এবার পুরো পৃথিবী বাংলায়

সায়েন্স ফিকশন- ওরিসিস ও তূর্য

262

- Advertisement -

৮ দিন ভ্রমণের পর অবশেষে মহাকাশযানটি পৃথিবীর বাংলাদেশ নামক একটি দেশে অবতরণ করলো। যানটির এক অংশের দরজা খুলতেই দেখা গেল একটা  মূর্তি। সেই মূর্তিটি ধীরে ধীরে যান থেকে নামতে লাগলো। এই মূর্তিই হলো টাইরট। টাইরট এসেছে গ্লিস নামক গ্রহ থেকে। সে এসেছে তার বন্ধু ওরিসিসকে খুঁজতে। ওরিসিস গতমাসে এসেছিলো পৃথিবীর বাংলাদেশে। কিন্তু একমাস ধরে তার কোনো খোঁজ নেই। তাই টাইরট এসেছে তাকে খুঁজতে।

- Advertisement -

ওরিসিস পৃথিবীর বাংলাদেশে বেড়াতে এসে তার যন্ত্রটি হারিয়ে ফেলে। এই যন্ত্রটির মাধ্যমে সে তার গ্রহের সাথে যোগাযোগ করে। কিন্তু হঠাৎ সেটা হারিয়ে যাওয়ায় সে নিজের গ্রহের যোগাযোগ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে করে। সে আশ্রয় নেয় একটা ছেলের ঘরে রাখা কিছু পুতুলের পিছনে। সেই ঘরটি তূর্য এর ঘর। তূর্য অষ্টম শ্রেণির ছাত্র। তূর্যের বাড়িতে ওর মা,বাবা থাকে। তূর্য ওর ঘরের পুতুলগুলো সরাতে গিয়ে একটি নতুন পুতুল দেখে। নীল রঙের অদ্ভুত একটা পুতুল। সে পুতুলটিকে হাতে ধরে দেখতে থাকে। হঠাৎ একটা কণ্ঠস্বর ভেসে আসে কানে, “তূর্য”। তূর্য অবাক হয়ে চারদিকে তাকায়। কাওকেই দেখতে পায় না সে। হঠাৎ নিচে চোখ পরতেই দেখে পুতুলটা হাত নাড়াচ্ছে। সে ভয় পেয়ে যায় এবং সাথে সাথে পুতুলটিকে দেয়ালে ছুড়ে মারে। এই পুতুলটিই ওরিসিস যাকে পুতুল ভেবে তূর্য হাতে নিয়ে ছিলো। দেয়ালে ছুড়ে মারায় ওরিসিস বেথা পেয়ে তূর্যকে বলে,”উফফ, এতো জোরে কেও ছুরে মারে? আমি বেথা পেয়েছি অনেক।” তখন তূর্য ভয়ে ভয়ে বলে,”কে তুমি?” ওরিসিস বলে,” আমি ওরিসিস, আমি গ্লিস নামক গ্রহে থাকি। ভয় পেয়ো না আমি তোমাকে কিছু করবো না।” এটা শুনে তূর্য একটু সামনে এসে বলে,”তুমি আমার ঘরে কি করে এলে?” ওরিসিস তখন বলে,” আমার একটা প্রয়োজনীয় যন্ত্র হারিয়ে গেছে যেটা দিয়ে আমি আমার গ্রহের সাথে যোগাযোগ করতে পারতাম। এখন এখানে কিছু বিজ্ঞানী আমাকে আটকে রাখতে চায়। তাই আমি তোমার ঘরে এসে আশ্রয় নিয়েছি।” একথা শুনে তূর্যের মনে পড়ল যে গতকালই ওর বিজ্ঞানী মামা এসেছিলো এবং বলেছিলো যে একটি এলিয়েন পৃথিবীতে এসে বাংলাদেশে এসেছে এবং এখনও এখানেই আছে। ওকে ধরার জন্য চারদিকে খবর পাঠানো হয়েছে। অন্যদিকে টাইরট ওরিসিসকে খুঁজে বেড়াচ্ছে। একদিন টাইরট রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় ওরিসিসের যন্ত্রটিকে খুজে পায়। সে বুঝতে পারে যে ওরিসিস এই শহরেই আছে। সে খুঁজতে থাকে তাকে পাগলের মতো। এদিকে তূর্য আর ওরিসিসের মধ্যে খুব ভাব হয়। একদিন তূর্যকে ওর মামা বলে যে একটা এলিয়েন ধরা পড়েছে। সাথে সাথে তূর্য ওরিসিসকে এই খবরটি জানায়। ওরিসিস বুঝতে পারে যে এটা টাইরট। বিজ্ঞানীরা টাইরটকে বন্দি করেছে। সে আর তূর্য প্ল্যান করে। তূর্য ওর মামাকে বলে যে সে ওই এলিয়েনটিকে সে দেখতে চায়। মামা না করার স্বত্তেও সে জোর করে মামাকে রাজি করায়। ওরিসিস আকারে ছোট হওয়ায় তূর্য ওকে তার ব্যাগে করে নিয়ে যায়। সেখানে তূর্যকে আলাদা করে টাইরটকে দেখাতে নিয়ে যাওয়া হয়। টাইরটকে যেই ঘরে বন্দী করে রাখা হয়েছে সেই ঘরে ৪জন রক্ষী ছিলো। ওরিসিস তার নিজের ম্যাজিক দিয়ে ওই রক্ষীদের বেহুঁশ করে দেয়। টাইরটকে মুক্ত করে। তারপর টাইরট আর ওরিসিস নিজের গ্রহে ফিরে যাওয়ার জন্য মহাকাশযানের দিকে রওনা হয়। সাথে তূর্যও যায়। সে মহাকাশযানটিকে দেখে অবাক হয়ে যায়। তারপর শেষবারের মতো তূর্য ওরিসিসকে বিদায় জানায়। তূর্য চলে যাওয়া মন থেকে মেনে নিতে পারে না। তবুও ওরিসিসের কথা ভেবে সে তাকে বিদায় জানায়। মহাকাশযানটি গ্লিসের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করে। পরেরদিন সকালে চারিদিকে হুল্লোড় দেখা যায় কারণ ওই এলিয়েনটিকে পাওয়া যাচ্ছে না। এটা শুনে তূর্য মনে মনে হেসে ওঠে আর বলে,”ভালো থেকো ওরিসিস”…

মন্তব্য
লোডিং...