাশাপাশি আছে অনেক রহস্য । গোয়েন্দা বরদাচরণ বাড়ির পাশে ঘুরঘুর করছে কেন? কথা বলতে পারা কাকটা আসলেই কি কাক? ছবির মিষ্টি চেহারার ছেলেটা তবে কে? কিরমিরিয়া কেন বিলাপ করে? ছাত্রদের উঠবস করিয়ে কী আনন্দ পান গোলকবিহারী?হারিকেন এখন কোথায়? হারিকেন আজ এত্ত এত্ত দুধ দিল কিভাবে!? বাগান থেকে কী তুলছে রামু? রাজবাড়ি তবে কি শেষমেশ লুট হবে? কৃপণ গোবিন্দ কি ভুলতে পারবে গাওয়া ঘিয়ের শোক? রানীমা কি ফিরে পাবেন তার হারিয়ে যাওয়া চোখের মণিকে?জানতে হলে পড়তে হবে “মনোজদের অদ্ভুত বাড়ি “।

শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়ের অন্যান্য বইয়ের মতো এই বইটিও অসাধারণ। রহস্য, অ্যাডভেঞ্চার এর পাশাপাশি বইটি উপহার দেবে অনেকখানি হাসি। অনেকখানি হাসি। জটিলতা-সঙ্কীর্ণতাকে পাশ কাটিয়ে বই পড়েই আত্মাকে একটুখানি আনন্দ দেয়ার জন্য “মনোজদের অদ্ভুত বাড়ি” নামের ছোট্ট কিশোর উপন্যাসটা পড়েই ফেলতে হয়। রম্যরস দিয়ে জটিলতাকেও সরস বানানোর কায়দাটাকে শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায় শিল্পের পর্যায়ে নিয়ে গিয়েছেন। এই বইটি তার আরেক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। যদি মনের আকাশ কোন কারণে মেঘে ঢাকা থাকে তবে হাতে তুলে নিন এই বইটি আর ডুবে যান হাসির ফোয়ারায়।!

মন্তব্য
লোডিং...