এবার পুরো পৃথিবী বাংলায়

ললিতা ও রবিশঙ্করঃ এক অন্যরকম ভালবাসার গল্প

498

- Advertisement -

“প্রথম দেখায় প্রেম” এই কথাটির সাথে আমরা সকলেই পরিচিত এবং এই প্রথম দেখায় ভালো লাগার কাহিনী বোধহয় হাজারখানিক রয়েছে। এমনকি চোখের দেখা না দেখে ফোনে কথা বলে ভালোবাসার নজিরও রয়েছে। ললিতা ও রবিশঙ্করের ভালবাসার গল্পটি ফোনের ওপার থেকে একজন আরেকজনের স্বর শুনে হলেও তাদের গল্পটি একেবারেই আলাদা।

ললিতা বানসি ভারতের উত্তর প্রদেশের আজমগড়ের মেয়ে। সে তার পরিবারের সাথে মুম্বাই এ থাকতো। ২০১২ সালে ললিতা তার পরিবারের সাথে গ্রামের বাড়ি গিয়েছিলো তার চাচাতো বোনের বিয়েতে। বিয়ে বাড়িতে ললিতার ছোট ভাইয়ের সাথে তার চাচাতো ভাই শ্যামবাবুর ঝগড়া হয়, অত্যন্ত ছোট একটি বিষয়কে কেন্দ্র করে। যেহেতু দুই জনই ললিতার চেয়ে বয়সে বেশ ছোট ছিলো, সে ঝগড়া থামানোর জন্য দুই ভাইকেই চড় মারে।এতে ঝগড়া থেমে যায়। চাচা্তো বোনের বিয়ের পর ললিতা গ্রামেই থেকে যায় কেননা ঠিক ৫ মাস পরেই ললিতার বিয়ে হওয়ার কথা ছিলো। ললিতার বিয়ের ঠিক ১৫ দিন আগে শ্যাম বাবু ললিতার মুখে অ্যাসিড ছুড়ে মারে চড়ের বদলা নেওয়ার জন্য।ললিতাকে বোম্বে হসপিটালে ভর্তি করা হয় এবং তার চেহারায় মোট ১৭টি অস্ত্রোপচার করা হয়। অস্ত্রোপচারের পরেও ললিতার চেহারা ক্ষতবিক্ষতই থেকে যায়। তার বিয়ে ভেঙে যায়, ললিতা বিষণ্নতায় ভুগতে শুরু করে।

“আমি একটি ভুল নাম্বার থেকে মিসড কল পেয়েছিলাম। আর সেই মিসড কলটাই আমার জীবন বদলে দিয়েছে। মিসড কলটি ছিলো ললিতার ফোন থেকে” বললেন ললিতার স্বামী রবিশঙ্কর সিংহ”।মিসড কলটি পেয়ে রবিশঙ্কর কলব্যাক করেন এবং তারা কথা বলতে শুরু করেন।এই কথোপথন চলতে থাকে বেশকিছুদিন ধরে। একসময় তারা বুঝতে পারলেন যে একজন আরেকজনকে ভালোবেসে ফেলেছেন গভীরভা্বে।

ললিতা সবসময় তার এসিডে ঝলসানো ক্ষতবিক্ষত চেহারা নিয়ে হীনমন্যতায় ভুগতো।লজ্জা পেতো, কারো সামনে যেতে চাইতো না।ললিতা অনেকবার সম্পর্ক ভেঙ্গে দিতে চেয়েছিলো। ললিতা ভাবতো, সে রবিশঙ্করের যোগ্য নয়। কিন্তু এসব কথায় আমলই দেইয়নি রবিশঙ্কর। রবিশঙ্কর বলতো, “পৃথিবীতে কত মানুষই চেহারা দেখে একজন আরেকজনকে পছন্দ করে বিয়ে করে। পরে তাদের সম্পর্ক ভেঙ্গে যায়, ডিভোর্স হয়ে যায়। তাছাড়া মানুষের রূপ চিরস্থায়ী নয়, চিরস্থায়ী মানুষের মন। আর ললিতার মনের মতো সুন্দর মন আমি আর কখনো খুঁজে পাবো না”।তাদের সম্পর্কের তিনমাসের মাথায় তারা একে অপরের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।

- Advertisement -

“Acid Survivors Saahas Foundation” মুম্বাইয়ের দাদরে অবস্থিত ডি’সিলভা টেকনিকাল কলেজে ললিতা এবং রবিশঙ্করের বিয়ের আয়োজন করে। ললিতা এই সংস্থার একজন সক্রিয় সদস্য এবং ভলেন্টিয়ার। ললিতার চেহারার অপারেশনের খরচও এই সংস্থা দিয়েছিলো। বর-কনের পোশাক দিয়েছিলেন ফ্যাশন ডিজাইনার আবু জানি এবং সন্দীপ খোসলা।বিয়েতে ১৫০ জন অতিথি উপস্থিত ছিলো। তাদের মধ্যে বলিউড নায়ক বিবেক ওবেরয়, কংগ্রেস এমএলএ নিতেশ রানে, মুম্বাইয়ের প্রাক্তন শেরিফ জগন্নাথ্ রাও হেগড়ে ও উপস্থিত ছিলেন। বিবেক ওবেরয় নবদম্পতিকে মুম্বাইয়ে একটি ফ্ল্যাট উপহার দেন এবং রোটারী ক্লাব অব শিবাজী পার্ক ২৫০০০ রুপির একটি চেক উপহার দিয়েছে।

সকল প্রতিকূলতাকে দূরে ঠেলে, সমাজ ও নিজের পরিবারের বিরুদ্ধে লড়াই করে রবিশঙ্কর ললিতার হাত শক্ত করে আঁকড়ে ধরেছে। এখন তারা ভালো আছে, খুব সুখে আছে।

ছবি এবং তথ্যসূত্রঃ

১ঃ bollywoodshaadis.com

২ঃthevoiceraiser.com

৩ঃ thelogicalindian.com

৪ঃmashable.com

 

মন্তব্য
লোডিং...