এবার পুরো পৃথিবী বাংলায়

যুদ্ধে আবিষ্কৃত যে জিনিসগুলো ব্যবহার করছেন আপনিও..

রণকৌশল উন্নত করার নিমিত্তে প্রতিনিয়ত নানান ধরণের পরীক্ষানিরীক্ষা করা হচ্ছে, নতুন নতুন সব জিনিস আবিষ্কার করা হচ্ছে। এমন অনেক জিনিসই আজ আমাদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রার সঙ্গী যা কোনসময় আবিষ্কৃত হয়েছিলো রণক্ষেত্রে ব্যবহারের জন্য।

মাইক্রোওয়েভ ওভেন:

মাইক্রোওয়েভ ওভেন আজ প্রায় প্রতিটি ঘরেই রয়েছে। কিন্তু এইটি আবিষ্কৃত হয়েছিলো ২য় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে, তাও আবার অনিচ্ছাকৃতভাবে! পার্সি স্পেন্সার, একজন যুক্তরাষ্ট্রীয় প্রকৌশলী এবং আবিষ্কারক, একটি রেডিও সেট এর উপর কাজ করছিলেন। সেই রেডিও সেট হতে তীব্র তড়িৎচৌম্বকীয় তরঙ্গ নির্গত হয় এবং এতে তার পকেটে রাখা একটি চকলেট বার গলে যায়। এভাবেই সর্বপ্রথম আকস্মিকভাবে মাইক্রোওয়েভ রান্না হয়ে যায়।

যুদ্ধপরবর্তী সময়ে মাইক্রোওয়েভ ওভেনকে রান্নার যন্ত্র হিসেবে বাজারজাত করা হলে কেউই এর প্রতি আগ্রহ দেখায়নি। কেননা এটি ছিলো বেঢপ আকৃতির এবং ব্যয়বহুল। প্রায় দুইদশক পর এর নানান পরিবর্তন সাধিত করে একে বাজারজাত করা হয়। তার পরের ঘটনা আমরা সকলেই জানি!

 

ড্রোনস:

ড্রোনস অর্থাৎ ছোট আকৃতির প্লেনগুলো তৈরী করা হয়েছিলো ১৯১৬ সালে। যুক্তরাষ্ট্রীয় নৌবাহিনী এটি তৈরী করেছিলো ছোটখাটো বোমা বহন করার জন্য। তাছাড়া গোপন ক্যামেরা দিয়ে শত্রুপক্ষের ক্যাম্পের ছবি তোলার মতো কাজেও এইটি ব্যবহৃত হয়েছিলো। সময়ের সাথে সাথে এইটি যুদ্ধক্ষেত্র থেকে বের হয়ে জায়গা করে নিয়েছে সাধারণ মানুষের জীবনে। এখন এই ড্রোন ব্যবহৃত হচ্ছে চলচ্চিত্র নির্মাণ, ফটোগ্রাফি সহ আরো অনেক কাজে।

ইন্টারনেট:

ইন্টারনেট ছাড়া আজ আমাদের জীবন প্রায় অসহায়। ১৯৬৯ সালে যুক্তরাষ্ট্র-ভিয়েতনাম যুদ্ধ চলাকালীন অবস্থায় একজন যুক্তরাষ্ট্রীয় কম্পিউটার সায়েন্টিস্ট J.C.R. Licklider ইন্টারগ্যালাকটিক কম্পিউটিং নেটওয়ার্ক নামে একটি মতবাদ প্রকাশ করেন যা আমাদের বর্তমান ইন্টারনেটের মূল ভিত। তার মতবাদ অনুসারেই তৈরী হয় একটি নেটওয়ার্ক  ARPANET, যার মাধ্যমে ভিন্ন ভিন্ন কম্পিউটার নিজেদের মধ্যে তথ্য আদানপ্রদান করতে পারতো। এই ARPNET ই হচ্ছে বর্তমান ইন্টারনেটের জনক।

সাধারণ মানুষের ব্যবহারের বহুদিন আগ পর্যন্ত এই ইন্টারনেট শুধুমাত্র যুক্তরাষ্ট্রীয় সামরিক বাহিনীর মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিলো।

এভিয়েটর সানগ্লাস:

বর্তমানে প্রতিটি ফ্যাশনেবল মানুষের কাছে এভিয়েটর সানগ্লাস একটি সুপরিচিত নাম এবং প্রায় সকলের কাছেই এটি আছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালীন এই সানগ্লাসটি তৈরী করা হয়েছিলো যুদ্ধবৈমানিকদের জন্য এবং এইটিকে বলা হতো “পাইলট গ্লাসেস” অর্থাৎ পাইলটদের চশমা। রোদের হাত থেকে বৈমানিকদের চোখ বাঁচাতে এবং চোখে তীব্র সূর্যরশ্মি এসে লাগলেও যেন তারা  শত্রুদের দেখতে পারে, সেভাবেই এই রোদচশমা তৈরী হয়েছিলো। এই রোদচশনা ৮০% সূর্যরশ্মি আটকাতে সক্ষম ছিলো। পরবর্তীতে আরো মোটা করে এবং আরো বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য সংযোজন করে বৈমানিকদের জন্য বিশেষ চশমা তৈরী করা হয় এবং এই এভিয়েটর গ্লাস জনপ্রিয়তা পায় সাধারণ মানুষের মাঝে।

ভার্চুয়াল রিয়ালিটি:

ভার্চুয়াল রিয়ালিটি বা থ্রি ডি গগলস প্রযুক্তি শুধুমাত্র সৈনিকদের প্রশিক্ষণ দেয়ার উদ্দেশ্যে তৈরী হয়েছিলো। এই গগলস পরে সৈন্যরা চোখের সামনে ভার্চুয়াল যুদ্ধক্ষেত্র দেখে প্রশিক্ষণ নিতো। পরবর্তীতে ভার্চুয়াল রিয়ালিটির এই প্রযুক্তিটি সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হয়। তাই বর্তমানে গুগল গ্লাস বহুল পরিচিতি লাভ করছে।

মন্তব্য
লোডিং...