এবার পুরো পৃথিবী বাংলায়

মানসিকতার দিক থেকে এগিয়ে থাকা নারীরা যে কাজগুলো করেন না

শারিরীকভাবে মজবুত থাকতে হলে নিয়মিত ব্যায়াম, পরিমিত খাদ্যাভ্যাস আর বদঅভ্যাসগুলো থেকে দূরে থাকতে হয়। তেমনি মানসিকতাভাবে মজবুত থাকতে হলেও মানসিক ব্যায়াম, অনর্থক কাজ-কর্মগুলো থেকে দূরে থাকতে হবে। মানসিকতা গড়ে উঠার ব্যাপারগুলো নারী-পুরুষে সমান। আমাদের পারিপার্শ্বিক মিথক্রিয়া থেকেই গড়ে উঠে আমাদের অভ্যাস। কিন্তু এর পাশাপাশি অসংখ্য বদঅভ্যাসও আমাদের কাজ-কর্মে জায়গা করে নেয়। এগুলোই আমাদের সফলতার পথ থেকে দূরে সরিয়ে দেয়। কিন্তু বদঅভ্যাস থেকে দূরে থাকতে পারেন না সব নারী। কেবল মানসিকভাবে শক্তিশালী নারীরাই এগুলো থেকে দূরে থাকতে সচেষ্ট হন। আর এজন্য তারা কতগুলো ভুল থেকে বেঁচে থাকেন সবসময়। আজ সেগুলো নিয়েই কথা বলব।

১.নিজেকে  অন্যের সঙ্গে তুলনা নয়

সবারই নির্দিষ্ট লক্ষ্য আর গন্তব্য রয়েছে, আর সেগুলো প্রভাবিত হতে পারে যদি আপনি নিজেকে অন্যের সঙ্গে তুলনা করতে যান। সবাই সমান সুযোগ-সুবিধা নিয়ে বড় হন না। তাই নিজের সক্ষমতাকে অন্যের সঙ্গে গুলিয়ে ফেললে সেটা কেবল বিফল প্রচেষ্টা হবে। একজন শক্তিশালী মানসিকতার নারী হিসেবে নিজেকে তৈরি করতে হলে অবশ্যই নিজেকে অন্যের সঙ্গে তুলনা করা বাদ দিতে হবে। বরং সেই সময়টা নিজের সীমাবদ্ধতাগুলোকে জয় করার কাজে মনোযোগ দিতে হবে। তবেই আগের আমি’কে পেছনে ফেলে নতুন আমি হওয়া সম্ভব।

২. সবকিছুতে নিখুঁত হতে চেষ্টা না করা

কাজগুলো ঠিকঠাক মতো হলো কিনা-এরকম চিন্তায় অনেক নারীরই জীবনটা বিষিয়ে উঠে। এরকম স্বভাবের নারীরা খুঁতখুঁতে স্বভাবের হন। একটু এদিক-সেদিক হলেই তারা কাজটাতে অসফল হয়েছেন বলে ধরে নেন। ফলে একসময় নিজেকে দোষারোপ করার কারণে বিষণ্ণতায় ভুগতে শুরু করেন।

সবকিছু নিখুঁত করতে চাওয়া বোকামি; Image Source: thehealthy.com

 

আপনি সবসময় নিখুঁত কাজ করতে গেলে কাজের গতি কমে যাবে। এভাবে কাজ জমতে শুরু করবে এবং আপনার চাপও বেড়ে যাবে বহুগুণ। আপনাকে যদি দ্রুত এগুতে হয় তবে অবশ্যই দীর্ঘসূত্রতা পরিহার করতে হবে। আর মানসিকভাবে পরিক্কতা লাভ করা নারীরা তাই দীর্ঘসূত্রতা এড়িয়ে চলতে নিখুঁত হওয়ার অভ্যাস ঝেড়ে ফেলেন।

৩. সবকিছু নিয়ে অতিরিক্ত চিন্তা না করা

বহু নারী আছেন যারা কোনো কাজ কিংবা ঘটনা নিয়ে অল্পতেই দুঃচিন্তায় ভুগতে শুরু করেন। তাদের মনে সবসময় নানা খারাপ সম্ভাবনা উঁকি দিতে থাকে।  এই বুঝি এটা হয়ে গেলো, ইস! ব্যাপারটা যদি এভাবে ঘটত, এরকম নানা চিন্তায় ঘুম হারাম হয়ে যায়। নিজের গুছানো চিন্তার বাইরে দূর্বল মানসিকতার নারীরা কিছু ভাবতে ভয় পান।

গবেষণায় দেখা গেছে, নারীদের বিষণ্ণতার সঙ্গে সবকিছু নিয়ে অতিরিক্ত চিন্তা করার সংযোগ রয়েছে। এটা তাদের মানসিক প্রশান্তিকে দূরে ঠেলে দিয়ে সেখানে অশান্তির মেঘ জড়ো করে। তাই সমস্যা নিয়ে বারবার না ভেবে বরং সমস্যা সমাধানের উপায় বের করতে হবে। মনে রাখতে হবে সমস্যা আমাদের সঙ্গী, তাই টেকসই মানসিকতার নারীরা সমাধানের দিকে নজর দেন বেশি।

৪. নিজের প্রতি সন্দেহ  তৈরি না করা

আমাদের চিন্তার একটা বিশাল অংশ দখল করে আছে আমাদের আশপাশের মানুষের ভাবনা। তারা যতটা না আমাদের নিয়ে ভাবে, আমরা তারচেয়ে তাদের ভাবনাগুলো নিজের করে নিই। এভাবেই বহু সফলতা আমাদের হাত ফসকে বেরিয়ে যায়। অথচ আমরা যদি নিজেকে গুরুত্ব দিয়ে নিজের ভাবনাকে প্রাধান্য দিতাম, তবে এমনটা হত না।

নিজের প্রতি সন্দেহ তৈরি করা যাবে না; Image Source :bbntimes.com

মানসিকভাবে দৃঢ়চেতা নারীরা তাই অন্যের চিন্তার চেয়ে নিজের চিন্তাকে প্রাধান্য দেন বেশি। তারা জানেন তারা কী চান, এর মাঝে পারিপার্শ্বিক চিন্তা তাদের দমিয়ে দেয় না। তাই নিজের প্রতি আস্থা থাকায় কোনো সন্দেহ আর তাদের কাবু করতে পারেনা।

৫. চ্যালেঞ্জ গ্রহণে পিছপা না হওয়া

একজন নারীকে শুধুমাত্র ঘরের ভেতরেই নয়, বরং বাইরেও কঠিন পরীক্ষার মুখোমুখি হতে হয়। অনেকে নিজের ভাগ্য মেনে নিয়ে চ্যালেঞ্জকে পাশ কাটিয়ে যান। আবার বহু নারী চ্যালেঞ্জগুলোকে মাথায় রেখেই তার পরবর্তী লক্ষ্য ঠিক করেন। এখানেই দুই ধরণের মানসিকতার পার্থক্য।

বর্তমানে ঘরে-বাইরে সবখানেই নারীদের এরকম অসংখ্য কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয়। কিন্তু শুরুতেই হাল ছেড়ে দেওয়া নারীর সংখ্যা নেহায়েৎ কম নয়। আর বাকিরা দৃঢ়তার সাথে নিজের সমস্যাগুলোর মোকাবেলা করেন। এভাবেই তারা সফলতার দেখা পান। পত্রিকা আর ইন্টারনেট ঘাঁটলে বাঁধা পেরোনো এরকম বহু নারীর গল্প সামনে আসে। তাদের সঙ্গে সাধারণ নারীদের পার্থক্য হলো, তারা চ্যালেঞ্জ সামনে আসার পর পিছিয়ে যাননি।

৬. নীরব না থাকা

আমাদের সামাজিক প্রথা অনুযায়ী নারীরা একসময় ঘর-সংসার কিংবা পারিবারিক গুরুত্বপূর্ণ কাজে কোনো সিদ্ধান্ত দিতে পারতেন না। এই প্রথাগুলো আসতে-আসতে ভাঙতে শুরু করেছে। কিন্তু তারা এদিক থেকে স্বাধীন হতে শুরু করলেও কর্মক্ষেত্রে পুরুষের তুলনায় নারীরা কম কথা বলার সুযোগ পান।

নারীরাও সব পরিস্থিতিতে কথা বলার সক্ষমতা রাখেন; Image Source: athenainfonomics.com

 

এটা আমাদের সমাজের সামগ্রিক একটা চিত্র হলেও বহু নারী পরিবার কিংবা কর্মক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে শুরু করেছেন। আর অবদান রাখতে হলে নিজেকে আগে প্রকাশ করতে জানতে হয়। নিজের জায়গাটি সুদৃঢ় করে সামনে এগিয়ে যেতে তাই মানসিকভাবে শক্তিশালী নারীদের জুড়ি নেই। এগিয়ে যেতে হলে কথা বলতেই হবে।

৭. নিজের সাফল্যকে উদযাপন করা

নারীরা কোনো উদ্যোগ নিলে কিংবা কোনো কাজে সফল হয়ে সেটাকে প্রকাশ করতে গেলে, সমাজের চোখে সে অহংকারী আর উচ্চাভিলাষী হিসেবে পরিচিতি পায়। এটা যেন মস্তবড় এক অপরাধ। এসব চিন্তা করে অনেক নারীই নিজেকে খোলসের ভেতর আবৃত করে নেন। কাজের কৃতিত্ব নিতেও তারা কুণ্ঠাবোধ করেন। অথচ দৃঢ়চিত্তের নারী মাত্রই নিজের সাফল্য উদযাপন করেন এবং অন্যদেরও সেখানে সামিল করেন। তবে তার সাফল্যের পথে সহযোগীদের প্রতি কৃতজ্ঞ হতে তারা কখনো ভুলে যান না।

পুরুষের ক্ষেত্রে শারিরীক শক্তি গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়, কিন্তু নারীদের বেলায় সেটা মানসিক শক্তি দিয়েই পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব। ইতিহাসের পাতায়-পাতায় এরকম অসংখ্য নারীর অবদান উঠে এসেছে,  যারা নিজের চারপাশের হাজারটা বাধা পেরিয়ে নিজের অবস্থান তৈরি করে নিয়েছেন। তাদের বেলায় একটা ব্যাপার সবসময়ই এক, আর তা হলো শক্তিশালী মানসিকতা। এটাই নিজের সঙ্গে আরেকজনের ব্যবধান গড়ে দেয়।

featured Image: fortune.com

মন্তব্য
লোডিং...