এবার পুরো পৃথিবী বাংলায়

স্টারফিশের যতো কথকতা

স্টার ফিশ বা তারা মাছের আকৃতি তারার মতো, তাই এদের এমন নামকরণ করা হয়েছে। অমেরুদণ্ডী এই সামুদ্রিক প্রাণীটি দেখতে খুবই সুন্দর। 

স্টার ফিশ বা তারা মাছ সম্পর্কে অভূতপূর্ব কিছু তথ্য জেনে নেওয়া যাক।

১. এদের নাম স্টারফিশ হলেও এরা কিন্তু কোনো মাছ নয়। স্টারফিশ সামুদ্রিক অমেরুদন্ডী প্রাণীদের একটা গ্রুপের প্রাণী। এই গ্রুপে সি কিউকাম্বার, সি আরচিন এবং স্যান্ড ডলারও রয়েছে।

২. স্টারফিশকে সি স্টারও বলা হয়।

৩. তারার মতো আকৃতির কারণেই এদের নাম স্টারফিশ বা সি স্টার। স্টারফিশদের বেশির ভাগ প্রজাতিরই বাহু পাঁচটি, তবে কিছু কিছু সি স্টারের বাহু দশ, বিশ এমনকি চল্লিশটিও হয়ে থাকে। চল্লিশ বাহুবিশিষ্ট স্টারফিশকে ‘সান স্টার’ও বলা হয়।

কমন সানস্টার; Source: Wildlifetrusts.com

৪. স্টারফিশদের আকৃতি ভিন্ন ভিন্ন হয়ে থাকে। সাধারণত এদের দৈর্ঘ্য হয় পাঁচ থেকে দশ ইঞ্চির মতো এবং এদের ওজন হয় ১১ পাউন্ডের কাছাকাছি।

৫. স্টারফিশদের একটা সাধারণ বৈশিষ্ট্য হলো এদের শরীর অরীয় প্রতিসম। এরমানে এদের পাঁচটি সমান ভাগে ভাগ করা যাবে। এমনকি তাদের বাহু সংখ্যা পাঁচের চেয়ে বেশি হলেও।

এগারো বাহু বিশিষ্ট সী-স্টার; Source: Wikipedia

৬. স্টারফিশদের আরেকটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো তাদের বাহু পুনরায় গজানোর ক্ষমতা। যদি কোনো শিকার তাদেরকে খাওয়া শুরু করে, তাহলে তাদের দেহের বাকি অংশ নিজে থেকেও হারানো বাহুগুলো পুনরায় গজাতে শুরু করে এবং দেহের পূর্বাবস্থায় ফিরে যেতে তাদের কিছুটা সময় লাগে। তবে এই রিজেনারেশন প্রসেসটা সবসময়ই দ্রুত হয় না এবং মাঝেমধ্যে পুরোপুরি দেহ রিজেনারেট করতে এক বছরের মতোও সময় লেগে যায়।

হারানো অঙ্গ রিজেনারেট করছে স্টারফিশ; Source: Brocken Inaglory

৭. স্টারফিশ মাংসাশী প্রাণী; যারা ঝিনুক, শামুক খেতে পছন্দ করে। এদের পাকস্থলি দুটো, যেগুলোর একটা খাওয়ার সময় দেহের বাইরে থাকে। এই কৌশলের কারণে তারা অনেক বড়ো শিকারও খেতে পারে।

৮. স্টারফিশদের মুখ এদের শরীরের নিচের অংশ অবস্থিত, আর এদের পায়ুপথ থাকে দেহের ওপরের অংশে।

৯. স্টারফিশ টিউবের মতো পা ব্যবহার করে চলাফেরা করে, যেটি গঠিত হয়েছে তাদের শরীরের নিচের অংশে শতশত প্রোজেকশনের মাধ্যমে। হাঁটা এবং শিকার ধরার জন্য তারা এই টিউবগুলো ব্যবহার করে।

১০. স্টারফিশদের কোনো ব্রেইন নেই। অন্যান্য প্রাণীদের মতো তাদের কোনো রক্তও নেই। রক্তের বদলে তাদের শরীরে সিভ প্লেটের সহায়তায় সমুদ্রের পানি পরিবাহিত হয়।

১১. স্টারফিশের উপরিভাগ অস্থিসার কঙ্কালে আচ্ছাদিত হয়ে থাকে, যেগুলোতে প্রায়ই ভিন্ন ভিন্ন ধরণে স্পাইক এবং কাঁটা দেখতে পাওয়া যায়। শিকারির বিপক্ষে তাদের এই অস্থিসার খোলসটা বেশ ভালোই প্রোটেকশন দেয়।

১২. সি অটার, শার্ক, সিগাল এবং আরো কিছু প্রকারের মাছই মূলত স্টারফিশের প্রধাণ শিকারী।

লুইদিয়া মাকুলাতা, সাত বাহুবিশিষ্ট স্টারফিশ; Source: Wikipedia

১৩. স্টারফিশরা দুই ভাবে বংশবৃদ্ধি করতে পারে। তারা সেক্স্যুয়ালি মানে পুরুষ এবং মহিলাদের প্রজনন কোষের মিলনের মাধ্যমেও তারা বংশবৃদ্ধি করতে পারে, আবার অ্যাসেক্সুয়ালি মানে নিজেদের শরীরের কেন্দ্র থেকে বিভক্ত করে মিসিং অংশ রিজেনারেট করেও বংশবৃদ্ধি করতে পারে।

১৪. সেক্সুয়াল রিপ্রোডাকশনের সময় পুরুষ এবং মহিলা স্টারফিশেরা সমুদ্রের পানিতে প্রায় মিলিয়ন খানেকের শুক্রানু এবং ডিম্বানু নির্গত করে, যেখানে দুটো মিশ্রিত হয়ে নিষিক্ত হয় যেটা থেকে নতুন স্টারফিশের জন্ম হয়। মাদী স্টারফিশেরা একবারে মিলিয়নের মতো ডিম্বানু নির্গত করে। এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ কারণ এদের মধ্যে মাত্র অল্প সংখ্যক ডিম্বানুই পূর্ণাঙ্গ স্টারফিশে পরিণত হতে পারে।

১৫. মুক্ত স্টারফিশেরা প্রায় ৩৫ বছর বয়স পর্যন্ত বাঁচতে পারে।

১৬. স্টারফিশদের প্রায় দুই হাজারের মতো প্রজাতি রয়েছে।

১৭. স্টারফিশদের মারা খুবই কঠিন।

১৮. স্টারফিশরা তাদের টিউব পা দিয়ে আঠা উৎপাদন করতে পারে।

১৯. সানফ্লাওয়ার স্টার পৃথিবীর সবচেয়ে বড়ো স্টারফিশ।

সানফ্লাওয়ার স্টার; Source: boydski.com

২০. স্টারফিশদের প্রতি বাহুর শেষ প্রান্তেই একটি করে চোখ রয়েছে।

২১. অক্ষিগোলকের বদলে স্টারফিশদের শুধু আই-স্পট রয়েছে।

২২. প্যাটিরিয়েলা পারভিভিপারা হচ্ছে পৃথিবীর সবচেয় ছোটো স্টারফিশ।

প্যাটিরিয়েলা পারভিভিপারা, পৃথিবীর সবচেয়ে ছোটো স্টারফিশ; Source: superior facts.com

২৩. স্টারফিশদের কোনো দাঁত নেই।

২৪. স্টারফিশদের বেশ কয়েকটি প্রজাতিই মানুষের জন্য বেশ বিষাক্ত, যেমন ক্রাউন অফ থ্রোনস, সান স্টার, স্পাইনি সান স্টার এবং লেদার স্টার।

ক্রাউন অফ থ্রোনস; Source: Jon Hanson

২৫. স্টারফিশরা ভিন্ন ভিন্ন রঙের হয়ে থাকে, যেমন নীল, সবুজ, সাদা, লাল, গোলাপী, কমলা, হলুদ, বাদামী, বেগুনি এবং কালো।

২৬. স্টারফিশদের বেশির ভাগই বাস করে ভারত এবং প্রশান্ত মহাসাগরে।

সাইপ্রাসে স্টারফিশ এরকম স্যুভেনিয়র হিসেবেও ব্যবহৃত হয়; Source: Olaf

২৭. স্টারফিশরা যেকোনো সময় তাদের লিঙ্গ পরিবর্তন করতে পারে।

২৮. সাপোনিন নামের বিদঘুটে স্বাদের কেমিক্যালের কারনে স্টারফিশরা খাওয়ার যোগ্য হয় না। তবে চীন জাপানের কিছু কিছু স্টারফিশ খায়। এটা রান্না করা এবং কাঁচা দুইরকমভাবেই পাওয়া যায়। রান্নাকৃত স্টারফিশগুলো খুবই কড়াভাবে ভাজা থাকে এবং স্টিকের মাধ্যমে বিক্রি করা হয়। খাওয়ার জন্য বাইরের খোলসটা ভাঙলেই ভিতরের নরম অংশটা পাওয়া যায়।

চীনে খাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত ভাজা স্টারফিশ; Source: Wikipedia

২৯. তাদের হরেক রঙের ত্বক তাদেরকে শিকারি এবং আক্রমনকারীদের থেকে লুকিয়ে থাকতে সাহায্য করে।

৩০. মেরুদন্ডের বদলে বহিঃস্থ কঙ্কালের মাধ্যমে তাদের দেহের আকৃতি গঠিত হয়।

Feature image : ourmarinespecies.com

রেফারেন্সঃ ১। http://www.softschools.com/facts/animals/­starfish_facts/85/
২। https://www.seriousfacts.com/starfish-facts

মন্তব্য
লোডিং...