এবার পুরো পৃথিবী বাংলায়

আনন্দের মাঝে বেদনা- ৭ খেলার করুণ পরিণতি

0 40

- Advertisement -

0322 (1)যেকোন খেলাই আমাদের অনেক আনন্দ দিয়ে থাকে। কিন্তু কখনো কখনো সব আনন্দ ছাপিয়ে খেলা হয়ে উঠতে পারে দুঃখের কারণ। চলুন জানা যাক সেরকম কিছু ঘটনা।

১। একজন অনুরাগী ভক্তের মৃত্যু

দলের গৌরব এমন একটি বিষয় যা সব জায়গাতেই লক্ষনীয়। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড থেকে ডালাস কাউবয় পর্যন্ত সব দলেরই প্রচুর অনুরাগী ভক্ত আছে, যারা তাদের প্রিয় দলটিকে সমর্থন এর জন্য যে কোন ত্যাগ স্বীকার করতে প্রস্তুত। আর, অ্যালাবামার মেয়েদের জন্য এটি একটি সুস্থ মস্তিষ্কের হত্যার চেয়ে কোন অংশে ই কম নয়।

ইউনিভার্সিটি অফ অ্যালাবামার ফুটবল টীমের একজন একনিষ্ঠ ভক্ত হিসেবে আদ্রিয়ান ব্রিস্কি খুবই মর্মাহত ছিলেন যখন তার দল ২০১৩ সালে আয়রন বোল ট্রফি হেরে যায় অবারন ইউনিভার্সিটির কাছে। খেলা দেখা শেষে তিনি একটি পার্টি তে যান, যেখানে তার দেখা হয় মিশেল শেফার্ড এর সাথে। মিশেল শেফার্ড নিজেও ইউনিভার্সিটি অফ অ্যালাবামার ফুটবল টীমের একজন ভক্ত। কিন্তু, আদ্রিয়ান ব্রিস্কির মত এতটা নন। সে কারনেই হয়ত তিনি আদ্রিয়ান এর মত খুব বেশি মর্মাহত ছিলেন না আর এটা বুঝতে পেরে আদ্রিয়ান এর ক্ষোভ বেড়ে যায়। তিনি মিশেল এর সাথে ঝগড়া করতে আরম্ভ করেন। তাদের এই বাদানুবাদ বড় আকার ধারন করলে, মিশেল ঘটনাস্থল ত্যাগ করে, পারকিং লট এ যান। ক্রুদ্ধ আদ্রিয়ান তাকে অনুসরন করে সেখানে উপস্থিত হন এবং তাকে আঘাত করতে আরম্ভ করেন। ঝগড়ার এক পর্যায় আদ্রিয়ান পকেট থেকে আগ্নেয়াস্ত্র বের করে তাকে গুলি করলে মিশেল মাটিতে পড়ে যান এবং মৃত্যুবরন করেন।

২। বর্শাবিদ্ধ অনুরাগী

সময়টা ১৯৯৯ সালের মে মাস, লিভারপুল কলেজের শরীরচর্চার শিক্ষক জনডেসবারো, শিক্ষার্থীদের কিভাবে বর্শা ছুঁড়ে মারতে হয় তা শেখাচ্ছিলেন। ছুঁড়ে দেওয়া বর্শা ফেরত আনতে তিনি কিছুদূর গিয়ে যখন মাটিতে গেঁথে থাকা বর্শা আনতে যান, তখন তার পা পিছলে যায়।তিনি শরীর সরাসরি বর্শার ওপরে পড়ে গেলে তার এক চোখে বর্শার ভোঁতা অংশটি ঢুকে যায়। ভয়ার্ত শিক্ষার্থীরা হতবিহ্বল চোখে তাকিয়ে থাকে। এরপর, তাকে খুব দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়। কিন্তু তার আগেই তিনি কমাতে চলে যান। কলেজ থেকে হাসপাতাল এর এই পুরো পথে তার চোখ বর্শাবিদ্ধ অবস্থায় ছিল। আর সেটি তার চোখের পর্দা ভেদ করে মস্তিষ্কে প্রবেশ করে। যদিও চিকিৎসকরা তার অপারেশন করে তাকে এই অবস্থা থেকে মুক্তি দেয়; কিন্তু এর এক মাস পরই তার বক্ষ ব্যাধিতে মৃত্যু হয়।

৩। ভিডিও গেমস আসক্ত অভিভাবক-অভিভাবিকার সন্তানের অনাহারে মৃত্যু

মানুষকে অতিরিক্ত আসক্ত করে ফেলার সীমাহীন ক্ষমতার কারনে সাইবার ওয়ার্ল্ড-এ সব সময়ই ভিডিও গেমস-এর দুর্নাম রয়েছে। এমনই একটি ঘটনার কথা আমরা শুনব যা কিনা ভার্চুয়াল দুনিয়া’র সকল অপরাধ কে হার মানিয়েছে। ২০১০ সাল, দক্ষিণ কোরিয়ার এক দম্পতি প্রি-আস অন-লাইন নামের একটি খেলার প্রতি এতটাই আসক্ত হয়ে পরেন যে, এজটানা খেলা খেলতে খেলতে তারা তাদের সন্তান কে খাওয়া তেও ভুলে যেতেন। মূলতঃ তারা যে খেলাটি খেলতেন সেটি একটি রোল প্লেইয়িং গেম, যাতে তাদের একটি শিশুকে লালনপালন করার ভুমিকা পালন করতে হয়। এভাবে তাদের পয়েন্ট বা অ্যানিমা জমা হয়আর ফলস্বরূপ ওই শিশু চরিত্রটি একটি যোদ্ধাতে পরিণত হয়।দিনরাত তারা খেলাতে ভীষণ মগ্ন থাকতেন; এক সময় তাদের চোখ রক্তাভ হয়ে উঠত তবুও তারা খেলার বিরতি দিতেন না।

তাদের একটিই সমস্যা দেখা দেয় তা হলঃ তাদের আপন সন্তান। গেম-এর আসক্তি অতিরিক্ত পরিমানে বেড়ে গেলে তারা তাদের সন্তানটিকে দিনে একবার মাত্র খাওয়াতেন; যখন খেলা শেষে ফুরসত মিলত। এভাবে ছোট্ট শিশু টি মৃত্যুর কোলে ঢোলে পরে। ৫ মাস পরে পুলিশ যখন এই দুর্ভাগা শিশুটির মৃত্যুর কারন জানতে পারল তারা শিশুর পিতামাতাকে গ্রেফতার করে।

৪। পোকার শো-ডাউন

জন ওয়েসলি হার্ডিন ছিলেন ১৯ শতকের একজন গুলিবাজ এবং অত্যন্ত সহিংস মানুষন; যার আইন অমান্য করার বাস্তবিক ঝোঁক ছিল।মাত্র ১৫ বছর বয়সে তিনি প্রথম খুনটি করেন। এর পরবর্তী ১০ বছরে তিনি প্রায় ৪১ টি হত্যাকাণ্ড সংঘটিত করেন। ১৮৬৯ সালে তার যখন মাত্র ১৬ বছর বয়স, হার্ডিন তাশের একটি খেলা খেলছিলেন, টেক্সাস এর তোয়াশ শহরে।এমন সময় বেঞ্জামিন ব্র্যাডলি নামের এক লোকের সাথে তিনি বাক বিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন।

- Advertisement -

যত খেলার সময় গড়াতে থাকে, তত তাদের তর্ক বাড়তে থাকে; এক সময় হার্ডিন তাকে দ্বন্দ্ব যুদ্ধে আহ্বান করেন। কিংবদন্তীর ওয়াইল্ড ওয়েস্ট ডুয়েলস নামে পরিচিত যা আমরা প্রায়ই ওয়েস্টার্ন সিনেমা তে দেখি তা এই সময়কালেই বেশি দেখা যেত।হার্ডিন এবং ব্র্যাডলি একটি পরিত্যাক্ত রাস্তাতে অবস্থান করেন এবং একে অন্যের দিকে পিস্তল তাক করেন। ব্র্যাডলি প্রথমে গুলি চালান কিন্তু তার গুলি লক্ষ্যভেদ করেনি। এরপর, হার্ডিন গুলি করলে ব্র্যাডলি ঘটনাস্থলেই প্রান ত্যাগ করেন।

৫। রাক্ষুসে খেলা

স্যাভেরিও ব্যালান্তে ছিলেন ইটালিয়ান, টম ও গরম্যান ছিলেন স্কটিশ। তাদের একজনের ভাড়া দেবার মত একটি ঘর ছিল, আর একজনের ছিল নরমাংসে অশেষ আসক্তি। এটা খুব সহজেই অনুমেয় যে কেন আপনি একজন নরমাংস লোভীর সাথে দাবা খেলবেন না। গরম্যান দাবা খেলায় হেরে গেলে প্রথমে তাদের মধ্যে ঝগড়ার সুত্রপাত হয় এবং এক পর্যায় ব্যালান্তে তাকে হত্যা করেন। ব্যালান্তে স্বীকার করেন যে, তিনি গরম্যানকে খুন করে তার বুক চিরে তার হৃদপিণ্ড-র কিছু টা খেয়ে ফেলেন।

পুলিশ গরম্যানকে ভয়াবহভাবে হত্যা করা হয়েছে অনুমান করতে পেরে তার বাড়িতে অনুসন্ধান করতে গেলে দেখতে পায়, তাকে ২ ডজন বার আঘাত করা হয়েছে এবং তার বুক চিরে হৃদপিণ্ড বের করে ফেলা হয়েছে। আর তার ফুসফুস এর কোন হদিস মেলে নি। ব্যালান্তে যে কিনা ধৈর্য ধরে পুলিশ এর আগমনের অপেক্ষা করছিলেন, তাকে তৎক্ষণাৎ গ্রেফতার করা হয়। আদালত-এ বিচার কারয শুরু হলে তিনি ঠাণ্ডা মাথায় কেবল ৩ টি শব্দ উচ্চারণ করেনঃ “I am guilty”. অর্থাৎ আমি অপরাধী। ৫ মিনিটের মাথায় তাকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেওয়া হয়।

৬। শিশুরা মোটেই ইয়াযযি/পাশা খেলতে চায় না

২০১০ সালের বড়দিনে তামারা মেসন তার ৩ সন্তানের সাথে পাশা খেলতে চাইলেন। বড়দিনের মত ছুটির দিন সমাপ্ত করার জন্য এটা ছিল খুবই ভালো একটি উদ্যোগ। তামারা তার পুত্রের হাতে নিহত হবার আগ পর্যন্ত সবকিছুই স্বাভাবিক ভাবে চলছিল। কোন এক অজানা কারনে তার সন্তানেরা জ্যাকব, এন্দ্রু ও ডিলন খেলতে চাইছিল না। তামারা যখন তার সন্তানদের খেলতে জোর করেন, তখন সর্বকনিষ্ঠ পুত্র জ্যাকব একটি প্লাস্টিকের ব্যাগ তার মায়ের মাথায় ঢুকিয়ে বেল্ট দিয়ে বেঁধে শ্বাসরোধ করে তার মাকে হত্যা করে, আর বাকি দুজন তা চেয়ে চেয়ে দেখে।

এই অপকর্মটি সমাপ্ত হলে তিন সন্তান লাশের সৎকার নিয়ে দুর্বিপাকে পরে, কারন সময়টা ছিল শীতকাল আর, মিনেসোটার মাটি পাথরের মত শক্ত হয়ে ছিল পুরু বরফের আস্তরণের নিচে। তাই তারা তাদের মাকে একটি ময়লার ডাস্টবিন-এ ৪ মাস ধরে ফেলে রাখে।

তামারার সব চেয়ে বড় পুত্র ডিলন তার বন্ধুর কাছে জানতে চেয়েছিল কি করে একটি মৃত দেহের হাত থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। তার বন্ধুর এতে করে সন্দেহ দেখা দিলে পরবর্তীতে পুলিশের কাছে বিষয়টি জানাজানি হয়ে যায়। এরপর, তদন্তের সময় তামারার লাশ বাড়ির পিছনের উঠানে পাওয়া গেলে, পুলিশ তাদের গ্রেফতার করে। তাদের সাজা ও হয়েছিল।

৭। একটি বোর্ড গেম ও আধ মিলিওন মানুষের মৃত্যু

চীনাদের ইতিহাসে হান সাম্রাজ্যের ইতিহাস খুবই আবেগপূর্ণ। পূর্বেকার যে কোন সময়ের চেয়ে দ্রুত গতিতে তখন এই সাম্রাজ্যের বিস্তার লাভ হচ্ছিল। সেই সাথে ছোট ছোট প্রদেশসমূহের প্রজাদের উপর নজর রাখাও দিন দিন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছিল। কেন্দ্র প্রদেশ যখন তার আভ্যন্তরীণ বিভিন্ন সমস্যায় জর্জরিত তখন এই ছোট প্রদেশগুলো নিজেদের মধ্যে কোন্দল শুরু করে।মাত্র কয়েকবার পুরো সাম্রাজ্যের সকল প্রদেশ ঐক্যবদ্ধ হয়েছিল, যার সুত্রপাত হয় একটি ছোট ঘটনার মধ্য দিয়ে।

ইউ প্রদেশের রাজা লিউ পাই-এর পুত্র লিউ যিয়ান একবার রাজধানী পরিদর্শনে বের হন। এখানে আবস্থানরত আবস্থায় তিনি যুবরাজ কী- এর সাথে বোর্ড গেম খেলেন। খেলার সময়যুবরাজ কী ক্রোধোন্মত্ত হয়ে বোর্ডটি দিয়ে লিউ যিয়ান এর মাথায়া আঘাত করলে লিউ যিয়ান নিহত হন।
পুত্রের মৃত্যুতে হতবিহবল পিতারাজা লিউ পাই ক্ষোভে ফেটে পড়েন। আরো ৬ টি প্রদেশের রাজার সাথে জোট বেঁধে ৫ লাখ সৈন্য সামন্ত নিয়ে তিনি রাজধানী আক্রমণ করেন। প্রায় ৩ মাস লেগেছিল সম্রাটের এত বড় সেনাদল এর সাথে যুদ্ধে প্রতিরক্ষা বাহিনী গঠন করতে। পরিশেষে, যুদ্ধ যখন শেষ হয়; এই সাত প্রদেশের প্রায় সকল সৈন্যই নিহত হয়।

লেখিকা সম্পর্কেঃ জাহানারা আক্তার হৃতা

মন্তব্য
লোডিং...