এবার পুরো পৃথিবী বাংলায়

সত্যিকারের ‘ভূত’ জীবন বাঁচিয়েছে যাদের!

সত্যিকারের ভূত জীবন বাঁচিয়েছে। বিশ্বাস অবিশ্বাস আপনার হাতে!

419

আমার মতন ভীতু মানুষের কাছে ভূত ভয়ঙ্কর হতে পারে, কিন্তু তারা সব সময় বিপজ্জনক নয় বলেই আমার ধারণা। পৃথিবীর সকল প্রান্তেই দৈত্যি-দানবের গল্প আছে, কিন্তু আমার মতে ভূতেরাও হয়ত একটু একা থাকতেই পছন্দ করে। সবাই যে আবার ভূতে বিশ্বাস করে তা নয়, তবে এই বিশ্বেই কিছু কিছু লোক আছে যারা বিশ্বাস করে যে ভূত মানুষের জীবনও বাঁচাতে পারে। সেরকমই কিছু ‘সত্য’ ঘটনা আজ তুলে ধরবো আজকের লেখায়।

ছবিঃ ক্লারা মুর (ডানে)  Source: Pinterest
১. ধূসর মানুষটিঃ

দক্ষিণ ক্যারোলিনার পলিস দ্বীপের ছোট শহরটি যেমন চমৎকার সৈকত, ঐতিহাসিক দালান ইত্যাদির জন্য বিখ্যাত, তেমনি ভূতের উপদ্রবের কারনেও পরিচিত বলা চলে। তন্মধ্যে, ধূসর মানুষ নামে পরিচিত ভূতটি অন্যতম। বিগত ২০০ বছরে ওই এলাকায় কোন শক্তিশালী হ্যারিকেন আঘাত করার আগে এই রহস্যময় ধূসর অবয়বটিকে অনেকেই বহুবার দেখেছে। আর এর মাধ্যমে এই ধূসর মানুষটি বহু মানুষের জীবন রক্ষা করেছে বলেই এলাকাবাসীর বিশ্বাস।

একটি আরবান লেজেন্ড বা শহুরে কিংবদন্তী মনে হচ্ছে, তাই না? আগে তো পুরোটা শুনুন। জিম এবং ক্লারা মুরও ১৯৮৯ সালে হারিকেন হুগো আঘাত করার দুই দিন আগে এই ধূসর মানবের সাক্ষাত পেয়েছিলেন। পরবর্তীতে একটি জনপ্রিয় টিভি শো তে এই রহস্যের গল্পটিও করেছিলেন। জিমের মতে, “আমরা সেদিন বিকেলের দিকে হাঁটতে বেরিয়েছিলাম, যেটা আমাদের প্রতিদিনেরই অভ্যাস। সেই সময় বিচে প্রচুর মানুষও হাঁটতে বা গল্পগুজব করতে বের হয়। কিন্তু সেদিন বিকালে আমরা শুধুমাত্র একজনকেই দেখেছিলাম। ধূসর আকৃতির লোকটি ঠিক আমাদের দিকেই সরাসরি হেঁটে আসছিল। আমি তাকে শুভ সন্ধ্যা জানানোর জন্য হাতও ইশারা করেছিলাম। হঠাৎ লোকটি চোখের সামনেই উধাও হয়ে গেল।”

যদিও হ্যারিকেনে জিম এবং ক্লারা এর আশেপাশের মানুষেরা খুব দুর্ভোগে ছিল, কিন্তু কোন এক অদৃশ্য ক্ষমতাবলে তাদের বাড়ি সামান্য কিছু ক্ষয়ক্ষতি নিয়েই ঝড়ের হাত থেকে বেঁচে যায়।

কেউই জানেনা কে এই ধূসর মানব, তবে কেউ কেউ বলে, সে ছিল একজন জলদস্যু। আবার এমনও প্রচলিত আছে যে, সে ছিল এক সুদর্শন যুবক, যে কিনা তার পছন্দের কোন এক নারীর পানে চেয়ে থাকতে থাকতে চোরাবালিতে পড়ে মারা যায়। যুবকটি মৃত্যুর অনেকদিন পর হঠাৎ একদিন তার প্রেমিকার সামনে হাজির হয় এবং তাকে সতর্ক করে দেয় এলাকা ছেড়ে চলে যেতে। সেই মেয়ের পরিবার তাই করেছিল। এর কিছুদিন পরেই এক বিশাল ঘুর্নিঝড় এসে সেই দ্বীপটিতে আঘাত হানে। তারপর থেকে সেই লোকটিই তার সেই প্রেমিকার টানে তাকে সতর্ক করার জন্য বারবার ফিরে আসেন। শুনতে কিছুটা ফ্লাইং ডাচম্যানের মত শোনালেও ঘটনা বিপরীত।

ছবিঃ ১১ই ডিসেম্বর, ১৯০৭ সালের শিকাগো ট্রিবিউনের ৬ষ্ট পাতার কপি Source: chicagotribune.newspapers.com
২. স্ত্রীর সতর্কতাঃ

ঘটনাটি শিকাগো ট্রিবিউন-এ ছাপা হয়েছিল। ঘটনাটি এমন যে, চার্লস হেনরি ডুরান্ড নামক এক কৃষক সন্ধ্যার পরে দেরি করে বাড়ি ফিরছিলেন। হঠাৎ করে মাঝ রাস্তায় তার ঘোড়াটি হাঁটা  বন্ধ করে দেয়।  অনেক চেষ্টা করেও ঘোড়াটিকে আর সামনের দিকে নিতে পারেন নি তিনি। হঠাৎ তার চারপাশের বাতাস ভয়ংকরভাবে ঘুরতে শুরু করে ও তার মাঝকানে একটি ছোট্ট আলো ধীরে ধীরে মহিলার আকৃতি নিতে শুরু করে।

এমতাবস্থায় ডুরান্ড দৌড়ে পালাতে চেষ্টা করেন, কিন্তু ভয়ে তার হাড় শক্ত ও শরীর হিম হয়ে আসে। আলোর অবয়বটি তখন ফিসফিস করে বলে ওঠেঃ “বাড়িতে বিপদ আছে, সকাল পর্যন্ত বাইরে থাকো।” ডুরান্ড গলার স্বর শুনে বুঝতে পারেন এটি ছিল তার মৃত স্ত্রীর গলা। এই সতর্কবাণী বলার সাথে সাথেই আলোর অবয়বটি উধাও হয়ে যায় ও বাতাসে মিলিয়ে যায়।

সারা রাত বাইরে থেকে সকালে ডুরান্ড ঘরে ফিরেই খেয়াল করলেন, তার বাড়ির একটি জানালা ভাঙ্গা ও খোলা। তিনি আরো লক্ষ্য করলেন বাড়ির চারপাশে ও ভেতরে কতগুলো ময়লা পায়ের ছাপ। তিনি সাবধানে ঘরের ভেতরে ঢুকে চারপাশ খেয়াল করতে আবিষ্কার করলেন, তার ছাতার মাথা থেকে একটি স্ট্রিং টানা। স্ট্রিং’টির অপর পাশে ছিল একটি বন্দুক, যেটির নলটি ছিল ঠিক তার বুক বরাবর। যদি রাতে ডুরান্ড বাসায় ফিরে আসতো, তাহলে নিশ্চিত অন্ধকারে এই স্ট্রিং এ পা লাগলেই বুক ঝাঁজরা হয়ে যেত বন্দুকের গুলিতে। ডুরান্ড পত্রিকাটিকে বলেছিলেন যে তিনি মারাই যেতেন, যদি না তার মৃত স্ত্রী তাকে সাবধান করে দিতেন।

ছবিঃ সোনিয়া বারটন Source: mirror.co.uk
৩. ৫৬ মিনিটের জন্য মৃত মহিলাঃ

৫০ বছর বয়েসী সোনিয়া বারটনকে জীবন্ত মিরাকল বলে ধরা হয়। কারণ এই মহিলা হঠাৎ করে হার্ট অ্যাটাকের হয়ে ৫৬ মিনিটের জন্য মারা গিয়েছিলেন। সেদিন সোনিয়ার দিনটি অন্যান্য আর দশটি দিনের মতই শুরু হয়েছিল। প্রতিদিনের মত তিনি কাজের উদ্দেশ্যে বিঙ্গো হলে উপস্থিত হন। কিন্তু তার শিফ্ট শুরু হওয়ার পর থেকেই হঠাৎ করে বুকের মধ্যে ব্যথা অনুভূত হয় এবং এক পর্যায়ে তিনি পড়ে হয়। আশেপাশের সবাই খবর দিলে দ্রুত একটি প্যারামেডিক দল সেখানে উপস্থিত হয় এবং পরবর্তি ৫৬ মিনিট সোনিয়াকে বাচিয়ে রাখতে চেষ্টা করে যায়। এই সময় তাকে হসপিটালে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। বলা হয় সেই ৫৬ মিনিটের ভেতরে সোনিয়া তার স্বামীর স্বামী জন এর কাছে থেকে একটি বার্তা পেয়েছিলেন। জন ২০০৪ সালে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গিয়েছিলেন।

সোনিয়া বলেনঃ “যতটুকু আমার মনে আছে, আমার স্বামী আমার কাছে এসে আসল এবং বলল, ‘এখনও তোমার সময় আসে নি সোনিয়া। বাচ্চাদের কাছে ফিরে যাও।’ তারপর দেখি আমি হাসপাতালে।”

ছবিঃ উল্টানো গাড়ি (বামে) ও সংবাদ সম্মেলনে অফিসার ব্রায়ান ডেইট (ডানে মাঝের ব্যাক্তি) Source: nydailynews.com
৪. মায়ের ভূতঃ

২০১৫ সালের মার্চে পুলিশের ইমার্জেন্সি রুমে একটি রিপোর্ট আসে যে বরফের নদীতে একটি গাড়ি উল্টেছে। যখন তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছায়, তখন সেখানে একটি মহিলা এবং একটি শিশুকে দেখেছিল যে তার মায়ের গাড়িটির পিছনের আসনে সিতবেল্ট বাঁধা অবস্থায় নদীতে ঠাণ্ডা বরফের উপরে উল্টো হয়ে ঝুলছিল।

ঘটনা এখানেই আলৌকিক রুপ নেয়। যখন উদ্ধারকারীরা দুর্ঘটনাস্থলে প্রবেশ করে, তখন তারা সাহায্যের জন্য একটি ভয়েস শুনতে পায়। ২৫ বছর বয়সী মা ইতিমধ্যেই মারা গিয়েছিল বটে, কিন্তু কর্মকর্তারা শপথ করে বলেছিলেন যে তারা একটি প্রাপ্তবয়স্ক নারী কণ্ঠস্বর শুনেছিলেন যে কিনা সাহায্যের জন্য তাদের আহ্বান করছিল।

স্প্যানিশ ফোর্ক পুলিশ ডিপার্টমেন্টের কর্মকর্তা জেরার্ড ওয়ার্নার সর্বপ্রথম গাড়ির কাছে পৌঁছান। তিনি ডেজার্ট নিউজকে বলেন যে, “আমরা সবাই সেখানে একত্রে মিলিত হই এবং এই দুর্ঘটনার সম্পর্কে আলোচনা করতে শুরু করি। এবং আমাদের চারজনের শপথ, আমরা ঠিক তখনই গাড়ির ভেতর থেকে কারো গলার শব্দ শুনতে পাই, ‘Help!’।

অফিসার ব্রায়ান ডেইট নামের এক পুলিশ কর্মকর্তাও ঘটনাস্থলে ছিলেন। তিনি বলেন, “সেখানে শুধুমাত্র মৃত মায়ের দেহ এবং শিশুটি ছিল।” অফিসার টেইলর বেডোস ও অন্য একজন কর্মকর্তা বলেন যে, এটার কোন ব্যাখ্যা তাদের কাছে নেই, তবে তারা যে শুনেছেন এতে কোন সন্দেহ নেই।

অফিসার বেডোস ডেসার্ট নিউজকে বলেছিলেন , “এটা শুধু আমাদের মাথার মধ্যে কিছু একটা ছিল এমন না। আমি নিশ্চিত এটি একটি সাধারণ শব্দ ছিল কারণ আমরা সবাই একটি কণ্ঠস্বর শুনতে পেয়েছি। আমার মনে আছে ডেইট এর প্রতিউত্তরে জানিয়েছিল, ‘আমরা আমাদের সেরা চেষ্টা করছি ওখানে পৌঁছানোর জন্য।’ এটাকে কিভাবে আপনি যে ব্যাখ্যা করবেন? আমি জানি না।”

এছাড়াও, শিশু লিলির বেঁচে যাওয়াটাও আরো একটি অলৌকিক ঘটনা। কারন সে কোন খাবার ও পানি ছাড়া প্রায় ১৪  ঘণ্টা তার গাড়ির সিটে উল্টো হয়ে ঝুলে ছিল। তার মাথার নীচে প্রবাহিত বরফের নদী এবং সে রাতের তাপমাত্রাও ছিল প্রায় ফ্রিজিং টেম্পারেচারের কাছাকাছি।

উৎস Beyond Science
মন্তব্য
লোডিং...