এবার পুরো পৃথিবী বাংলায়

রক্ত শীতল করা হরর মুভিঃ পর্ব-১

ভূত এমন একটি জিনিস যার বাস্তব অস্তিত্ব থাকুক বা না থাকুক এই ভূত নিয়ে আমাদের মধ্যে ভয়ের অস্তিত্ব ঠিকই আছে। কি ছোট কি বড় সবার মধ্যেই ভূত নিয়ে এক অজানা আতংক কাজ করে। অন্ধকার রাতে নির্জন রাস্তায় হাটতে গিয়ে যদি কোন কিছু পাশে নড়ে ওঠে বা রাতে ভূতের গল্প শোনার পর টয়লেটের পর্দা যখন বাতাসে উড়তে থাকে তখন বুকের ভেতরে সজোরে একটা ধাক্কা লাগে না এমন মানুষ হয়তো কমই আছে। 

ভূত যদিও আমরা ভয় পাই কিন্তু তবুও ভূত নিয়ে আমাদের আগ্রহের শেষ নেই। শুধু আগ্রহেই শেষ নয়, আয়োজন করে ভূতের ভয়টাকে অনুভব করার জন্য দেখতে বসে যাই ভূতের সিনেমা। রাতে লাইট বন্ধ করে ভূতের সিনেমা দেখছেন ভীষণ সাহস নিয়ে তারপর টের পেলেন মাথার ঠিক ওপাশেই কার যেন নিঃশ্বাসের শব্দ পাওয়া যাচ্ছে। পেছনে ঘুরে দেখলেন কেউ নেই। তখন লাইট না জ্বালানো পর্যন্ত হৃদপিন্ডের ধুকপুকানি থামাবার আর অন্য কোন বিকল্প বোধহয় নেই।

যাইহোক চলুন আর কথা না বাড়িয়ে তেমনই ২টি ভূতের সিনেমার কথা জেনে আসি। ভয় কতটুকু পাবেন বলা যাচ্ছে না তবে এই সিনেমাগুলো দেখলে নিজের মধ্যে যে একটা চাপা উত্তেজনা বা অস্থিরতা কাজ করবে তা বলা যেতে পারে।

১। The Wailing ( 2016):

IMDb Rating: 7.5

পরিচালক ও লেখকঃ হং জিং না ।

অভিনয় করেছেন  ডন ওন কাউক, জুং মিং হুয়াং, জুন কুনিমুরা, উ হি চুন এবং আরও অনেকে।

সিনেমাটি এশিয়ান চলচিত্র পুরস্কার, ব্লাড গাটস ইউকে হরর এ্যাওয়ার্ড, ব্লু ড্রাগন এ্যাওয়ার্ড, বুচন ইন্টারন্যাশনাল ফ্যান্টাস্টিক ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল এ্যাওয়ার্ড, আই হরর এ্যাওয়ার্ড সহ মোট ২৬টি জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক চলচিত্র পুরস্কার অর্জন করেছে । তাছাড়াও আরও ৪৩ টি জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক পুরস্কারের জন্য মনোনীত হয়েছে।

কোরিয়ার একটি শান্ত সুন্দর ছোট্ট গ্রাম। সেখানে একদিন এক আগন্তুকের আগমন ঘটে এবং সেখানে হঠাৎ করেই ঘটতে থাকে অদ্ভুত সব হত্যাকাণ্ডের ঘটনা। এবং হত্যাকাণ্ডগুলো হতে থাকে অদ্ভুত এক রোগের মাধ্যমে। পুলিশ অফিসার জং গো এর ওপর এই হত্যাকান্ডের ঘটনার তদন্তের ভার পড়ে। জং গো এর এক সহযোগী তাকে বলে এই গ্রামের পাশেই যে পাহাড়টা আছে সেখানে একজন জাপানী আগন্তুক বাস করে। সেই আগন্তুকের মধ্যে এক অশুভ শক্তি বসবাস করে। সেই অশুভ শক্তিই এইসব হত্যাকাণ্ড ঘটাচ্ছে। তারপর জং গো সেই জাপানিজ আগন্তুকের বাড়িতে গিয়ে তল্লাশি চালিয়ে দেখতে পায় যে যেসব লোক মারা গিয়েছে সেসব লোকের ছবি সেই বাড়ির গোপন কুঠরির দেয়ালে আটকানো। তারা বুঝতে পারে না এসব কি বা এসব ছবি এখানেই বা কেন। জং গো এর সহযোগী সেখানে জং গো এর আদরের ছোট্ট মেয়েটির একটি জুতো খুঁজে পায়। এরপর থেকে জং গো এর মেয়ের সাথে ঘটতে থাকে অদ্ভুত সব ঘটনা। এর মধ্যে জং এর মা এর অনুরোধে এক ওঝাকে আনা হয় জং এর মেয়ের উপর থেকে অশুভ শক্তিকে ঝেড়ে ফেলার জন্য। কিন্তু মাঝ পথে ওঝার চেষ্টা ব্যর্থ হয়ে যায়। এমন সময় এক অদ্ভুত মেয়ের আগমন ঘটে যাকে জং তার অফিসের বাইরে দেখেছিল কোন এক ঝড়ের রাতে। এক পর্যায়ে এসে জং নিজেই প্রচণ্ড দ্বিধান্বিত হয়ে পড়ে কাকে বিশ্বাস করবে এই ভেবে। কারণ যে ওঝা প্রথমে বলেছিল যে সেই জাপানিজ লোকটি একটি অশুভ আত্মা সেই আবার বলতে শুরু করে যে ঐ জাপানিজ লোকটি নয় এই অদ্ভুত মেয়েটিই অশুভ আত্মা যে কিনা জং এর মেয়ের ক্ষতি করতে চায়। কিন্তু অদ্ভুত সেই মেয়েটি বলে সে নয় সেই জাপানি আগুন্তুকই অশুভ শক্তি। প্রচণ্ড দ্বিধান্বিত জং বুঝতে পারে না কাকে বিশ্বাস করবে আর কিভাবেই বা তার আদরের মেয়েকে সে এই অশুভ আত্মার হাত থেকে বাঁচাবে? কিন্তু শেষ পর্যন্ত কি জং তার মেয়েকে বাঁচাতে পারে সেই অশুভ আত্মার হাত থেকে? জানতে হলে উপভোগ করতে হবে সিনেমাটি। উল্লেখ্য যে সিনেমাটির প্রতিটা অংশই দেখতে হবে কোন কাটা ছাড়া । কারণ প্রতিটা অংশই একটির সাথে আরেকটি সংযুক্ত। তাই কোন অংশ বাদ দিলে পরের অংশের সাথে মিল খুঁজে বের করতে সময় লাগবে এবং খাপছাড়া লাগবে। পুরো সিনেমাতে রয়েছে টানটান উত্তেজনা এবং অজানা এক আতংকের ছাপ। রয়েছে অন্ধ ভালবাসা, রয়েছে সাসপেন্স।

2 . Train to Busan ( 2016):

IMDb Rating: 7.5

পরিচালকঃ সাং হো ইয়ং ।

লেখকঃ জো সাক পার্ক, সাং হো ইয়ং।

অভিনয়েঃ ইয়ো গং, সো আন কিম, ইয়ু মি জুং এবং আরও অনেকে।

সিনেমাটি সিটগ্যাস ক্যাটালোনিয়ান ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফ্যাস্টিভ্যাল এ্যাওয়ার্ড, ব্ল্যাড গাটস ইউ কে হরর এ্যাওয়ার্ড, ব্লু ড্রাগন এ্যাওয়ার্ড, বুইল ফিল্ম এ্যাওয়ার্ডসহ মোট ১৬ টি জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক পুরস্কার জয় করেছে এবং আরও ৩০টি জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক পুরস্কারের জন্য মনোনীত হয়েছে।

সিওক ও একজন বিপত্নীক বাবা যার একটি ফুটফুটে সুন্দর মেয়ে আছে। কিন্তু সিওক ও এর কাছে তার মেয়েকে দেয়ার মত কোন সময় ছিল না কারণ সারাক্ষন সে তার কাজে ব্যস্ত থাকত। সু আন তার মেয়ে তাই তার অভাব খুব অনুভব করত। সু আন চাইত তার বাবা তার সাথে কিছুটা সময় কাটাক। কিন্তু সিওক ও অফিসের কাজের বাইরে সময় বের করতে প্রায়ই ব্যর্থ হত। এটা সু আন কে প্রায়ই কষ্ট দিত। সু আন একবার বুসানে তার মায়ের কাছে যেতে চাইল কিন্তু তার বাবা তাকে সেখানে পৌঁছে দেয়ার সময় বের করতে পারছিল না। তারপর সিওক ও সু আন কে তার মায়ের কাছে পৌঁছে দিতে রাজি হয়। তারা ট্রেনে বুসানের উদ্দ্যেশে রওনা  হয়। কিন্তু পথিমধ্যে সিওক ও জানতে পারে যে একটা অস্বাভাবিক জীবাণুর দ্বারা আক্রান্ত হয়ে মানুষগুলো মাংসখেকো মানুষে পরিণত হচ্ছে এবং এই জীবাণু মহামারী আকারে চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ছে। সিওক ও এবং সু আন যেই ট্রেনে বুসান যাচ্ছিল সেই ট্রেনেও ছড়িয়ে পড়ে এই ছোঁয়াচে জীবানু। ট্রেনের সবাই নিজেকে বাঁচানোর প্রতিযোগিতায় নেমে পড়ে। প্রতি মুহূর্তে ভয়ংকর ঐ জীবানু দ্বারা আক্রান্ত হওয়ার ভয়। প্রিয়জনকে বাঁচাতে নিজের জীবন বিসর্জন দেয়া আবার কখনও বা নিজের জীবন বাঁচাতে গিয়ে অন্যকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেয়ার এক অদ্ভুত প্রতিযোগিতা। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কি সিওক ও তার আদরের মেয়েকে এই ভয়ঙ্কর মহামারী থেকে বাঁচাতে পারে? জানতে হলে সিনেমাটি দেখতে হবে। পুরো সিনেমায় টান টান উত্তেজনার পাশাপাশি রয়েছে নিখাদ ভালবাসার এক ছোঁয়া। পুরো সিনেমার প্রথম দিকে সিনেমাটি তেমন ভাল লাগবে না হয়ত কারণ সিনেমার আসল মোড়টি ঘুরে যায় সিনেমার মাঝখান থেকে। ভূতের ভয়ের চেয়ে মানবিক ভালবাসাই সিনেমাটির মূল প্রতিপাদ্য। তাই যারা ভূতের ভয়ে ভীত হতে চান তাদের কাছে সিনেমাটি ভয়ঙ্কর নাও লাগতে পারে। কিন্তু সিনেমার শেষ মুহূর্তে আপনার চোখের কোনে হয়ত একটু ভিজে উঠতে পারে, মনের মাঝে একটা কষ্টবোধ চাড়া দিয়ে উঠতে পারে। কেন? জানতে হলে সিনেমাটি দেখতে হবে।

আরো পড়ুন

পৃথিবীর প্রথম হরর সিনেমা: The Haunted Castle

মন্তব্য
লোডিং...