এবার পুরো পৃথিবী বাংলায়

পানির নিচে ভয়ঃ পৃথিবীর ভয়াবহ কয়েকটি পুকুর

540
https://backpackerverse.com

ছাতিম গাছে ভূতের বাসায়

থাকে ভূতের দাদা।

কাদা ছুড়ে মারল সেথায়

দুষ্ট ছেলে হাদা

রেগেমেগে ভূতের দাদা

করল বিষম পণ

শাসাতে না পারলে হাদা

রাখবে না জীবন ।

পণ করেছে বেশ করেছে

তাই বলে এমন ?

মানুষ মরে ভূত হয়েছে

ভূতের কি জীবন !

-মোঃ জাবেদ হোসেন

ছোটকালে এরকম অনেক ভূতের কবিতা আর গল্প পড়ে আমরা বড় হয়েছি । বড় হয়েও ভূত নিয়ে আমাদের জল্পনা কল্পনার কোন শেষ নেই। মাঝে মাঝে ভূতের গল্প শুনে বা কল্পনা করে ভয় পেতে ভালই লাগে । বাস্তবে ভূত আছে কি নেই সে নিয়ে বিতর্কের শেষ নেই। কেউ বলে আছে কেউ বলে নাই। তবে বাস্তবে ভূত থাকুক বা না থাকুক ভূতের গল্প কিন্তু ঠিকই আছে। ভূতের গল্প শুনে শিহরিত হয় না এমন মানুষ বোধহয় খুব কমই আছে। আবার এমন অনেক মানুষ আছে যারা আগে ভূত বিশ্বাস করত না কিন্তু কোন এক ভৌতিক ঘটনার মুখোমুখি হয়ে সে ভূত বিশ্বাস করতে শুরু করেছে। আমাদের আশেপাশে এমন অনেক ঘটনাই ঘটে যেগুলোকে আসলে আমরা যুক্তিতর্ক বা বিজ্ঞান দিয়ে ব্যাখ্যা করতে পারি না । তো চলুন আজ এমনই একটি ব্যাখ্যাতীত ভূতের ঘটনা পড়ে আসি যা বাস্তবে ঘটেছে।

হাওয়াই ওলা’আ গ্রামের ভূতুড়ে পুকুরঃ

Image: Pond situated in Hawai

হাওয়াই দ্বীপে ওলা’আ নামে একটা গ্রাম আছে। যেই গ্রামটি শত বছরের পুরনো এক ভূতুড়ে রহস্যকে এখনও ধারণ করে রেখেছে । আর এই ভূতুড়ে রহস্যের শুরু হয় শত বছর আগে পুকুরে যখন এখানকার একটি কিশোর বালক ডুবে মারা যায়। এখনও সেই ভুতুড়ে ঘটনা এখানকার গ্রামবাসী এবং শিশুদের তাড়া করে ফেরে। চলুন ঘুরে আসা যাক হাওয়াই দ্বীপের সেই ভূতুড়ে পুকুর থেকে।

১৯৪৭ সাল, গ্রামের একদল কিশোর গ্রামের কাছের একটি গভীর পুকুরের তীরে খেলা করতে থাকে এবং  দুষ্টুমিতে মেতে ওঠে। হঠাৎ করেই এক কিশোর এক গাছের গুঁড়িতে আটকে যায় এবং ঝপাৎ শব্দে গভীর পানিতে পড়ে যায়। অন্য বালকরা কোন কিছু বুঝে ওঠার আগেই সেই কিশোর ধীরে ধীরে পানিতে তলিয়ে যেতে থাকে। কিছুক্ষণের জন্য সব বালকেরা স্তব্ধ হয়ে যায় এবং সেই কিশোরের পানি থেকে মাথা ওঠানোর জন্য অপেক্ষা করতে থাকে। কিন্তু যখন সেই কিশোর আর পানি থেকে কোন সাড়া দিচ্ছিল না তখন তার খেলার সাথীরা ভীত সন্ত্রস্ত হয়ে গ্রামের ভেতরে গিয়ে সাহায্য চায়। তখন সেখানকার কিছু স্থানীয় লোক দৌড়ে গেল ঘটনাস্থলে এবং পানিতে ঝাঁপ দিল সেই কিশোরকে বাঁচানোর জন্য। তারা পানির নিচে কিশোরকে খুঁজতে খুঁজতে হঠাৎ কিছু একটা দেখে ভয়ে স্থির হয়ে সেদিকে স্থির দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকল।

Image: Tipskeren.com

তারা দেখতে পেল সেই কিশোর ছেলেটি পুকুরের মাঝখানে একটা পাথরের উপর বসে আছে। তার হাত দুটো তার দুই পাশে ঝুলছে এবং তার শরীর পেছনের দিকে দুলছে এবং স্রোতের সাথে সাথে তার শরীরের এক চতুর্থাংশ দুলছে। তার চোখ দুটো আরও বিস্তৃত হয়ে আছে এবং তার মুখ হা করে ঝুলে আছে। কিন্তু সে মৃত। এই দৃশ্য দেখে যারা তাকে বাঁচানোর জন্য পুকুরে নেমেছিল তাদের শিরদাঁড়া দিয়ে  ভয়ের একটা শীতল স্রোত নেমে গেল। তারা এটা দেখে অস্বস্তিবোধ করতে লাগল এবং ভাবতে লাগল যে এভাবে কেউ ডুবে যেতে পারে না। তাদের কাছে বিষয়টি মোটেও স্বাভাবিক মনে হল না। কারন ছেলেটিকে দেখে মনে হচ্ছিল যে সে খুব শান্তভাবে পাথরটির উপর বসে বসে মৃত্যুর জন্য অপেক্ষা করছে।

এরপর তারা মৃত দেহটিকে সেখান থেকে উদ্ধার করে পানির উপরে টেনে তোলে। এই ঘটনায় গ্রামের সবাই কষ্ট পেলেও ছেলেটির অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া শেষ হয়ে যাওয়ার পর এই অদ্ভুত মৃত্যুর ঘটনা ভুলে যাওয়ার চেস্টা করল।

এরপর ঐ এলাকায় এক অদ্ভুত গুজব ছড়িয়ে পড়ল যে মাঝ রাতের দিকে ঐ পুকুরের দিকে থেকে ব্যাখ্যাতীত অতিমানবীয় চিৎকার এবং কান্নার আওয়াজ ভেসে আসে যার কোন ব্যাখ্যা গ্রামবাসীর কাছে নেই। প্রথম দিকে গ্রামবাসীরা নিজেদেরকে বুঝ দিত এই বলে যে, হয়ত বড় বড় গাছে বাতাস লেগে এমন অদ্ভুত চিৎকার আর কান্নার আওয়াজ এর মত শোনাচ্ছে। কিন্তু পরবর্তীতে এই গুজবের সত্যতা পায় গ্রামবাসীরা কারণ যেসব গ্রামবাসী সেই পুকুরের কাছেই বাস করত তারা প্রায় প্রায় এই চিৎকার আর কান্নার আওয়াজ পেতে থাকল এবং অনেকেই অদ্ভুত অদ্ভুত ভয়ংকর সব অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হতে থাকল।

Image: loqueteconte.com

এসব অভিজ্ঞতার মধ্যে আছে, যখন কোন মানুষ মাঝ রাতের দিকে ঐ পুকুরের কাছে দিয়ে হেঁটে যেত তারা অনুভব করত যে কেউ তার কাছে পৌঁছানোর চেস্টা করছে এবং তার পা টেনে ধরার চেস্টা করছে। অনেক গ্রামবাসীই এটা বিশ্বাস করতে শুরু করে যে, পুকুরের কালো পানির নিচে সেই ডুবে মরা ছেলেটির ভূত অপেক্ষা করে আছে সবসময়। তাদের মতে, রাতের বেলা সেই ছেলেটির ভূত পানি থেকে মাটিতে চলে আসবে তার বরফ ঠান্ডা কাঁপা কাঁপা হাত দিয়ে মানুষকে ধরে নিয়ে যাবে পানির নিচে তার আস্তানায়। এই গুজবে আরও ছিল যে সে ঐ পানির নিচের জগতে দুর্ঘটনাবশত আটকে গেছে এবং সেখান থেকে সে পালাতে পারে একমাত্র রাস্তায় আর তা হল তার ঐ জায়গায় আরেকজনকে রেখে এসে। তাই সে এমন একজনকে সেখানে নিয়ে যাওয়ার অপেক্ষায় আছে।

Image: loqueteconte.com

একদিন একটি ছোট্ট ছেলে তার বাবার সাথে ঐ ভূতুড়ে পুকুরের পাশে দিয়ে যাছিল। এমন সময় ছেলেটি একটি মাটির দলা উঠিয়ে পুকুরে ঢিল দিল। এরপর হঠাৎ করেই ছেলেটি ভয়ে চিৎকার করে উঠল। কিছু একটা তার পা ধরে আছে এবং পুকুরের পানির দিকে টেনে নিয়ে যাচ্ছে। ছেলেটি মাটি আঁকড়ে ধরার চেস্টা করল কিন্তু তাতে কোন লাভ হল না। তার বাবা কিছু বুঝে ওঠার আগেই ছেলেটিকে গভীর পানিতে টেনে নিয়ে গেল। সাথে সাথেই ছেলেটির বাবা পানিতে ঝাঁপ দিল ছেলেকে বাঁচানোর জন্য কিন্তু সে তার ছেলের কোন খোঁজ পেল না। কিছুক্ষন পর সে তার ছেলেকে খুঁজে পেল। যেভাবে সে তার ছেলেকে দেখল তা দেখে সে তার নিজের চোখকে বিশ্বাস করতে পারছিল না। সে দেখতে পেল তার ছেলে মাঝ পুকুরে একটি পাথরের উপরে বসে আছে শান্তভাবে। তার হাত দুটো তার দুই পাশে ঝুলছে এবং তার শরীর পেছনের দিকে দুলছে এবং স্রোতের সাথে সাথে তার শরীরের এক চতুর্থাংশ দুলছে। তার চোখ দুটো আরও বিস্তৃত হয়ে আছে এবং তার মুখ হা করে ঝুলে আছে।

তার বাবা একটুও সময় নষ্ট না করে তার ছেলেকে জড়িয়ে ধরে পানির উপরে নিয়ে এল। সৌভাগ্যবশত বাবাটির প্রাথমিক চিকিৎসার উপরে প্রশিক্ষণ নেয়া ছিল আগে তাই সে তার প্রশিক্ষণকে কাজে লাগিয়ে তার ছেলের মুখে মুখ লাগিয়ে তার ছেলের ভেতরের পানি বের করে আনতে সক্ষম হয়। বাবাটির পক্ষে যা করা সম্ভব ছিল সে তার সবই করেছিল এবং যখন যে সে দেখল কোন কিছুতেই কোন কাজ হছে না তখন যখন সে আশা ছেড়ে দিতে যাচ্ছিল ঠিক তখনই সে দেখতে পেল যে, তার ছেলের বুক ওঠানামা করছে এবং তার ফুসফুসের পানি সে কাশির মাধ্যমে বাইরে বের করে দিতে সক্ষম হল। ভাগ্যক্রমে ছেলেটি বেঁচে যায়।

এরপর গ্রামের সব অভিভাবকরা তাদের ছেলেমেয়েদের ঐ পুকুরের কাছে না যেতে সতর্ক করে দেয়। একজন তান্ত্রিক এনে সেই পুকুরকে ঝাড়ফুঁক করা হয় এবং গ্রামবাসীরা এটা অনুভব করতে থাকে যে এই ঝাড়ফুঁকের ফলে হয়ত সেই বালকের অতৃপ্ত আত্মা এভাবে সবাইকে তাড়া করে ফেরা থেকে বিরত থাকবে।

কিন্তু তারপরেও এখনও কোন কোন অন্ধকারাচ্ছন্ন রাতে যখন আকাশ কাল মেঘে ছেয়ে যায়, তখন পুকুরের কাছে যারা থাকে তারা সেই বালকের রক্ত হিম করা ভয়ংকর চিৎকার শুনতে পায়। কেউ কেউ মনে করে বালকের এই অতৃপ্ত আত্মা কখনও শান্তি খুঁজে পাবে না।

বর্তমানে কেউ সেই পুকুরে নামার বা কাছে যাওয়ার সাহস করে না এবং গ্রামের সব শিশুই সেই ডুবন্ত বালকের কাহিনী জানে। কেউ জানে না যে কখন আবার সেই বালকের অতৃপ্ত আত্মা অশান্ত হয়ে পড়ে এবং কোন তাজা প্রান কেড়ে নেয়।

তথ্যসূত্রঃ

http://52perfectdays.com/travel-tips/52-supernatural-places-hawaii-island/

http://www.scaryforkids.com/dead-in-the-water/

মন্তব্য
লোডিং...