এবার পুরো পৃথিবী বাংলায়

মহাবিশ্বের বৈচিত্র্যময় প্রাণীদের বৈচিত্র্যময় স্বভাব

139

প্রকৃতিতে ছড়িয়ে রয়েছে কতো প্রজাতির প্রাণী। এদের একেকটির স্বভাব, বৈশিষ্ট্য একেক রকম। সারা পৃথিবী জুড়ে ছড়িয়ে থাকা ভিন্ন ভিন্ন গণের ভিন্ন ভিন্ন প্রজাতির প্রাণীর আগ্রহ জাগানিয়া সহ এলোমেলো তথ্য নিয়ে সাজানো হয়েছে আজকের পর্ব।

১. সিংহরা দিনের বেশির ভাগ সময়ই ঘুমিয়ে কাটায়। দিনের প্রায় ১৮ থেকে ২০ ঘন্টাই তারা ঘুমিয়ে থাকে। অন্যদিকে সিংহীরা ১৫ থেকে ১৮ ঘন্টার মতো ঘুমায়।

২. ছাগলের উপরের চোয়ালে কোনো দাঁত নেই। ছাগলের দুধে গরুর দুধের তুলনা অধিক পরিমাণে ক্যালসিয়াম, ভিটামিন এ এবং নিয়াসিন থাকে।

৩. বিড়াল আল্ট্রা সাউন্ড শুনতে পায়। বিড়ালের গলার ভোক্যাল কড দ্বারা ১০০ প্রকারের শব্দ উৎপন্ন করা সম্ভব, যেখানে কুকুরের ভোক্যাল কড দ্বারা মাত্র ১০ প্রকারের শব্দ উৎপন্ন হয়।

৪. জাগুয়াররা ওৎ পেতে শিকার করে। তারা তাদের শিকারের পিছে ধাওয়া করে না, তবে অপেক্ষা করে হুটহাট হামলা করে বসে। ওৎ পেতে শিকার করায় প্রাণী জগতে তাদের সমকক্ষে কেউ নেই। জাগুয়ারের মানুষকে আক্রমণ করা খুবই বিরল, তবে ইদানিং সংখ্যাটা বাড়ছে।

৫. কুকুরের নাকের গন্ধশক্তি এতোই প্রখর যে এরা বাতাসে ছড়িয়ে দেওয়া ছোট্ট এক ফোঁটা ক্যামিকেলের গন্ধও বুঝতে পারে। কিছু কুকুর পানির নিচেও মৃতদেহের গন্ধ পায়।

৬. বার্ন পেঁচারা সাধারণত ছোটো লেজের ইঁদুরের মতো জন্তুদের শিকার করে।

৭. একটি পূর্ণ বয়স্ক সিংহ দিনে ৭ কেজির মতো মাংস খায়, আর পূর্ন বয়স্ক সিংহী দিনে ৪.৫ কেজি মাংস খায়। তবে অনাহারে থাকা সিংহ দিনে ৩০ কেজির মতোও মাংস খেতে পারে।

৮. যুক্তরাষ্ট্রে ধন্যবাদজ্ঞাপন করার উদ্দেশ্যে ৪৫ মিলিয়নের বেশি টার্কি পাখি খাওয়া হয়।

৯. জাগুয়াররা বেশ দক্ষভাবে গাছে চড়তে পারে। ভালো ভ্যান্টেজ পয়েন্ট পাওয়ার জন্য তারা গাছের ডালে চড়ে নিচে শিকার খোঁজে। তাদের পশমাবৃত শরীরের রঙ্গ হলদেটে বা কমলা হয় এবং তাদের পেটের দিকের অংশটা সাদা রঙের হয়ে থাকে।

১০. বন্য পরিবেশে চিতা বাঘের জীবনকাল সর্বোচ্চ ১২ বছর৷

১১. কুকুরেরা ২-৩ বছরের বাচ্চাদের মতো চৌকস।

১২. সিংহের জিহ্বা গঠিত হয় পাপেলি নামের ক্ষুদ্র কশেরুকা দিয়ে। এটার কারণে সিংহরা হাড় থেকে খুব সহজেই মাংস ছাড়াতে পারে এবং পশম থেকে ধুলো ঝাড়তে পারে। এছাড়াও এই জিহ্বার সাহায্যেই সিংহরা পানি খায়। সিংহরা পানি ছাড়া প্রায় ২ সপ্তাহ পর্যন্তও টিকে থাকতে পারে।

১৩. প্রজাপতির কঙ্কাল থাকে এর দেহের বাইরে। এটিকে বলা হয় বহিঃকঙ্কাল।

১৪. মাকড়শাভীতিকে বলা হয় অ্যারাকনোফোবিয়া।

১৫. স্থলের প্রাণীদের মধ্যে পোলার বিয়ার বা মেরু ভাল্লুক হলো পৃথিবীর সবচেয়ে বড় শিকারী।

১৬. একটি সিংহের গর্জন পাঁচ মাইল দূর থেকেও শোনা যায়। বিড়াল প্রজাতির প্রাণীর মধ্য তারাই সবচেয়ে জোরালো শব্দ করতে পারে। এই গর্জনের মাধ্যমেই তারা নিজের দলের অন্যান্য সদস্যকে খুঁজে বের করতে পারে।

১৭. জলহস্তি তার সঙ্গীকে আকর্ষণ করে মল ও মূত্র ত্যাগ করার মাধ্যমে।

১৮. বাঘ এবং সিংহের থেকে কিছুটা হলেও জাগুয়ারদের চোয়াল খুবই শক্তিশালী। তাদের কামড়ের গতি সবচেয়ে বেশি। বাঘের মতো পুরুষ জাগুয়ারদেরও শাবককে মেরে ফেলার প্রবণতা রয়েছে। এইজন্যই বাচ্চার জন্মের পর মাদী জাগুয়াররা পুরুষদের তেমন একটা সহ্য করতে পারে না।

জাগুয়াররা গাছের ডালে চড়ে নিচে শিকার খোঁজে; Image source : Frans Lanting

১৯. ইয়োলো টেইল হলো বিভিন্ন প্রজাতির হলুদরঙা শরীর কিংবা হলুদরঙা লেজওয়ালা প্রাণীর সাধারণ নাম।

২০. পৃথিবীতে মোটামুটি চব্বিশ হাজার প্রজাতির প্রজাপতি আছে।

২১. সিংহরা পৃথিবী স্থলজ প্রাণীর মধ্যে সবচেয়ে দ্রুতগতির প্রাণী। এরা ঘন্টায় প্রায় ৮০ কিলোমিটার বা ৫০ মাইল গতিতে দৌড়াতে পারে। বিড়াল বর্গের মধ্যে একমাত্র চিতাই তাদের সাথে গতির প্রতিযোগিতা করতে পারে।

২২. ডিক ডিক হলো এন্টিলোপ বা কৃষ্ণসারমৃগ, যা এক জাতের হরিণ। এরা পূর্ব আফ্রিকা, নামিবিয়া এবং আংগোলাতে থাকে।

২৩. সব বিড়ালের ইন্দ্রিয়ই মানুষের থেকে বেশি। সিংহও এর ব্যতিক্রম না। সিংহের দৃষ্টিসীমা মানুষের থেকে প্রায় ৬ গুণ বেশি এবং ঘ্রাণ শক্তি ৫ গুণ বেশি হয়ে থাকে।

সিংহরা দিনের বেশির ভাগ সময়ই ঘুমিয়ে কাটায়; lmage source : Wikimedia

২৪. তিমির শাবক যখন তার মায়ের গর্ভে থাকে, তখন এটি মা তিমির তিন ভাগের একভাগ আকৃতি নিয়ে বড় হয়। বেড়ে ওঠার ক্ষেত্রে বাচ্চা তিমি প্রতিদিন ২০০ পাউন্ড ওজন লাভ করে।

২৫. একটি গরুর মস্তিষ্কে যে পরিমাণ রক্ত প্রবাহিত হয়, জিরাফের হৃদপিণ্ডে এরচেয়ে দ্বিগুণ গতিতে পাম্প করে।

২৬. প্রজাপতিরা কেবল মাত্র লাল, সবুজ আর হলুদ রঙ দেখতে পায়।

২৭. মানুষের চোখ ট্রান্সপ্ল্যান্ট করার সময় হাঙরের কর্নিয়াও ব্যবহার করা হয়েছে৷

হ্যামারহেড শার্কের মাথা সত্যিই হাতুড়ির মতো; Image source : derek heasley

২৮. সিংহদের বেশির ভাগই থাকে সাভানাহ বা সাব-সাহারান আফ্রিকায়। এই অঞ্চলটা তাদের জন্য অনূকলীয় পরিবেশ। এখানের প্রশস্ত তৃণভূমি তাদেরকে দৌড়াতে এবং সহজে শিকার খুঁজে পেতে সাহায্য করে।

২৯. প্রাক-কলাম্বিয়ান মধ্য এবং দক্ষিণ আমেরিকায় জাগুয়ারকে শক্তি এবং ক্ষমতার প্রতীক হিসেবে ধরা হতো। শুধু প্রাচীন সময়েই না, কিছু দেশে বর্তমানেও জাগুয়ারকে ক্ষমতার প্রতীক হিসেবে গন্য করা হয়। জাগুয়ার গায়ানার জাতীয় পশু এবং তাদের কোট অফ আর্মসেও জাগুয়ার রয়েছে। ব্রাজিলিয়ান রিয়েলেও জাগুয়ারের প্রতিকৃতি রয়েছে।

৩০. সিংহের একমাত্র শিকারী বা শত্রু হলো মানুষ। বাঘের চামড়া এবং হাড় দুর্লভ হয়ে যাওয়ায়, চোরাকারবারীরা এখন চীন এবং আশেপাশের অঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী ওষুধের যোগান দেওয়ার জন্য এখন সিংহের দিকে নজর দিয়েছে।

Feature Image source : Frans Lanting

মন্তব্য
লোডিং...