এবার পুরো পৃথিবী বাংলায়

মৃত্যুফাঁদ ‘নাট্রোন লেক’

505

- Advertisement -

আফ্রিকা মহাদেশের তাঞ্জানিয়ার প্রত্যন্ত অঞ্চল, যেখানে ওৎ পেতে রয়েছে নীরব মৃত্যুফাঁদ, যার নাম নাট্রোন লেক। এটি উত্তর তাঞ্জানিয়ার অরুশা (কেনিয়া সীমান্তের কাছে) অঞ্চলের একটি লবণাক্ত এবং ক্ষারীয় পানির হ্রদ। লবণ এবং খনিজ পদার্থের অতিরিক্ত উপস্থিতির জন্য এর নাম দেয়া হয়েছে নাট্রোন। এটি একটি অগভীর লেক, গভীরতা ৩ মিটারেরও কম ( ৯.৮ফুট) এবং ৫৭ কিলোমিটার (৩৫ মাইল) দীর্ঘ এবং ২২ এবং কিলোমিটার (১৪ মাইল) প্রশস্ত।

 

লেক নাট্রোন

তাঞ্জানিয়ার এই নাট্রোন লেক আফ্রিকার সবচেয়ে নিকৃষ্ট হ্রদগুলির মধ্যে অন্যতম। বিজ্ঞানীদের মতে হ্রদের পানিতে চারপাশের পাহাড় থেকে এসে জমা হয় প্রচুর ব্যাকটেরিয়া। পাশাপাশি এর পানিতে রয়েছে প্রচুর পরিমানে ক্ষার যার মূল উৎস সোডিয়াম কার্বোনেট। সোডিয়াম ব্যবহার করা হত প্রাচীন মিশরে, মৃতদেহ মমি করার ক্ষেত্রে। এই উপাদানের জন্যই এখানে স্থায়ীভাবে সংরক্ষিত হয়ে যাচ্ছে প্রাণী-দেহ!

হ্রদের পানি তীব্র গরম। স্বাভাবিক উষ্ণতা প্রায় ১৪০ ডিগ্রি ফারেনহাইট। আর পানিতে রয়েছে মাত্রাতিরিক্ত লবন। যার পরিণতি প্রাণীদের অস্বাভাবিক মৃত্যু এবং পাথুরে মূর্তিতে রুপ নেয়া। কোনো এক অজানা আকর্ষণে যখন কোন পাখি বা প্রাণী এই হ্রদের সংস্পর্শে আসে তখন ধীরে ধীরে তা পাথরে বা নিখুঁত মূর্তিতে পরিণত হয়ে যায় ! যদিও এর আকর্ষণের মূল উৎস এখনও বিজ্ঞানীদের কাছে ধোঁয়াশা। প্রাণীগুলির মৃত্যু কিভাবে হচ্ছে বিজ্ঞানীরা এরও সঠিক কোন ব্যাখ্যা বের করতে সক্ষম হননি।

মৃত্যুর পর প্রাণীরা পাথরের মূর্তি হয়ে যায়

- Advertisement -

ফটোগ্রাফার নিক ব্র্যান্ডের মতে, পানির পৃষ্ঠে প্রতিক্রিয়াশীল কোন প্রতিফলনের ফলে পাখিরা বিভ্রান্ত হয়ে আকাশ থেকে পানিতে ঝাপ দেয়। পানিতে প্রচুর পরিমানে সোডিয়াম বাইকার্বনেট আর লবণ থাকার ফলে এই জলের সংস্পর্শে আসা মাত্রই যে কোন পশু পাখি প্রস্তরীভূত বা জীবাশ্মে পরিণত হয়ে যায় এবং এদের দেহ পুরোপুরি সংরক্ষিত হয়ে মূর্তিতে রুপান্তরিত হয়। অতি মাত্রায় ক্ষারের কারণে প্রাণীর চামড়া এবং চোখ নষ্ট হয়ে গেলেও অবিকৃত দেহ রক্তমাংসের বদলে পাথরে পরিণত হয়। নিক ব্র্যান্ড যখন এই হ্রদে একটি প্রদর্শনীতে গিয়েছিলেন তখন তিনি এই মৃত পাথুরে প্রাণীদের আবিষ্কার করেছিলেন।

লেকের পানি টকটকে লাল রঙের যা সূর্যের আলোয় প্রতিফলিত হয়ে আরো চোখ ধাঁধানো রুপ নেয়

প্রাণঘাতী এই হ্রদের পানিতে বেঁচে থাকা মাছের প্রজাতি ব্যতিক্রম। এ প্রজাতি ব্যতীত অন্য কোন প্রজাতি এখানে জীবিত থাকতে পারেনা। এতদসত্ত্বেও নাট্রোন লেকটি আফ্রিকার লেজার ফ্লেমিঙ্গোদের প্রধান প্রজনন স্থানগুলোর মধ্যে একটি। এই হ্রদ এবং এর পার্শ্ববর্তী এলাকায় অনিয়মিত মৌসুমী বৃস্টিপাত হয়। বৃষ্টিপাতের ফলে লেকের পানি বেড়ে গেলে পানির লবণাক্ততা কমে গিয়ে পানিতে নীল সবুজ রঙের জলজ উদ্ভিদ বেড়ে ওঠে যা পাখির প্রিয় খাবার। তখন এরা প্রজননের জন্য বাসা বানায়। তাছাড়া নাট্রোন হ্রদে থাকা জীবাণু-বৈচিত্রও পৃথিবীতে বিরল।

বৃষ্টিপাতের ফলে লবণাক্ততা কমে গিয়ে পানিতে নীল সবুজ রঙের জলজ উদ্ভিদ জন্মে

নাট্রোন হ্রদের পানির Ph ৯ থেকে ১০.৫,যেখানে সমুদ্রের পানিতে থাকে ৭ থেকে ৯ এর মধ্যে।
তবে সৌন্দর্যের দিক থেকে অসাধারণ সুন্দর হ্রদটি। এর পানি টকটকে লাল রঙের যা সূর্যের আলোয় প্রতিফলিত হয়ে আরো চোখ ধাঁধানো রুপ নেয়। এর ক্ষারীয় লবণাক্ততা হ্রদের অগভীর অংশকে লাল, গোলাপী, কমলা রঙে রাঙিয়ে আরো অপূর্ব সৌন্দর্যমন্ডিত করে তোলে নাট্রোন হ্রদটিকে। যাকে ভয়ঙ্কর সুন্দর বলা যায়।

তথ্যসুত্র: ইন্টারনেট।

মন্তব্য
লোডিং...