বিজ্ঞানী স্যার আইজ্যাক নিউটনের সেই আপেল গাছের গল্প

ইউনিভার্সিটি অব ইয়র্ক এর ফিজিক্স ডিপার্টমেন্টে যে আপেল গাছটি রয়েছে তা প্রাচীন এক আপেল গাছ থেকে  কলম করে নেয়া হয়েছিলো। নিউটনের জন্মস্থান,লিঙ্কনশায়ারের উলসথর্প ম্যানরে তার নিজের বাগানে এখনো সেই প্রাচীন গাছটি টিকে রয়েছে।

এটিই সেই কথিত আপেল গাছ, ১৬৬৬ সালের গ্রীষ্মের শেষের দিকে নিউটন যা থেকে আপেল পড়তে দেখেছিলেন এবং এই আপেল পতনের ঘটনা তাকে মাধ্যাকর্ষণের প্রকৃতি নিয়ে ভাবতে উদ্বুদ্ধ করেছিল।

ফিজিক্স ডিপার্টমেন্ট ১৯৭৬ সালে কিউ গার্ডেন থেকে গাছটি পেয়েছিলো।

আপেলের পতন থেকে আবিষ্কৃত নিউটনের সার্বজনীন মাধ্যাকর্ষণ সূত্রের বর্ণনা সুপরিচিত ছিলো এবং তবে প্রথম দিকে তা প্রমাণিত না হওয়ায় অগ্রাহ্য করা হয়। যাই হোক, বিন্দু থেকেও সিন্ধু হতে পারে,নিউটন তাঁর আবিষ্কার বিভিন্ন সুপরিচিতদের  মাঝে বর্ণনা করে তা প্রমাণ করেন। তাদের মধ্যে ছিলেন: ভলতেয়ার (ফরাসি দার্শনিক এবং প্রবন্ধকার) ; জন কন্ডুইট(রয়েল মিন্টে তার সহকারী) ;ক্যাথেরিন বার্টন( তার ভাতিজি) ;উইলিয়াম স্টিকলি( নিউটনের বন্ধু এবং প্রত্নতত্ত্ববিদ) এবং ক্রিস্টোফার ডসন( ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র)।

blank
he first thought of his system of gravitation which he hit upon by observing an apple fall from a tree,

যে বছর নিউটন মারা যান অর্থাৎ ১৭২৬ সালে জন কন্ডুইট  তার নোটে প্রথমবারের মতো নিউটনের জীবনীর লিখিত বর্ণনা দেন।কন্ডুইট  সেখানে বলেন, ” একটি আপেলকে পড়তে দেখে নিউটন সর্বপ্রথম তার মাধ্যাকর্ষণ সূত্র নিয়ে ভেবেছিলেন।” এবং  এটি ১৬৬৬ সালের গ্রীষ্মের শেষের দিকের ঘটনা।

অন্য এক বর্ণনায় বলা হয়,”  যখন আপেলের  পতন ঘটে তখন নিউটন গ্রান্থামের নিকটে লিঙ্কনশায়ারের উলসথর্প ম্যানরে তার বাগানে বসেছিলেন।”
নিউটন যে গাছটি থেকে আপেল পড়তে দেখেন গাছটি যে তার বাগানেরই ছিল তা সর্বপ্রথম  জানা যায় এডমন্ড টার্নরের “এ হিস্ট্রি অব দ্য টাউন এন্ড সোক  অব গ্রান্থাম” নামক বই থেকে। বইয়ের ১৬০ নং পৃষ্ঠায় এক  পাদটীকায় বলা হয়, ” গাছটি এখনো টিকে আছে এবং তা আগন্তুকদের দেখানো হয়।”

তার ভাই,রেভ চার্লস টার্নর ১৮২০ সালে ম্যানরের বাসার সাথে গাছটির অবস্থান দেখিয়ে একটা সমসাময়িক  ছবি আঁকেন। যদিও ঠিক কোন গাছটি থেকে নিউটন আপেল পড়তে দেখেছিলেন,তিনি তা নির্দিষ্ট করে বলেন নি কিন্তু দেখা যায় যে তার বাগানে একটি মাত্র আপেল গাছ এবং স্বাভাবিক ভাবে সেই গাছটি নির্বাচিত হয়। ১৮৩০ সালে স্যার ডেভিডসন ব্রিউস্টার বাড়িটি পর্যবেক্ষণ করতে গেলে, তিনি সর্বপ্রথম এই নিয়ে তথ্য দেন।

blank১৭৫০ সাল থেকে উলার্টন পরিবারের বংশধরেরা  গাছটি দেখেশুনে রাখতো। উলার্টন পরিবার ১৭৩৩ সাল থেকে ১৯৪৭ সাল পর্যন্ত  ম্যানরের সেই বাড়িতে থাকতেন এবং তারা ছিলো ভাড়াটে চাষী। গাছটির রক্ষণাবেক্ষণের জন্যে তাদের এতো প্রচেষ্টা সত্ত্বেও ১৮১৬ সালের এক ঝড়ে গাছটি উপড়ে যায়। কিছু শাখা এতে বাদ পড়লেও, গাছটির বিশাল অংশ সরিয়ে আবার শিকড় গাড়ানো হয়েছিলো।বিষ্ময়কর ব্যাপার হলো,গাছটি আজও উলসথর্প ম্যানরে বেড়ে উঠছে এবং এর বয়স ৩৫০ বছর তো হবেই।

নিউটনের আপেল গাছটি বর্তমানে এর মূলের তৃতীয়  স্তরের উপর দাঁড়িয়ে আছে কিন্তু প্রতি গ্রীষ্মে এখনো আপেলের ভালো ফলন দিয়ে যাচ্ছে।

এখানকার ( ফিজিক্স ডিপার্টমেন্টের) নিউটনের  আপেল গাছের বংশতালিকা 

blankআপেল গাছটি অত্যন্ত বিরল প্রকারের ‘ফ্লাওয়ার অব কেন্ট’,যা পঞ্চদশ শতাব্দীতে সর্বপ্রথম উল্লেখ করা হয়।ফিজিক্স ডিপার্টমেন্টে যে গাছটি বেড়ে উঠছে তা আমাদের জন্যে ১৯৭৬ সালে কিউ গার্ডেন দিয়েছিলো। কিউ গার্ডেনে আপেল গাছটি আনা হয় ক্যামব্রিজ বোটানিক্যাল গার্ডেন  থেকে।তারাও সেটি পেয়েছিলো কেন্টের ইস্ট মলিং এ অবস্থিত ফ্রুট রিসার্চ স্টেশন থেকে।   ফ্রুট রিসার্চ স্টেশন  ১৯৩০ সালে লিঙ্কনশায়ারের বেল্টন পার্কের একটি গাছ থেকে কান্ড সংগ্রহ করে।গাছটির বংশবিস্তারের জন্যে ১৮২০ সালের দিকে রেভ চার্লস টার্নর উলসথর্প ম্যানরে নিউটনের বাগান থেকে গাছটি  বেল্টন পার্কে নিয়ে এসেছিলেন।

লেখক: ড: রিচার্ড কিসিং,  ডিপার্টমেন্ট অব ফিজিক্স, ইউনিভার্সিটি অব ইয়র্ক।
অনুবাদক:তাসনিম শর্মী