এবার পুরো পৃথিবী বাংলায়

কিভাবে বঙ্গবন্ধু-১ উৎক্ষেপণের সাথে যুক্ত হলো এলন মাস্কের স্পেস-এক্স?

430

- Advertisement -

আজ মধ্যরাতের কিছু পরেই উৎক্ষেপিত হবে বাংলাদেশের প্রথম কৃত্রিম উপগ্রহ “বঙ্গবন্ধু-১”। অনেক দিন ধরেই সবার জল্পনা-কল্পনা চলছিল কবে এর যাত্রা শুরু হবে। আর মাত্র কিছু সময়ের অপেক্ষা।

এ ফাঁকে চলুন জেনে নিই, কিভাবে এলন মাস্কের স্পেস-এক্স বাংলাদেশের এ মাহেন্দ্রক্ষণের সাথে যুক্ত হলো। স্পেস-এক্স এর ফ্যালকন ৯ রকেটের প্রথম দুই গ্রাহক হচ্ছে নাসা ও স্যাটেলাইট ফ্লিট অপারেটর প্রতিষ্ঠান SES. সেক্ষেত্রে বাংলাদেশ হচ্ছে এর তৃতীয় গ্রাহক।

ফ্যালকন-৯ রকেট ২০১০ সালে প্রথম বারের মত সফলভাবে উড্ডয়ণ করে। এর পরেই নাসা আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে রি-সাপ্লাইং কাজের জন্য মোট ৪ বার এ রকেট ব্যবহার করে।

লুক্সেমবার্গের SES হচ্ছে প্রথম স্যাটেলাইট অপারেটকারী প্রতিষ্ঠান, যারা স্পেস-এক্স এর সাথে কাজ করতে সম্মত হয় এবং মাল্টি-বিলিয়ন ডলারের সেই জিও-স্টেশনারি স্যাটেলাইটের সফল উড্ডয়ণ সম্পন্ন করতে সক্ষম হয়। ২০১৩ তে এই মিশন সফল হবার পর গত বছর পর্যন্ত ফ্যালকন ৯ এর প্রথম সিরিজের রকেটের কার্যক্রম ছিল সফল।

ইউটিউবে স্পেস-এক্স এর অফিসিয়াল চ্যানেলে সরাসরি দেখুন ভিডিও
আজ বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন রেগুলেটরি কমিশন ( বি টি আর সি), ফ্যালকন ৯ ব্লক-৫; যেটা কিনা ফ্যালকন ৯ এর নতুন, চূড়ান্ত ও সবচেয়ে শক্তিশালী ভার্সন, সেটার প্রথম ব্যবহারকারী হতে যাচ্ছে।এ রকেটটি আমেরিকার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ও নাসা’র বাণিজ্যিকভাবে মহাশূন্যযান নীতিমালা অনুসরণ করেই বানানো হয়েছে। এ রকেট কমপক্ষে ১০ বার বা বা তারও বেশি উড্ডয়ণে সক্ষম।

আর এর মাধ্যমে স্পেস এক্স আশা করছে শীঘ্রই বাণিজ্যিকভাবে আরো অনেক দেশ তাদের মাধ্যমে স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণে আগ্রহী হবে।

- Advertisement -

আসুন জেনে নিই, বাংলাদেশ কিভাবে স্পেস-এক্স এর মাইলফলকে যুক্ত হলো।

বিটিআরসি যখন প্রথম আন্তর্জাতিক দরপত্র আহবান করে তখন প্রাথমিকভাবে স্পেস এক্স কে পেছনে ফেলে ফ্রান্স-ইতালি যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত স্যাটেলাইট নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান থেলস এলেনিয়া স্পেসের তালিকাভুক্ত এরিয়ানস্পেসের এরিয়ান-৫ কে বংগবন্ধু-১  উৎক্ষেপণের জন্য ডিফল্ট লঞ্চার রকেট হিসেবে নির্বাচন করা হয়। স্পেস-এক্স এর ফ্যালকন-৯ ছিল রানার আপ।

কিন্তু ঘটনা মোড় দেয় ভিন্ন দিকে। গত বসন্তে ফ্রেঞ্চ গায়ানাতে অবস্থিত ইউরোপের “স্পেসপোর্ট”  স্থানীয় মানুষের প্রতিবাদের মুখে অনির্ধারিত সময়ের জন্য কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়। ফলে এরিয়ান এর ৫ সপ্তাহের জন্য তাদের রকেট উড্ডয়ণ বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়। পরবর্তী ২ মাসে ৩ টি মিশন বাতিল হয়ে যায়। ফলে বংগবন্ধু-১ এর উৎক্ষেপণ নিয়েই তৈরি হয় শংকা।

বাংলাদেশ চাচ্ছিল ১৬ ডিসেম্বর, ২০১৭ তে, মহান বিজয় দিবস এর দিন বঙ্গবন্ধু-১ উৎক্ষেপণ হোক। কারিগরী কিছু কারণে এরিয়ান এই সময়েই মাঝেই কাজটি সম্পন্ন করার নিশ্চয়তা দিতে পারে নি।

ফলে এরিয়ানকে ব্যাক আপ হিসেবে রেখে, বাংলাদেশ স্পেস-এক্সকে বেছে নেয়; যদিও এর ফলে ডিসেম্বর, ২০১৭ তে না হয়ে ১১ মে, ২০১৮ তে বঙ্গবন্ধু-১ উৎক্ষেপিত হতে যাচ্ছে।

লেখাঃ জুলকারনাইন মেহেদী

লেখাটি স্পেস নিউজে প্রকাশিত How Bangladesh became SpaceX’s first Block 5 Falcon 9 customer ফিচার থেকে অনূদিত।

মন্তব্য
লোডিং...