এবার পুরো পৃথিবী বাংলায়

যখন আপনার চাকরির অফার লেটার গ্রহণ করা উচিত নয়

 

আমার মতো যারা গ্র্যাজুয়েশন কমপ্লিট করে চাকরি খুঁজছেন, তাদের জন্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মনে রাখা উচিৎ। চাকরি মন্দার এই বাজারে কোনও রকমে একটা চাকরি জোটাতে পারলেই সেটাকে সোনার হরিণ মনে করেন। তবে সেই সোনার হরিণ পাওয়ার খুশিতে আটখানা না হয়ে কিছু কিছু ব্যাপারে নজর দিলে আদতে আপনারই লাভ। নয়তো পরে ভুগবেন। কথায়ই তো আছে, দুষ্ট গরুর চেয়ে শূন্য গোয়াল ভালো!

তাহলে দেখে নেওয়া যাক, কী কী বিষয় আপনাকে খেয়াল রাখতে হবে!

১. আপনার স্যালারির পরিমাণ যদি নিয়োগের সময় বলে দেওয়া অংকের তুলনায় কম হয় বা নিয়োগের আগে আপনাকে প্রতিশ্রুত স্যালারির সাথে যদি আপনার প্রাপ্ত স্যালারির বড়সড় ব্যবধান থেকে থাকে, তাহলে আপনি ঐ চাকরিটাই ছেড়ে দিন।

২. ইন্টারভিউ নেওয়া কাউকে অবিশ্বস্ত মনে হলে, আপনি ঐ জব অফার ফিরিয়ে দিন।

৩. যদি কোম্পানির আচার-আচরণ আপনার কাছে অস্বস্তিকর মনে হলে, আপনি ঐ চাকরির অফার ফিরিয়ে দিন। যদি কোম্পানির কর্মীরা ঠিকমত না হাসে বা একজন আরেকজনের সাথে খোলামনে কথা বলতে না পারে, এর অর্থ অফিসের রীতিনীতি ভালো না। রীতিনীতি ভালো না হলে, ঐ অফিসে চাকরি করা কখনোই সুখকর হবে না।

৪. কোম্পানীর উর্ধ্বতনের কেউ যদি আপনাকে বিশ্বাস না করে তাহলে ঐ চাকরি ছেড়ে দেওয়াই উত্তম। ধরুন, আপনি আগের কোম্পানি কত বেতন পেতেন সেটা আপনি মুখে বলার পরও তারা আপনার কাছে প্রমাণস্বরুপ ঐ অফিসের পে-চেক চাইলো। এর অর্থ তারা আপনাকে বিশ্বাস করছে না। চাকরীর সময়কালে আপনাকে যেমন কোম্পানীর অন্যান্যদেরকে বিশ্বাস করতে হবে, সেই সাথে তাদেরও আপনাকে বিশ্বাস করতে হবে। আপনাকে যে অবিশ্বাস করবে, তাকে আপনি বিশ্বাস করতে যাবেন কেন?

৫. ইন্টারভিউ প্রসেস চলার সময় কর্তৃপক্ষ আপনার সাথে খারাপ ব্যবহার করলে, ঐ চাকরির অফারে সাড়া না দেওয়াই উত্তম। তারা যদি রিক্রুটের সময়ই আপনার সাথে খারাপ আচরণ করে বা ভালোবাসা না দেখায়, তাহলে ধরে নিতে পারেন পরবর্তীতে পরিস্থিতি আরো বাজে হবে।

৬. কর্তৃপক্ষ যদি আপনার হবু টিমমেটদের সাথে দেখা না করতে দেয়, তাহলে জবের অফারে সাড়া দেওয়াটা ঠিক হবে না।

৭. কর্তৃপক্ষ যদি আপনাকে আপনার কর্মক্ষেত্র না দেখায় বা চাকুরি ক্ষেত্রে যাওয়ার আগে আপনাকে পড়ার জন্য কোম্পানির টিউটিরাল হ্যান্ডবুক না দেয়, তাহলে ঐ চাকরিটা না করাই উত্তম। হ্যান্ডবুকের মাধ্যমে আপনি কোম্পানীর নিয়মনীতি সম্পর্কে জানতে পারবেন। চাকরির অফারে পুরোপুরি সাড়া দেওয়ার আগে ওটা একবার দেখে নিন। যদি কোম্পানীর পলিসি খুব বেশি রকমের কঠোর হয় – তাহলে ভেগে যান ওখান থেকে।

৮. অনেকের এক্ষেত্রেই এটা ঘটে যে, ইন্টারভিউ দিয়ে এসেছে অনেক দিন হলো, কিন্তু চাকরী চূড়ান্ত হয়েছে কিনা তা জানাচ্ছে না। দিনের পর দিন কেটে যাচ্ছে, কর্তৃপক্ষ নিরব। তারপর হুট করেই একদিন জানালো যে আপনার চাকরিটা হয়েছে। এরকম ক্ষেত্রে চাকরির ডাকে সাড়া না দেওয়াটাই উত্তম। তাদের যদি আপনার প্রতি সাধারণ যোগাযোগ করার মতো সম্মানটুকুও না থেকে থাকে, তাহলে তারা আপনাকে ডিজার্ভ করে না। তাদেরই আপনাকে নেওয়ার যোগ্যতা নেই।

৯. চাকরি সময় যদি মনে হয় আপনি লং-টার্ম জবের চেয়ে শর্ট-টার্ম উপদেষ্টা হিসেব আছেন, তাহলে ঐ চাকরিটা থেকে পদত্যাগ করাই ভালো। বর্তমানে বিবেকবর্জিত নিয়োগকারীরা টাকা বাঁচানোর জন্য শর্ট-টার্ম উপদেষ্টাদের বদলে কম টাকায় লং-টার্ম চুক্তিতে কর্মী নেয়। শর্ট-টার্মের জন্য ঘন্টা হিসেবে খরচটা কিছুটা বেশি।

১০. কাজের ব্যাপারে আপনার ইন্দ্রিয় যদি খারাপ কিছু বলে বা আপনার যদি ভিতর থেকে কাজের ধরণটা সম্পর্কে কিছু একটা বেঠিক মনে হয়, তাহলে চাকরিটা না নেওয়াই উত্তম।

মন্তব্য
লোডিং...