এবার পুরো পৃথিবী বাংলায়

কিওয়ার্ড কি, কিওয়ার্ডের গুরত্ব ও কিভাবে কিওয়ার্ড রিসার্চ করা হয়?

What Is Keyword, Why are keywords important and How to Do Keyword Research

কিওয়ার্ডের ব্যবহার আমরা প্রতিদিনই করে থাকি। ইন্টারনেটের এই যুগে আমরা কেউ জেনে ব্যবহার করছি আবার কেউ না জেনে ব্যবহার করছি। তবে সাইটের মালিক হলে বা ব্লগ ও কনটেন্ট রাইটার হলে আপনার জন্য কিওয়ার্ড সম্পর্কিত জ্ঞান থাকা জরুরী।

কিওয়ার্ড কী, কিওয়ার্ড কত প্রকার, কিওয়ার্ড রিসার্চ কী, কিওয়ার্ড রিসার্চ কেন গুরুত্বপূর্ণ—যারা এ বিষয়গুলো সম্পর্কে জানতে আগ্রহী, তাদের জন্যই আমাদের আজকের এই কনটেন্টটি সাজানো হয়েছে।

এছাড়াও কনটেন্টটিতে থাকছে কিওয়ার্ড ডেনসিটি, কীভাবে কিওয়ার্ড রিসার্চ করতে হয়, কিওয়ার্ড রিসার্চ টুলস প্রভৃতি বিষয়। চলুন ধাপে ধাপে কিওয়ার্ড সম্পর্কিত তথ্যগুলো জেনে নেওয়া যাক।

কিওয়ার্ড কী বা কাকে বলে?

তথ্যপ্রযুক্তির এই যুগে ইন্টারনেট আমাদের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশে পরিণত হয়েছে। প্রতিদিন বিভিন্ন প্রয়োজনে আমরা ইন্টারনেটের ব্যবহার করে থাকি। তার মধ্যে অন্যতম হলো বিভিন্ন তথ্যউপাত্ত সংগ্রহে ইন্টারনেটের সহায়তা নেওয়া বা স্মরণাপন্ন হওয়া। ইন্টারনেট থেকে সহজেই আমরা এখন অনায়াশেই বিভিন্ন তথ্যউপাত্ত সংগ্রহ করতে পারি।

তথ্যউপাত্ত সংগ্রহ করতে সাহায্য নিতে হয় গুগল বা ইয়াহুর মতো বিভিন্ন সার্চ-ইঞ্জিনের। এই সার্চ-ইঞ্জিনগুলোতে ঢুকে আমরা যে সকল তথ্যউপাত্ত খুঁজছি বা আমরা যা জানতে চাই তা সার্চ বারে লিখে সার্চ করা মাত্রই আমাদের সামনে পাতার পর পাতা উক্ত তথ্য সম্পর্কিত সাইটগুলো চলে আসে। যেকোনো ইনফরমেশন বা তথ্য-উপাত্ত পেতে সার্চ-ইঞ্জিনে আমরা যা লিখে সার্চ করি, সেটাই কিওয়ার্ড।

সহজ ভাষায় কিওয়ার্ড হলো সার্চ কুয়েরি (Search Query)। অর্থাৎ, আপনি যা লিখেই ইন্টারনেটে সার্চ করবেন সেটাই কিওয়ার্ড, তা হতে পারে কোনো একটি শব্দ বা পুরোপুরি একটি বাক্য।

ধরুন, আমরা যারা ইন্টারনেট ব্যবহার করি, তারা অবশ্যই কখনও না কখনও গুগল, ইয়াহু বা অন্য কোনো সার্চ-ইঞ্জিনে নিজেদের প্রয়োজনের খাতিরে কিছু না কিছু সার্চ দিয়েছি। ধরা যাক—কিওয়ার্ড সম্পর্কে জানতে আপনি নিজেই ‘কিওয়ার্ড কী’ লিখে গুগলে সার্চ করলেন। ফলাফলস্বরূপ গুগল আপনাকে অনেকগুলো সার্চ রেজাল্ট দেখালো। এখানে ‘কিওয়ার্ড কী’ শব্দ দুটোই হলো কিওয়ার্ড।

অন্যভাবেও বলা যায়। সাধারণত এসইও (SEO) করার জন্য যে মূলশব্দগুলোকে বাছাই করেছেন বা এসইও’র ভাষায় আপনি যে শব্দগুলো নিয়ে কাজ করছেন, সেগুলোই কিওয়ার্ড।

ইন্টারনেটে বিষয়ভিত্তিক যেকোনো লেখালেখিতে কিওয়ার্ড খুবই গুরুত্বপূর্ণ। চাইলেই আপনি মনের মাধুরী মিশিয়ে গল্প, কবিতা বা উপন্যাস লিখতে পারেন। কিন্তু যদি বিষয়ভিত্তিক কোনো ব্লগ বা কনটেন্ট লিখতে চান, সেক্ষেত্রে নিজের খেয়াল খুশি অনুযায়ী যা ইচ্ছা একটা লেখতে পারবেন না। এক্ষেত্রে আপনাকে এসইও (SEO) ফ্রেন্ডলি কিওয়ার্ড ভিত্তিক লেখা লিখতে হবে।

 

কিওয়ার্ড কত প্রকার ও কী কী

কিওয়ার্ড জিনিসটা কী আশা করি সে সম্পর্কে আপনারা কিঞ্চিৎ হলেও বুঝে গেছেন। এবার আলোচনা করা যাক কিওয়ার্ড কত প্রকার তা নিয়ে।

আমি ওপরের অনুচ্ছেদেই বলেছি, কিওয়ার্ড একটা শব্দও হতে পারে, আবার আস্ত একটা বাক্যও হতে পারে। এর ভিত্তিতে কিওয়ার্ডকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়।

১। শর্ট টেইল কিওয়ার্ড

২। লং টেইল কিওয়ার্ড

 

শর্ট টেইল কিওয়ার্ড

শর্ট টেইল কিওয়ার্ড হলো তিন বা তারচেয়ে কম শব্দের কিওয়ার্ড। ধরা যাক আপনি ‘চাকরি ইন্টার্ভিউ’ লিখে সার্চ দিলেন গুগলে। গুগল আপনাকে চাকরির ইন্টার্ভিউ সংক্রান্ত বেশকিছু সার্চ রেজাল্ট দেখাবে কয়েক পাতার। এখানে ‘চাকরি ইন্টার্ভিউ’ হলো শর্ট টেইল কিওয়ার্ড, কারণ এতে মাত্র দুটো শব্দ রয়েছে।

শর্ট টেইল কিওয়ার্ডের সার্চ ভলিউম বেশি। পাশাপাশি কম্পিটিশনও অনেক বেশি হয়ে থাকে।

 

লং টেইল কিওয়ার্ড

যে কিওয়ার্ডগুলোতে তিনের বেশি শব্দ থাকে, সেগুলোকে বলা হয় লং টেইল কিওয়ার্ড। যেমন, আপনি গুগলে ‘ঘরে বসে কীভাবে অনলাইনে আয় করা যায়’ অথবা ‘অনলাইনে আয় করার সহজ পদ্ধতি’ লিখে সার্চ দিলেন। ফলাফলস্বরূপ গুগল আপনাকে কয়েক পাতার রেজাল্ট দেখালো এই টপিকে। এখানে ‘ঘরে বসে কীভাবে অনলাইনে আয় করা যায়’ অথবা ‘অনলাইনে আয় করার সহজ পদ্ধতি’ দুটোই লং টেইল কিওয়ার্ডের উদাহরণ, কারণ এতে তিনের অধিক শব্দ রয়েছে।

 

কিওয়ার্ড রিসার্চ কী?

যেকোনো ইনফরমেশন বা তথ্যাদি খুঁজে বের করতে ভিজিটররা গুগল, ইয়াহু বা অন্য যেকোনো সার্চ ইঞ্জিন ব্যবহার করে কোন কিওয়ার্ডগুলো সবচেয়ে বেশি ব্যবহার করে তা খুঁজে বের করা এবং সেই তুলুনায় সেই কিওয়ার্ডের ওপর প্রতিযোগী অন্যান্য সাইটগুলো কম না বেশি সেগুলা নিয়ে রিসার্চ করাকেই কিওয়ার্ড রিসার্চ বলা হয়ে থাকে।

 

কেন আপনি কিওয়ার্ড রিসার্চ করবেন?

কিওয়ার্ড রিসার্চ কী সে বিষয়টা যেন সহজেই আপনারা বুঝতে পারেন, সেজন্য আমি একটি উদাহরণ দিয়ে শুরু করতে চাই। ধরুন, আপনার একটি ওয়েবসাইট রয়েছে। সাইটটিতে বাংলা গান ডাউনলোড করা যায়। এখন একজন ব্যক্তি কিছু বাংলা গান ডাউনলোড করতে চাচ্ছে। উক্ত ব্যক্তি গুগলে গিয়ে সার্চ বারে ‘বাংলা গান’, ‘বাংলা গান ডাউনলোড’, ‘bangla gan download’, ‘free bangla gan’ বা ‘bangla song download free’ প্রভৃতি লিখেই সাধারণত সার্চ করবে।

বা ধরে নেই আপনি একটি বিষয়ভিত্তিক কনটেন্ট বা ব্লগ লিখতে চাচ্ছেন। টপিক—‘লোগো কী’, ‘লোগো কীভাবে বানাতে হয়’, ‘লোগো কীভাবে নিবন্ধন করাতে হয়’ ইত্যাদি। ইতোপূর্বে বলেছি বিষয়ভিত্তিক কোনো ব্লগ বা কনটেন্ট লিখতে চান, সেক্ষেত্রে নিজের খেয়াল খুশি অনুযায়ী যা ইচ্ছা একটা লেখতে পারবেন না। কেন পারবেন না? কারণ যদি মনের খেয়াল খুশি মতো লিখেন তাহলে তা ভিজিটররা যখন সার্চ করবে, তাদের সামনে আপনার সাইটটি বা আপনি যে টপিকে লিখেছেন সেটি আসবে না।

আরো পড়ুন- সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিংয়ের অ্যা-বি-সি

এখন কেউ যদি লোগো সম্পর্কে জানতে সার্চ ইঞ্জিনগুলোতে গিয়ে সার্চ করে তাহলে আপনার লেখা কনটেন্ট বা ব্লগটিকে কীভাবে গুগলের মতো সার্চ ইঞ্জিনগুলো সনাক্ত করবে? খুবই সহজ—এজন্য আপনাকে এসইও (SEO) ফ্রেন্ডলি কিওয়ার্ড ভিত্তিক লেখা লিখতে হবে। লোগো নিয়ে সাধারণত সবচেয়ে বেশি সার্চ হয় এমন কিওয়ার্ডগুলোকে টার্গেট করে লিখেতে হবে।

আপনার সাইটটি বাংলা গানের সাইট, বা আপনি যে টপিকে কনটেন্ট লিখেছেন সেটি লোগো সম্পর্কিত, গুগলের মতো সার্চ ইঞ্জিনগুলো তা সাইটে ব্যবহৃত কিওয়ার্ডের মাধ্যমেই সনাক্ত করে নিবে। গুগলকে নিজের সাইট বা লেখা কনটেন্ট সম্পর্কে জানানো বা অবহিত করার কাজটি কিন্তু আপনাকেই করতে হবে।

আর সেজন্য কিওয়ার্ড রিসার্চের মাধ্যমে নিজের সাইট বা টপিকের সাথে সম্পর্কিত হাই সার্চড কিওয়ার্ডগুলো খুঁজে বের করে ব্যবহার করতে হবে। হাই সার্চড কিওয়ার্ড হলো সেইসব কিওয়ার্ড যেগুলো মানুষ সবচেয়ে বেশি ব্যবহার করে থাকে ইনটারনেটে কোনো কিছু খোঁজার ক্ষেত্রে।

সুতরাং, বুঝতেই পারছেন আপনার সাইট বা সাইটে প্রকাশিত কনটেন্ট বা ব্লগটিকে প্রতিযোগী সাইট বা কনটেন্ট থেকে সামনে এগিয়ে রাখতে বা সার্চ ইঞ্জিনের প্রথম পাতায় নিয়ে আসতে কিওয়ার্ড রিসার্চের কাজটি করতে হবে।

 

কিওয়ার্ড রিসার্চ কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?

সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশনের (Search Engine Optimization) ক্ষেত্রে বিগত এক দশকে কী ধরনের পরিবর্তন এসেছে সে সম্পর্কে আমাদের অনেকেরই কম বেশি ধারণা রয়েছে। এতে মার্কেটে প্রতিযোগিতার মাত্রা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে পূর্বের তুলনায়। সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশনের এ ঝড়ে নিজের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন সঠিকভাবে কিওয়ার্ড রিসার্চ।

কিওয়ার্ড রিসার্চে যদি ভুল থাকে তাহলে আপনার সাইটটি গুগল সার্চে র‍্যাংক পাবে না। তাই সঠিকভাবে কিওয়ার্ড রিসার্চ করে সেই তথ্য কাজে লাগাতে পারলেই গুগল সার্চে পাওয়া যাবে সঠিক র‍্যাংক।

গুগল, ইয়াহু বা অন্যান্য সার্চ ইঞ্জিনের রয়েছে নিজেস্ব অ্যালগারিদম। সেই অ্যালগারিদমেও আসে পরিবর্তন। এই অ্যালগারিদমের সাথে মিল রাখলেই কেবল যে র‍্যাংক পাওয়া যাবে তা কিন্তু নয়। পাশাপাশি আপনার লেখা কনটেন্টটি কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।

আবার বেশি বেশি সার্চ করা হচ্ছে এমন কিওয়ার্ড ব্যবহার করলেই যে আপনি সার্চ ইঞ্জিনের প্রথম দিকে জায়গা করে নিবেন সেটিও নয়। বেশি বেশি সার্চ হচ্ছে এমন কিওয়ার্ডের পাশাপাশি একই টপিকে কম সার্চ হচ্ছে এমন কিওয়ার্ডগুলোতেও যদি মনোযোগ দেওয়া হয়, তাহলে সার্চ-ইঞ্জিনগুলোতে তা একটা আলাদাভাবে প্রাধান্য পায়।

আর এই বিষয়গুলো সুনিশ্চিত করতে প্রয়োজন কিওয়ার্ড রিসার্চের। সুতরাং, বুঝতেই পারছেন কেন কিওয়ার্ড রিসার্চ এত গুরুত্বপূর্ণ।

 

কিওয়ার্ড কীভাবে কাজ করে?

কিওয়ার্ড  কী, কিওয়ার্ড কত প্রকার, কিওয়ার্ড রিসার্চ কী, কেন আপনি কিওয়ার্ড রিসার্চ করবেন—আমরা তা ইতোমধ্যেই জেনে গেছি। এখন আমরা কীভাবে কাজ করে সে সম্পর্কে জানবো।

 

১। ডোমেইন নেম

ডোমেইন নেম (Domain Name) বা ডোমেইনের নাম খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। আপনার সাইটটির নাম কী হবে তার ওপরে অনেক কিছুই নির্ভর করছে। সাইটের নাম যদি কোনো ভিজিটর মনে রাখতে না পারে তবে সেই সাইটের নাম বা সেই সাইট তৈরি করাটাই অনর্থক। এমন নাম দিতে হবে যেন সাইটের নামের সাথে সাইটের বিষয় বস্তুর মিল থাকে। সার্চ ইঞ্জিন প্রথমে সার্চ করার সময় Domain URL সার্চ করে। এজন্য ডোমেইন নেম’র ব্যাপারে অবশ্যই গুরুত্ব দিতে হবে।

 

২। আর্টিক্যাল লেখা

আর্টিক্যাল লেখার জন্য কিওয়ার্ড সবসময় অনেক বড়ো ভূমিকা পালন করে। আর্টিক্যাল লেখার সময় আমাদেরকে রাখতে হবে যে প্রতি ১০০ ওয়ার্ডের জন্য মিনিমাম তিনটা অথবা মাক্সিমাম পাঁচটা কিওয়ার্ড ব্যবহার করা হয়। এতে করে আপনি যে আর্টিক্যালটি লিখেছেন তা সার্চ করলে সার্চ-ইঞ্জিনের প্রথম পাতাতে বা সামনের সারিতে উঠে আসবে।

 

৩। ওয়েব সাইটের টাইটেল

কোনো সাইটের টাইটেল সেই সাইটের সমস্ত বিষয়বস্তুকে তুলে ধরে। আর তাই বলার অপেক্ষা রাখে না যে সাইটের টাইটেল অনেক গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। এর সঠিক ব্যবহার করতে না পারলে আপনার সাইটটির কোনো মূল্যই থাকবে না।

টাইটেল দ্বারা দুটি সুবিধা পাবেন—একটি সার্চ ইঞ্জিনে আপনার সাইট সহজে খুঁজে বের করা এবং ভিজিটর আসে যাতে সেজন্য আপনার সাইটের ভালো ফিডব্যক পাওয়া যায়। তাই কিওয়ার্ডের জন্য সাইট টাইটেল অনেক গুরুত্বপূর্ণ।

উপরের আলোচনা থেকে বুঝতে পাছেন যে কি-ওয়ার্ড কতটা উপকারে আসে। একটি সুন্দর কি-ওয়ার্ড দিতে পারে একটি সুন্দর সাইট। তাই এখনি ঝটপট আপনার সাইট এর জন্য সুন্দর অধিক ভিজিটর সমৃদ্ধ কি-ওয়ার্ড নির্বাচন করুন।

 

কীভাবে কিওয়ার্ড রিসার্চ শুরু করবেন?

যেভাবে কিওয়ার্ড রিসার্চ শুরু করতে পারেন :

১। টপিক নির্বাচন করুন

ধরা যাক, আপনি একটি আর্টিক্যাল লিখতে চাচ্ছে। আপনি কী ধরনের আর্টিক্যাল লিখতে চান তা নির্বাচন করুন। নির্বাচিত টপিকটির ওপর ভিত্তি করে আপনাকে কিওয়ার্ড খুঁজে বের করতে হবে।

টপিক সিলেক্টের ক্ষেত্রে জনপ্রিয় টপিকগুলোকেই বেছে নিন। নিজেই ভাবুন ঐ টপিক সম্পর্কে জানতে সার্চ ইঞ্জিনে গিয়ে আপনি কী ধরনের কিওয়ার্ড ব্যবহার করতে সার্চ করতে। টপিকটি নিয়ে কী পরিমাণ লোক প্রতি মাসে সার্চ করছে তা বের করুন।

 

২। সাব টপিক খুঁজে বের করুন

টপিক নির্বাচন করা হয়ে গেলে পরের ধাপ হলো উক্ত টপিকের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ সাবটপিক খুঁজে বের করা। ধরেই আপনি এসইও বা সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশনকে বেছে নিয়েছেন কনটেন্টের প্রধান টপিক হিসাবে। এক্ষেত্রে এসইও’র সাথে সম্পর্কিত সাবটপিক, যেমন—অন পেজ অপটিমাইজেশন, অফ পেজ অপটিমাইজেশন, কিওয়ার্ড র‍্যাংকিং, ব্যাকলিংক কীভাবে করবো ইত্যাদি, বেছে নিতে হবে।

এগুলো বের করার পরে বেশ কিছু কীওয়ার্ড টুলস আছে যেগুলোর মাধ্যমে আপনি জানতে পারবেন কোন কিওয়ার্ডটি র‍্যাংক করার সম্ভাবনা বেশি। এছাড়া আপনি যদি বেশ কিছুদিন ধরেই ব্লগিং করে থাকেন তাহলে কোন ধরনের কিওয়ার্ড দিয়ে মানুষ আপনার ওয়েবসাইট খুঁজে পাচ্ছে সেই কিওয়ার্ডগুলো নিয়ে কাজ করাও বেশ ফলপ্রসূ।

আর মানুষ কোন কোন কিওয়ার্ড দিয়ে আপনার ওয়েবসাইটকে খুঁজে পাচ্ছে সেগুলো জানতে গুগল এনালাইটিক্স টুল ব্যবহার করুন। আপনার ওয়েবসাইট গুগল এনালাইটিক্সে অ্যাড করে। এরপর ওয়েবসাইটের অরগানিক সার্চ রেজাল্ট থেকে খুব সহজেই বের করে ফেলতে পারবেন আপনার কাঙ্ক্ষিত কিওয়ার্ডগুলো।

 

৩। রিলেটেড কিওয়ার্ড

কিওয়ার্ড রিসার্চের ক্ষেত্রে রিলেটেড কিওয়ার্ডের ভূমিকা অস্বীকার করার উপায় নেই। কোনো একটি নির্দিষ্ট টপিক খুঁজতে গিয়ে ঐ টপিকটির সাথে মানুষ আরও যে যে ধরনের শব্দ ব্যবহার করে বা যে ধরনের বাক্য লিখে, সেগুলোই রিলেটেড কিওয়ার্ড। যদি সঠিক কিওয়ার্ড খুঁজে পেতে কষ্ট হয়, তাহলে রিলেটেড কিওয়ার্ড ব্যবহারের মধ্য দিয়েও কনটেন্টের র‍্যাংকিং বাড়ানোর কাজটি করতে পারবেন। তাই কিওয়ার্ড রিসার্চের সময় রিলেটেড কিওয়ার্ডও খুঁজে বের করতে হবে।

 

৪। লং টেইল কিওয়ার্ড খুঁজে বের করুনর

কিওয়ার্ডের রিসার্চের সময় লং টেইল কিওয়ার্ডের দিকেও মনোযোগ দিন। লং টেইল কিওয়ার্ড বের করুন। এক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কিওয়ার্ড ঠিক আছে কিনা সেদিকে সতর্ক থাকুন। কেননা অনেক ক্ষেত্রে লং টেইল কিওয়ার্ড লিখতে গিয়ে টপিক থেকে সরে আসতে দেখা যায়।

 

৫। প্রতিযোগীদের নিয়ে গবেষণা করুন

আমরা যখন কোনো কাজ করি তখন আমাদের প্রতিযোগীরা যা করছে আমাদেরকেও যে হুবহু একই কাজ করতে হবে এমনটা ভুল। একই কথা কিওয়ার্ডের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। এক্ষেত্রেও আপনার প্রতিযোগী যা করছে আপনাকেও হুবহু একই কাজ করতে হবে এমনটা নয়। তবে তাদের কাজগুলো নিয়ে স্ট্যাডি করা দরকার। এতে করে আপনি ভালোভাবে বুঝতে পারবেন আপনাকে আসলে কী করতে হবে।

 

৬। গুগল কিওয়ার্ড প্ল্যানার ব্যবহার

এমন হতে পারে আপনি স্ট্যাডি করে বেশকিছু কিওয়ার্ড বের করে ফেলেছেন। কিন্তু এই কিওয়ার্ডগুলোর মধ্য কোনগুলো বেশি কার্যকরি তা বাছাই করতে পারছেন না। এ কাজে গুগল কিওয়ার্ড প্ল্যানার খুবই চমৎকার একটা টুলস। গুগল অ্যানালিটিক্সের মতো এই টুলসটিও ফ্রিতেই ব্যবহার করতে পারবেন।

এজন্য প্রথমেই আপনাকে গুগল এডওয়ার্ডে একটি অ্যাকাউন্ট খুলতে হবে। আর অ্যাকাউন্ট খোলার মানে এই নয় যে আপনাকে ওখানে বিজ্ঞাপন দিতেই হবে। এছাড়াও গুগল ট্রেন্ডস ব্যবহার করে আপনি সহজেই বের করতে পারবেন কোন কিওয়ার্ডগুলো কোন এলাকায় সবচেয়ে বেশি ব্যবহার করা হয়েছে। গুগল অ্যানালাইটিক্স ও কিওয়ার্ড প্ল্যানারের মতো এটিও ফ্রিতেই ব্যবহার করা যায়।

 

কিওয়ার্ড ডেনসিটি

কিওয়ার্ড ডেনসিটি খুবই স্পর্শকাতর একটি বিষয়। এখানে ভুল হলে আপনার সাইটি র‍্যাংক করানো যাবে তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। এমন অনেক সাইট রয়েছে বা এমন অনেক কনটেন্ট রয়েছে অনেক উপাদানের সমাবেশ ঘটানোর পরেও ঠিকমতো র‍্যাংক পাচ্ছে না সার্চ ইঞ্জিনগুলোতে। এর কারণে কিওয়ার্ড ডেনসিটি সমস্যায় পড়তে হতে পারে।

কিওয়ার্ড ডেনসিটি ঠিক কারণে অনেক ভালো ভালো সাইট বা কনটেন্ট অনেক ক্ষেত্রে গুগলের মতো সার্চ ইঞ্জিনের দ্বিতীয় পেজে আটকে থাকে। এদের বেশির ভাগের ক্ষেত্রেই দেখা যায়, তারা মাত্রাতিরিক্ত কিওয়ার্ড ব্যবহার করে ওভার অপটিমাইজড করে ফেলেছেন। যে কারণে উন্নতি হচ্ছে না।

এক্ষেত্রে আপনাকে অবশ্যই মনোযোগ দিতে হবে প্রয়োজনের অতিরিক্ত কিওয়ার্ড ব্যবহার হচ্ছে কিনা সেদিকে। ধরা যাক, আপনি আই ফোনের রিভিউ দিয়ে একটি কনটেন্ট লিখছেন। কনটেন্টটিতে ‘আইফোন’ কথাটি বার বার আসতেই পারে। এটা স্বাভাবিক। কিন্তু যদি ‘আইফোনের রিভিউ’ কথাটা আপনার লেখা কনটেন্টে মাত্রাতিরিক্ত পরিমাণে আসে বা বার বার আপনি ‘আইফোনের রিভিউ’ কথাটি লিখতে থাকেন তাহলে নিশ্চয় তা স্বাভাবিক হবে না।

 

কিওয়ার্ড সার্চ টুলস

আমি আপনাকে কিছু টুলসের নাম বলছি, সেই সাথে টুলসগুলো ফ্রি নাকি টাকা দিয়ে চালাতে হবে তাও উল্লেখ করে দিচ্ছি। আশা করি এগুলো ব্যবহার করে আপনি সহজেই কিওয়ার্ড সম্পর্কিত কাজগুলো সহজেই করতে পারবেন।

 

১। গুগল কিওয়ার্ড প্লানার (https://adwords.google.com/ko/KeywordPlanner/Home?): ফ্রি।

২। সেমরাস (https://www.semrush.com/): পেইড।

৩। আহ্রেফ(https://ahrefs.com/) : পেইড।

৪। কিওয়ার্ড ফাইনডার (https://kwfinder.com/) : পেইড।

৫। স্পাইফু (https://www.spyfu.com/) : পেইড।

৬। গুগল ট্রেনড (https://trends.google.com/trends/) : ফ্রি।

৭। ম্যাজেসটিক (https://majestic.com/): পেইড।

৮। লং টেল প্রো (https://longtailpro.com/): পেইড।

৯। মার্কেট সামুরাই (http://www.marketsamurai.com/):পেইড।

১০। কিওয়ার্ড এভরিহয়্যার (https://keywordseverywhere.com/): পেইড।

 

এছাড়াও আপনি ফ্রি এক্সটেনশন্স ব্যবহার করতে পারেন যেগুলা দিয়ে আপনি সহজেই আপনার কীওয়ার্ড রিসার্চ কাজ গুলো চালাতে পারবেন।

১। Keyword Surfur (https://chrome.google.com/webstore/detail/keyword-surfer/bafijghppfhdpldihckdcadbcobikaca?hl=en)

২। WMS Everywhere (https://chrome.google.com/webstore/detail/wms-everywhere/chbmoagfhnkggnhbjpoonnmhnpjdjdod?hl=en)

৩। Ubersuggest chrome extention (https://chrome.google.com/webstore/detail/ubersuggest/nmpgaoofmjlimabncmnmnopjabbflegf)

মন্তব্য
লোডিং...