এবার পুরো পৃথিবী বাংলায়

বিশ্বকাপের আসরে ঘটে যাওয়া সবচেয়ে বিতর্কিত ঘটনাগুলো

390

- Advertisement -

বিশ্বের সবচেয় জনপ্রিয় খেলা কোনটি? এই প্রশ্নে সবচেয় সমর্থন পাবে যে উত্তরটি সেটি হলো “ফুটবল”। সারা বিশ্বের কোটি কোটি মানুষ এর অন্ধভক্ত। আর পৃথিবীর ইতিহাসে সব থেকে  বড় আয়োজন, মিলন মেলা কিংবা মঞ্চ যেটাই বলি না কেন, সেটা হচ্ছে “ফিফা ওয়ার্ল্ড কাপ”। চার বছর পর পর বিশ্বকাপের সময় যখন এসে উপস্থিত হয়, তখন পুরো  বিশ্ব উপভোগ করে এই নান্দনিক সৃষ্টির। ১৯৩০ সালে প্রথম ফুটবল বিশ্বকাপ আয়োজিত হয়। সেই শুরু, এরপর থেকে এক মাদকতার নাম “ফিফা ওয়ার্ল্ড কাপ”। বিশ্বকাপের ইতিহাসে রয়েছে অনেক সুখ সৃতি। তার সাথে সাথে মিশে আছে বেশকিছু বিতর্কিত ঘটনা। সেগুলোই জানব আমরা আজ-

দু’বার পেলে লাল কার্ড আর তিনবার হলে!

প্রতিপক্ষের প্লেয়ারকে ফাউল করলে কিংবা খেলা চলাকালীন সময়ে কোন অপেশাদার সুলভ আচরণ করলে খেলোয়াড়দের হলুদ ও লাল কার্ড প্রদান করেন রেফারি। ফুটবলের বেসিক রুলস হিসেবে আমরা এটাই জানি। কিন্তু ২০০৬ সালে জার্মানি বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বের অস্ট্রেলিয়া এবং ক্রোয়েশিয়ার মধ্যকার ম্যাচে এর ব্যতিক্রম দেখা যায়। ক্রোয়েশিয়ার খেলোয়াড় জসিপ সিমুনিককে তিনি পরপর ২ বার কার্ড দেখালেও তাকে লাল কার্ড দেখিয়ে মাঠের বাইরে পাঠানো হয়নি। এই কাজ করে এক বড় ধরনের বিতর্কের জন্ম দেন ওই ম্যাচের রেফারি গ্রাহাম পুল। আসল ব্যাপারটা হলো তিনি যখন প্রথমবার জসিপ সিমুনিকে যে হলুদ কার্ডটি দেখিয়েছিলেন সেটা ভুলক্রমে ১ জন অস্ট্রেলিয়ান খেলোয়াড়ের নামে টুকে রাখেন। নিজের ভুল বুঝতে পেরে জসিপ সিমুনিককে তৃতীয়বারের মতো রেফারি গ্রাহাম পুল হলুদ কার্ড দিয়ে মাঠ ছাড়া করেন। ম্যাচটি শেষ পর্যন্ত ২-২ গোলে ড্র হয়। এহেন কাণ্ড ঘটানোয় বেশ সমালোচিত হন রেফারি

আস্ট্রেলিয়া বলাম ক্র্যোশিয়ার সেই বির্তকিত কার্ড ঘটনা দেখতে ক্লিক করুন এখানে

“পেরু বনাম আর্জেন্টিনা” বিতর্কে ভরপুর এক ম্যাচ

১৯৭৮ আর্জেন্টিনা বিশ্বকাপটি ছিল বিতর্কে ঠাসা এক বিশ্বকাপ। ১৯৭৬ সালে সামরিক অভ্যুত্থান এর মাধ্যমে সামরিক সরকার আর্জেন্টিনার ক্ষমতা দখল সংশয়ের জন্ম দেয় বিশ্বকাপ আয়োজনে। সামরিক শাসনের অধিনায়ক নিজ দেশের এই অস্থিতিশীলতা বিশ্ববাসীর থেকে আড়াল করতে বেছে নেন বিশ্বকাপের মতন আসরকে। এই বিশ্বকাপের প্রথম বিতর্ক সৃষ্টি হয়, যখন দেখা যায় আর্জেন্টিনার প্রতিটি ম্যাচই গ্রুপের অন্যদের ম্যাচের পরে রাতের বেলায় অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ধারণা করা হয় আর্জেন্টিনাকে বড় ধরনের সুবিধা পাইয়ে দিতেই নেয়া হয়েছিল এই ব্যবস্থা। তবে সবচেয়ে বড় বিতর্কটি তৈরি হয়েছিল স্বাগতিক আর্জেন্টিনা ও প্রতিবেশী পেরুর ম্যাচটি ঘিরে। ফাইনালে যেতে আর্জেন্টিনাকে এই ম্যাচে ন্যূনতম ৪-০ গোলে জিততে হতো। অন্যথায় চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ব্রাজিল আগেই উঠে যাবে ফাইনালে। প্রথমার্ধে ২-০ গোলে এগিয়ে থাকা আর্জেন্টিনা দ্বিতীয়ার্ধের খেলায় পেরুর জালে আরও ৪ গোল দিয়ে উঠে যায় ফাইনালে। এদিন পেরুর রক্ষণ বলে কিছু ছিল না আদৌ। সেমিফাইনালের ম্যাচে পেরুর এমন পারফর্মেন্স সে সময়ে অনেক প্রশ্নের জন্ম দেয়। অনেকেই ধারণা করেছিলেন আর্জেন্টাইন সামরিক সরকারের হুমকির মুখে তারা ম্যাচটি ছেড়ে দিতে পেরুর খেলোয়াড়রা বাধ্য হয়েছিলো। এছাড়া আর্জেন্টিনার সামরিক জান্তা পেরুকে উপহার দিয়েছিল বলেও জানা যায়।

পেরুর আত্মসমর্পণ এর ভিডিও দেখতে ক্লিক করুন এখানে

ইংল্যান্ডের বিশ্বকাপজয়ী গোল হয়ে গেল বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু

১৯৬৬ বিশ্বকাপ। ফাইনালে মুখোমুখি হয় ইংল্যান্ড এবং তৎকালীন পশ্চিম জার্মানি। নির্ধারিত সময়ের খেলা ২-২ গোলে সমতা থাকায় খেলা গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। অতিরিক্ত সময়ের ঠিক ১১ মিনিটের মাথায় জিওফ হার্স্টের শট ক্রসবারের একদম নিচে লেগে বলটি নিচে বাউন্স করে। কিন্তু বল গোললাইন অতিক্রম করেছিল কিনা সে বিষয়ে নিশ্চিত সিদ্ধান্ত নিতে পারছিলেন না রেফারি গডফ্রায়েট। সমস্যা সমাধানের জন্যে তিনি শরণাপন্ন হন লাইন্সম্যানের। অনেক সময় ধরে আলোচনার পরে অতঃপর গোল হিসেবে ঘোষণা দেন। কিন্তু জার্মানরা আজও সেটি মেনে নিতে পারেননি। তাদের মতে বল গোল লাইন পার তো দূর কি বাত স্পর্শ পর্যন্ত করেনি। কিন্তু কপালের লিখন না যায় খণ্ডন, এই বিতর্কিত গোলেই নিজেরদের একমাত্র বিশ্বকাপ হাতে নেয় ইংল্যান্ড।

হায় জিদান! হায় ফ্রান্স!!

১৯৯৮’র বিশ্বকাপে ঘরের মাঠে জিনেদিন জিদানের পায়ে ভর করে শিরোপা জিতে ফ্রান্স। ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি হতে পারত আবার। কিন্তু সঠিক সময়ে নিজের মেজাজকে কন্ট্রোল করতে না পারায়, বিশ্বকাপের শেষ ম্যাচ থেকে ছিটকে যেতে হয় লাল কার্ড খেয়ে। ২০০৬ বিশ্বকাপে জিদানের এমন কাণ্ডে অবাক হয়েছিলেন ফুটবল বিশ্বের অনেকেই। কারণ দুর্দান্ত ফর্মে থাকা জিদান সেদিন ছিলেন দারুণ ছন্দে। সেই ম্যাচে রাগের মাথায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ইতালির ডিফেন্ডার মার্কো মাতেরাজ্জিকে মাথা দিয়ে ঢুস মেরে বসেন ফরাসি ফুটবলের কিংবদন্তী খেলোয়াড় জিনেদিন জিদান।পরে অবশ্য জানা যায় এমনি এমনি তিনি এমন করেননি। জিদানকে গেইম থেকে কনসেন্ট্রেশন নষ্ট করার জন্যে নাকি মাতেরাজ্জি তার মা-বোনকে উদ্দেশ্য করে নোংরা গালি দেয়। যার পরিপ্রেক্ষিতে তিনি মেরে বসেন ঢুস। ফাইনালের সেই ম্যাচে জিদান বিহীন ফ্রান্স ইতালির কাছে পেনাল্টিতে বিশ্বকাপ হেরে যায়।

এক ঢুসেই স্বপ্ন ভঙ্গ জিদান আর ফ্রান্সের

জিদানের সেই বিখ্যাত ঢুস দেখতে ক্লিক করুন ঠিক এখানে

“ব্যাটেল অব সান্তিয়াগো”- যে ম্যাচে খেলার চাইতে পেশীশক্তির জোর বেশি দেখা যায়

১৯৬২ সালের বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হবে চিলিতে। এই ব্যাপারটা অনেকেরই পছন্দ হয়নি,বিশেষ করে ইউরোপীয় দেশগুলোর।গ্রুপ পর্বের দ্বিতীয় ম্যাচে চিলি-ইতালি ম্যাচেই রেষারেষিটা প্রকট হয়ে ওঠে।  তবে সূত্রপাত মাঠের ভেতরে নয়, বাইরে। সে ম্যাচের আগেই ইতালির কিছু সাংবাদিক চিলিকে হেয় করে নিজেদের পত্রিকায় কিছু লেখা লিখেছিলেন। লেখাগুলোতে ছিল চিলির প্রতি বিদ্বেষ।

সংবাদপত্রে এমন কিছু প্রকাশ করা হয়, যেখানে বলা ছিল যে-

“চিলিকে বিশ্বকাপ আয়োজন করতে দেওয়াটা মূর্খতা ছাড়া আর কিছুই নয়। না এখান থেকে করা যায় ফোন, না পাওয়া যায় সময় মতন ট্যাক্সি । এক শহরের ভিতরেই একটি চিঠি পৌঁছাতে সময় লাগে ৫ দিন। আর এমন দেশ আয়োজন করছে বিশ্বকাপ”।

- Advertisement -

   চিলিয়ান ফুটবলাররা এহেন সংবাদে ভেতরে-ভেতরে ক্ষুব্ধই ছিলেন। আর যা হবার তাই হলো, ম্যাচটি ছিল মারামারিতে ভরা এক ম্যাচ। দর্শকেরা সেদিন ফুটবলের বদলে দেখেছিলেন কুস্তি। এর শুরুটা হয় খেলা শুরুর ১২ সেকেন্ডের মধ্যেই। ইতালির ডিফেন্ডার জর্জিও ফেরেনি ফাউল করে বসেন। ১২ মিনিটের দিকে ফেরেনি আবার ফাউল করলে রেফারি তাকে বাইরের রাস্তা প্রদর্শন করেন। কিন্তু তিনিও ঘাড়ের রগ বাঁকা করে, রেফারিকে পাত্তা না দিয়ে খেলা চালিয়ে যেতে থাকেন। পরে পুলিশ ঢুকে তাকে টেনে হিঁচড়ে বাইরে নিয়ে যায়। এরপর থেকে শুরু হয় দু’দলের মেরে খেল নীতিতে খেলা। খেলার মধ্যে একটা সময় পুলিশকে মাঠে ঢুকতে হয়েছে খেলোয়াড়দের মারামারি থামাতে। ইতিহাসে এই ম্যাচ তাই ‘ব্যাটেল অব সান্তিয়াগো’ নামে কুখ্যাত। এই ম্যাচের ইম্প্যাক্ট এতটাই ছিল যে, ম্যাচের পরপরই ফিফা ফুটবল ম্যাচে লাল ও হলুদ কার্ডের প্রচলন করে। যা আজও প্রচলিত।

ব্যাটল অফ ন্যুরেমবার্গ’ পেশি শক্তির আরেক মহড়া

২০০৬ সালে জার্মানি বিশ্বকাপের প্রি-কোয়ার্টার ফাইনালে মুখোমুখি নেদারল্যান্ডস-পর্তুগাল। দুই দলেরই সু্যোগ সেমিফাইনালে খেলা। তাই দুইদলই আক্রমনাত্মক মনোভাব নিয়ে মাঠে খেলতে থাকে। এই ম্যাচে আলোচিত হয় যার আচরণ তিনি হলেন রেফারি নিজেই। খেলায় কোনভাবেই শৃঙ্খলা আনতে পারেননি তিনি বরং কারনে-অকারনে কার্ড দেখাতে থাকেন। এই ম্যাচকে ঘিরে দুই দল সর্বমোট ১৬টি হলুদ কার্ড ও চারটি লাল কার্ড দেখান রেফারি ভ্যালেন্টিন ইভানভ।

ম্যাচের ওপর তার নিয়ন্ত্রণ ছিল না দেখে অনেকেই ধীক্কার জানান এই রেফারিকে । তার তীব্র সমালোচনা করে তৎকালীন ফিফা সভাপতি শেপ ব্লাটার বলেন, “রেফারিকেই হলুদ কার্ড দেখানো উচিত ছিল”।

“হ্যান্ডস অব গড”-আসলেই কি যিশু ভর করেছিল ম্যারাডোনার উপর?

সেদিন এই হাতই পেয়েছিল ঈশ্বরের হাতের মর্যাদা!!

৮৬’র বিশ্বকাপের শুরু থেকেই সবার নজর কেড়েছিলেন ডিয়েগো ম্যারাডোনা। তবে কোয়ার্টার ফাইনালে বিশ্বকাপের পুরো আলো নিজের ওপর নিয়ে নেন তৎকালীন এই আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে জোড়া গোল করে একাই সেমিফাইনালে তোলেন আলবিলেস্তেদের। ওই ম্যাচেই ইতিহাসের অন্যতম সেরা এক গোলের সঙ্গে করেছেন বিতর্কিত এক গোল। ইংল্যান্ড এবং আর্জেন্টিনার দ্বৈরথে প্রথমার্ধের খেলা গোলশূন্য থাকে। এরপর প্রবল আক্রমণ চালায় আর্জেন্টিনা। পরে দ্বিতীয়ার্ধের ৬ মিনিটের একবারের শেষের দিকে ইংল্যান্ডের ডি বক্সের ভিতরে উড়ে আসা বলকে হেড দিতে লাফিয়ে ওঠেন ম্যারাডোনা, আর ওই বলটিকে সরিয়ে দিতে লাফান ইংলিশ গোলরক্ষক পিটার শিল্টন। কিন্তু হেড না করে ম্যারাডোনা কৌশলে হাত দিয়ে বলটি জালে জড়িয়ে দেন। ৫১ মিনিটে ‘হাত দিয়ে’ লক্ষ্যভেদ করা এই বিতর্কিত গোলটিকে ডাকা হয় ‘হ্যান্ড অব গড’ নামে। মিনিট চারেক পর করা গোলটিতে অবশ্য ফুটে ওঠে ফুটবলের আসল সৌন্দর্য। আবার গোল করেন কিংবদন্তি ম্যারডোনা। মাঝমাঠ থেকে একক প্রচেষ্টায় ইংল্যান্ডের ছয় খেলোয়াড়কে কাটিয়ে ম্যারাডোনা করেন ‘গোল অব দ্য সেঞ্চুরি’। আর্জেন্টাইন ফুটবল ঈশ্বরের জাদুতে লাতিন আমেরিকার দেশটি সেমিফাইনাল নিশ্চিত করে ২-১ গোলে। ম্যারডোনা জানতেন তার হাতের স্পর্শেই হয়েছে গোলটি, কিন্তু তবুও তিনি তার সতীর্থদের সাথে উল্লাস করতে থাকেন যাতে রেফারি ব্যাপারটা বিশ্বাস করে।

এ সম্পর্কে ম্যারডোনা বলেন-

“ম্যারাডোনার একটু বুদ্ধি তার সাথে ঈশ্বরের হাত। আমি আমার সহকর্মীদের আমাকে আলিঙ্গন করার জন্য আহবান করছিলাম,  কিন্তু কেউ আসছিল না … আমি তাদের বলেছিলাম, ‘আসো, আমাকে জড়িয়ে ধরো, অথবা রেফারি এটাকে বাতিল করে দিবে।‘”

   ট্রফি হাতে বিমানবন্দরে দাঁড়িয়ে ম্যারাডোনা তৃপ্তির সাথে বলেছিলেন, বিশ্বকাপের চাইতে ইংল্যান্ডকে হারানোটাই নাকি তার কাছে বেশী তৃপ্তির! সেই ম্যাচের পরে গোলকিপার পিটার শিলটন অনেক বছর ম্যারাডোনার মুখদর্শনও করেননি। তার পরিষ্কার জবাব ছিল- “একটা চোরের সাথে একসঙ্গে বসার মতো অযোগ্য এখনও আমি হইয়ে উঠতে পারিনি।”

“হ্যান্ড অফ গোল” দেখতে ক্লিক করুন এখানে

চলছে রাশিয়া বিশ্বকাপ ২০১৮। এবারের বিশ্বকাপ নিয়ে আমার বাকি লেখাগুলো চাইলে পড়তে পারেন এখান থেকে-

রাশিয়া বিশ্বকাপ : ফুটবল এখন তুযারশুভ্র দেশ “রাশিয়ার” পথে (পর্ব :১)

টিম রিভিউ : আর্জেন্টিনা (পর্ব : ২)

টিম রিভিউ (পর্ব : ৩) : ব্রাজিল- হৃদয়ে যাদের ফুটবল, পারবে কি এবার হেক্সা জয় করতে?

টিম রিভিউ (পর্ব ৪): জার্মানি

বিশ্বকাপের মঞ্চে জাপানীদের পরিচ্ছন্নতা অভিযান এবং আমাদের অবস্থা

কানের পাশ দিয়ে গুলি ছুঁয়ে যাওয়া বুঝি একেই বলে!!

মন্তব্য
লোডিং...