এবার পুরো পৃথিবী বাংলায়

গ্রীক ফায়ার

প্রাচীন টেকনোলজি, যার ব্যাখ্যা আধুনিক বিজ্ঞানে নেই! পর্ব-১

161

- Advertisement -

চুড়ান্ত বিস্ময়কর হলেও সত্য, আমাদের পুর্বপুরুষদের কিছু ব্যবহারিক প্রযুক্তির ব্যাখ্যা এখন পর্যন্ত আধুনিক বিজ্ঞান আমাদের দিতে পারে নি। এই তালিকা থেকে আপনার মনে সবথেকে বড় বিস্ময় জাগায় কোনটি জানতে হলে সাথেই থাকতে হবে। আর ভালো লাগলে শেয়ার দিতে ভুলবেন না। আজ সিরিজের প্রথম পর্বে আলোচনা করব ঐতিহাসিক বাইজেনটাইন সম্রাজ্যের একসময়ের প্রধান নৌবাহিনীর অস্ত্র, গ্রীক ফায়ার নিয়ে। চল শুরু করি!

চিত্রঃ গ্রীক ফায়ার

৬৭২ খ্রিষ্টাব্দে বাইজেনটাইন বা ইস্টার্ন রোমান সম্রাজ্যের নৌবাহিনী কর্তৃক প্রথমবারের মত “গ্রীক ফায়ার” ব্যবহার করতে দেখা যায়। এটি ছিল একটি ভয়াবহ অস্ত্র, যাতে করে শত্রুপক্ষ মারাত্মক উচ্চ তাপমাত্রার আগুনে পুড়ে সাথে সাথে ছারখার হয়ে যেত। এটি এতই ভয়াবহ ছিল যে এটা পানির উপরেও জ্বলত। জানা যায়, রোমানরা এটি প্রায় দ্বাদশ শতাব্দী পর্যন্ত যুদ্ধে নিয়মিত ব্যবহার করত। কিন্তু নতুন নতুন অস্ত্রের আবিষ্কারে এটির ব্যবহার ধীরে ধীরে কমে যায়। হালের জনপ্রিয় সিরিয়াল “গেম অফ থ্রোনস” এর “ওয়াইল্ড ফায়ার” এই “গ্রীক ফায়ার” থেকেই অনুপ্রনিত। তবে ওয়াইল্ড ফায়ার কিভাবে তৈরী বা ব্যবহৃত হচ্ছে তা কম্পিউটার স্ক্রিনে দেখা গেলেও “গ্রীক ফায়ার”-এর রেসিপি আজও অজানা। বিজ্ঞানীরা আজও এর রাসায়নিক গঠন সম্পর্কে সঠিকভাবে কিছুই বলতে পারেন নি, কারন কোন নমুনাই যে অবশিষ্ট নেই। তবে তারা কিছু থিওরী অবশ্যই দিয়েছেন বটে। এদের ভেতরে সবথেকে ভাল থিওরী মানা হয় “সল্টপিটর” (Saltpetre বা কার্বোনেট অফ পটাশ) থিওরীকে। এই থিওরী অনুযায়ী এটি ছিল এক ধরনের গানপউডার। বজ্রধ্বনি এবং ধোঁয়ার বর্ণনা এই থিওরীকে সমর্থন করে বটে, কিন্তু পরে গবেষণায় দেখা যায় যে ত্রেয়দশ শতাব্দী থেকে এই পদার্থ ইউরোপ বা মধ্যপ্রাচ্যে ব্যবহার শুরু হয়েছিল। তাই এটি “গ্রীক ফায়ার” এর উপাদানের অংশ হতে পারে না।

- Advertisement -

চিত্রঃ শিল্পির তুলিতে গ্রীক ফায়ার

আরেকটি থিওরী হচ্ছে যেহেতু এটি পানির উপরেও জ্বলতে পারতো, সুতরাং এর মধ্যে হয় কলিচুন (Quicklime) রয়েছে। এটি পানির সাথে বিক্রিয়া করে তাপ উৎপাদন করে ও তীব্র অগ্নিশিখা অব্যাহত রাখতে সাহায্য করবে। আর এটি আরো আগে থেকেই ব্যবহার কর হত। এটিকে অবশ্য ধর্তব্যে রাখা হয়েছে, কারন এটির প্রভাব সৃষ্টির জন্য পানির সাথে যোগাযোগের প্রয়োজন। তবে জাহাজের ডেকে আগুন লাগানোর যতগুলো রিপোর্ট পাওয়া যায় সেখানে অবশ্যই এমন কোন দাহ্য বস্তুর উপস্থিতি নির্দেশ করে যা মুহুর্তে দাউদাউ করে জ্বলে উঠতে পারে। এক্ষেত্রে পণ্ডিতেরা মনে করেন যে, মূল উপাদানটি আসলে পেট্রোলিয়ামের একটি রূপ ছিল। বাইজেনটাইন সম্রাজ্যের চারপাশে ছিল “ব্ল্যাক সি”, যেখানে আসলে ছিল অশোধিত তেলের (ক্রুড অয়েল) প্রাকৃতিক কূপ। আর সম্রাজ্যের চারিধারেই খুব নিকটে এমন আধার থাকায় তা সরবরাহও করা যেত প্রচুর পরিমানে। তবে সেক্ষেত্রে ‘গ্রীক ফায়ার’ কে ‘মেডিয়ান ফায়ার’ এর সাথে গুলিয়ে ফেলার সম্ভাবনা তৈরী হয়। গ্রীকরা ক্রুড অয়েলকে মেডিয়ান অয়েল হিসেবে উল্লেখ করত, তাই এটি অন্ততপক্ষে মৌলিক উপাদানগুলির মধ্যে একটি হবে, এমনটিই ধারনা বিশেষজ্ঞদের। তবে প্রকৃত একটি তরল নমুনা পাওয়ার ছাড়া, গ্রিক ফায়ার আসলে কিভাবে কাজ করত তা ব্যাখ্যা করা কার্যত অসম্ভব। সে সময়ের কোন কোন সাহিত্যে কিছু কিছু উপাদানের অংশগুলির বর্ননা পাওয়া যায় বটে, তবে পুর্নাঙ্গ ফর্মুলা পাওয়াটা বর্তমানে প্রায় অসম্ভবই বলা চলে।

চিত্রঃ সাহিত্যে গ্রীক ফায়ার

তবে ২০০২ সালে “ন্যাশনাল জিওগ্রাফী” চ্যানেলের “মিথবাস্টারস” অনুষ্ঠানে একবার ক্রুড অয়েলের সাথে পাইন রেজিন মিশিয়ে ব্রোঞ্জ পাম্পের সাহায্যে ঢেলে দেওয়া হয় জাহাজের উপরে। কি মনে হয়? সত্যিই সম্পুর্ণ জাহাজটি এক মিনিটের মধ্যে পুড়ে ছারখার হয়ে গিয়েছিল। তাই আমরা যে কোন সিদ্ধান্তে আসার আগে এটি বিশেষজ্ঞগণ দ্বারা প্রস্তাবিত প্রতিযোগিতামূলক তত্ত্বের জন্য তোলা থাক। কি বলেন?

মন্তব্য
লোডিং...