এবার পুরো পৃথিবী বাংলায়

আতাকামা মরুভূমির দৈত্যকার হাত: হাতটি কি আকাশ ছুতে চায়?

                                                        জনশূন্য বিরান মরুভূমির বুকে এটা কার হাত? কে এই মরুতে ডুবে মরেছে?

 

                                                             সমুদ্র তটে এই হাতটিই বা কার? সাগর ফুঁড়ে কে উঠতে চাইছে?

 

প্রাচীন মিশরের রহস্য নিয়ে তো অনেক কথাই বলেছি। আজকে উড়ে যাব মিশর থেকে সোজা দক্ষিণ আমেরিকায়। দক্ষিণ আমেরিকার চিলিতে। উত্তর চিলির আতাকামা মরুভূমি পৃথিবীর শুষ্কতম স্থান। দিগন্তে যতদূর চোখ যায় কেবল বালি আর বালি, উঁচু-নিচু টিলা আর পাথুরে বালিয়াড়ি। মাইলের পর মাইল ডানে-বামে, সামনে-পিছনে একই রকম। চাঁদের পেটের মত চকচকে আর শনিগ্রহের মত অনুর্বর, পাথুরে ভূ-খণ্ড দেখে মনে হয়  এ যেন কোন সিনেমার সাজানো-গোছানো বিশাল শুটিং স্পট। মনে হয়  এই এক লক্ষ্য আটাশ হাজার কিলোমিটারেও বড় শুটিং সেট টি শনিগ্রহে মানুষের অভিযানকে ক্যামেরা বন্দি করার জন্যই বানানো হয়েছে।

তবে বাস্তবতা এটাই এখানে সিনেমার শুটিং তেমন একটা করা হয় না। আর না করার পিছনে শক্ত কারণও রয়েছে।

নাসার অনুসন্ধানে দেখা গিয়েছে এই মরুভূমিতে গড়ে বছরে মাত্র এক মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়। মরুভূমির একটা বিশাল অংশে অনেক বছর যাবত কোন বৃষ্টিই হয় না। মরুর মধ্যভাগে এমন এলাকায় আছে যেখানে কখনই বৃষ্টিপাত হয় নি। দিনের বেলায় প্রচণ্ড গরম (প্রায় ৪০ ডিগ্রী সেলসিয়াস) আর রাতের বেলায় কনকনে ঠাণ্ডা (৫ ডিগ্রী সেলসিয়াস) এই মরুকে বসবাসের তো বটেই কিছুক্ষণ থাকারও অযোগ্য করে তুলেছে।

কিন্তু হতবাক করা বিষয় হল এই মৃত মরুভূমিতেই প্রাচীনতম মমির দেহাবশেষ পাওয়া গিয়েছে। এই মমিগুলো প্রমাণ করে এখানে কোন এককালে সমৃদ্ধ কোন সভ্যতা ছিল।

১৯১৭ সালে জার্মান প্রত্নতত্ত্ববিদ ম্যাক্স উহলে সর্বপ্রথম এসব মমি সম্পর্কে তথ্য প্রদান করেন। আতাকামা মরুভূমি এবং দক্ষিণ পেরুর এই বাসিন্দারা খ্রিস্টপূর্ব ৭০০০ থেকে ১৫০০ শতাব্দী পর্যন্ত জনবসতি ছিল। জীবন নির্বাহের জন্য তাদের বেশিরভাগ মাছ ধরত, শিকার করত, বিভিন্ন জিনিসপত্র জোগাড় করত। তিনি তার প্রত্নতাত্ত্বিক অনুসন্ধানে চিনচরসদের এমন মমি পান যেগুলো মিশরের মমি থেকেও হাজার বছরের পুরনো।

আতাকামা মরুভূমি এমনি বিরান যে জনমানবের চিহ্ন তো দূর কোন পরিত্যক্ত কিছুও নেই। আন্তোফাগাস্তা শহর থেকে আতাকামা মরুভূমির দিকে পাথুরে রাস্তা ধরে ৭৫ কিলোমিটার গেলে ১৩০৯ নম্বর সংকেত পাওয়া যাবে। এখানে রয়েছে এগারো মিটার লম্বা বিশাল এক হাত। অজানা আগুন্তকের মনে কৌতূহলী প্রশ্ন জাগে এখানে এই হাত কিসের? কিভাবে এলো? দেখে মনে হয় ডুবতে থাকা বিশাল কোন দৈত্য সাহায্যের আশায় আকাশের দিকে হাত বাড়িয়ে দিয়েছে!

চিলির প্রত্যন্ত অঞ্চল আন্তোফাগাস্তার কপার খনিতে যে শ্রমিকেরা কাজ করে তাদের দুর্বলতা, অসহায়ত্ব প্রকাশ করতেই স্থপতি Mario Irarrázabal এই পাঁচটি আঙ্গুল নির্মাণ করেন। তিনি এর নাম দেন La Mano del Desierto বা মরুর হাত। জনবসতি থেকে ৭৫ কিলো দূরে জন-বিরান এই ভূমিতে বাঁ-হাতের এই প্রতিকৃতি যেন বাস্তবিকই প্রকৃতির কাছে আমাদের অসহায় আত্মসমর্পণের কথা মনে করিয়ে দেয়।

যে কেউ একথা ভেবে অবশ্যই অবাক হবে যে, এই বিরান ভূমিতে কিভাবে এই স্থাপনা নির্মাণ করা হল? আশে-পাশের মাইলের মাইল এলাকায় পানির কোন ব্যবস্থা নেই। এই স্থাপনা NFL গোলপোস্টের চেয়ে উঁচু এবং ১৯৯২ সালে উদ্বোধন করা হয়।

বাঁহাতের খবর বললাম এবার ডান হাতের ব্যাপারে আসি। Mario Irarrázabal ডান হাতটি নির্মাণ করেন আন্তোফাগাস্তা থেকে ১২০০ মাইল পূর্বে আটলান্টা কোস্টাল রিসোর্টে। তিনি এর নাম দেন Man Emerging to Life যদিও এটি স্থানীয়ভাবে Monument to the Drowned নামে পরিচিত।

তথ্যসূত্রঃ ইন্টারনেট

মন্তব্য
লোডিং...