এবার পুরো পৃথিবী বাংলায়

নিউটন- এই উল্টো দুনিয়ায়, সোজা পথে চলা একজন মানুষ

133

আজকে আপনাদের একদম সাদামাটা ছিমছাম কিন্তু গভীর অর্থবহ মুভির গল্প বলব, যে গল্প আমদের এই উপমহাদেশের জন্য এতটাই কমন-ফ্যাক্ট যে আমরা একে গল্প হিসেবে হয়তো নিতে পারবনা। এ গল্প নিউটন নামের একব্যাক্তির স্রোতের বিপরীতে চলার গল্প।

আব্রাহাম লিংকন, আমেরিকার ১৬তম প্রেসিডেন্ট। যাকে আমরা মোটামুটি সবাই চিনি। ১৮৬৩ সালের ১৯ নভেম্বর তিনি পেন্সেলভেলিয়াতে এক ভাষণে গণতন্ত্র নিয়ে এক যুগান্তকারী কথা বলেছিলেন, যেটি আজও সর্বমহলে সমাদৃত।

“Government by the people, for the people, of the people”

   যার অর্থ দাড়ায়-“গণতন্ত্র হল ‘জনগণের দ্বারা গঠিত, জনগণের জন্য এবং জনগণের সরকার”। কিন্তু এই ভারতীয় উপমহাদেশের জন্যে এই কথাটি ঠিক কিছুটা উল্টো। এখানে সরকারের জন্যেই আমরা এই জনগণ। গণতান্ত্রিক সরকার কাঠামোর মূল ভীত হল, ‘নির্বাচন’। পৃথিবীর সবথেকে বড় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ভারতে, সেই ভারতের এক প্রত্যন্ত অঞ্চলের নির্বাচন নিয়ে গড়ে উঠা গল্প “NEWTON”। অমিত মাসুরকার পরিচালিত এবং রাজকুমার রাও অভিনীত “নিউটন” একটি পলিটিকাল স্যাটায়ার ঘরানার ফিল্ম ।

নিউটন কুমার। একজন ছাপোষা সরকারি ক্লার্ক,  যে কিনা নিজের দায়িত্ব পালনে সর্বদা তৎপর থাকে। জাতীয় নির্বাচনে ছত্তিশগড়ের সংঘাত-বিচলিত জঙ্গলে নির্বাচনের জন্যে প্রিসাইডিং অফিসার হিসেবে দায়িত্বে পাঠানো হয় তাঁকে, যার অধিকাংশ নকশালদের নিয়ন্ত্রণাধীন। অস্থিতিশীল এই অঞ্চলের কিছুটা নিয়ন্ত্রণ সেনাবাহিনীর হাতে থাকলেও তাঁরা চায় না সেখানে কোন প্রকার ভোটাভুটি হক। একদিকে নির্বাচনকে ঘিরে নিরাপত্তা বাহিনীর উদাসীনতা এবং অপরদিকে কমিউনিস্ট বিদ্রোহীদের দ্বারা গেরিলা হামলায় নির্বাচন পণ্ড হবার ভয়। এইসব ভয় ভীতিকে সামনে নিয়েই এগোয় নিউটন কুমার তাঁর দল। অনেক বাধা-বিপত্তি পেরিয়ে নিশ্চিত করে সুবিধা বঞ্চিত মানুষের ভোটাধিকার। এই হল মুভির প্লট। কাহিনী কিছুটা সাদামাটা, নেই কোন আচমকা টুইস্ট এন্ড টার্নের বালাই। কিন্তু এই মুভি যে নির্মম বার্তা বহন করছে তা আপনার মনকে নাড়া দিবে। একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের নাগরিক হিসেবে নিজের ন্যায্য অধিকার সম্পর্কে ভাবাবে।

এই মুভিতে নিউটন কুমারের চরিত্রে অভিনয় করেছেন অন্যতম প্রতিভাবান শিল্পী রাজকুমার রাও। তাঁকে ঘিরেই এই ছবির ঘটনা আবর্তিত হয়। নিউটন কুমার চরিত্র হিসেবে এতটা আদর্শবাদী যে,  তিনি তার দায়িত্বটি পূরণ করতে যতক্ষণ না পর্যন্ত সফল হচ্ছেন ততক্ষণ তিনি লেগে থাকেন। দুর্নীতি ও শোষণের বেড়াজালের কারণে হয়তো সে বাড়বারই বিফল কিন্তু হারিয়ে যায়না তাঁর যোশ। রাজকুমার রাও তার জ্বলজ্বলে চোখের চাহনি দিয়ে খুব নিপুণভাবে নিষ্ঠার সাথে এই ভূমিকা পালন করেছেন।  একজন অভিনেতার হিসেবে নিউটনের ব্যক্তিত্বের বৈশিষ্ট্যগুলি রাজকুমার রাও খুব ভালভাবে সংজ্ঞায়িত করতে পেরেছেন।  এই চরিত্রটি  এছাড়া আরেকটি চরিত্র আপনার মনে দাগ কাটতে সক্ষম হবে, দলিত সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি মালকো। এই চরিত্রে অভিনয় করেছেন, অঞ্জলি পাটেল। এছাড়া আর্মির কমান্ডার হিসেবে অভিনয় করেছেন আরেক শক্তিশালী অভিনেতা পঙ্কজ ত্রিপাটি। এই ছবিতে অহেতুক কোন চরিত্রের আগমন নেই, ছবির প্রয়োজনেই সব চরিত্রের সমাবেশ ঘটেছে। সিনেমাটিতে দারুণ প্লটের পাশাপাশি পরিচালনা ছিল অসাধারণ। পরিচালক অমিতের কাজের সত্যিই প্রশংসা করতে হয়।  ক্যামেরার কাজ ছিল অত্যন্ত ভালো সাথে যথাযথ মানের মিউজিক। এক কথায় সবকিছুর মিলে যেন একটি দুর্দান্ত কম্বো। দর্শক হিসেবে সিনেমা আমি খুবই উপভোগ করেছি। মুভির একদম শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত আমি মুগ্ধ হয়ে চেয়ে দেখেছি। শুধু আমি নই, সমালোচকরাও এ সিনেমাকে যে সাদরে গ্রহণ করেছেন সেটা তাঁদের রেটিং ও রিভিউ দেখলে বুঝা যায়।

২০১৭ সালে ইন্ডিয়া থেকে অস্কারের মঞ্চে “বেষ্ট ফরেইন ফিল্ম”-ক্যাটাগরিতে এই সিনেমা পাঠানো হয়েছিলো, আর দেশের বাইরে বেশ কয়েকটি ফ্লিম ফেস্টিভ্যালে সিনেমাটি প্রশংসিত হয়েছিল মুভিটি।

প্রডাকশন হাউজঃ দ্রিশ্যাম ফিল্মস

অভিনয়ে:  রাজকুমার রাও, অঞ্জলি পাতিল, পঙ্কজ ত্রিপাটি,  রাঘবীর যাদব

পরিচালক: অমিত ভি মাসুরুর

স্ক্রিন-রাইটার: মায়াঙ্ক তিওয়ারি এবং  অমিত ভি মাসুরুর

প্রযোজক: মনিষ মুন্ড্রা এবং  প্রমীলা মুন্দ্রা

রান টাইম: ১০৬ মিনিট

IMDB রেটিংঃ ৭.৮/১০

মুভির ট্রেইলারঃ https://youtu.be/yU6zMPFd4UU

মন্তব্য
লোডিং...