এবার পুরো পৃথিবী বাংলায়

সেরাদের কাতারের একজন- তাহসান রহমান খান…

সেভেন কি এইটে প্রথম শুনি, “বিন্দু আমি, তুমি আমায় ঘিরে … “
এতো চমৎকার ছিলো গানটা, ছোট্ট মিউজিক প্লেয়ারে সারাদিন এই একই গান শুনতাম। তখনো ভালো করে লিরিক বুঝতাম না। এমনিই গুনগুন করে সুর ভাজতাম গানটার। তখনো গায়কের নাম জানি না। গায়কের নাম জানলাম, আরোও কয়েকদিন পর। সেই সাথে এও জানলাম যে তার একটা ব্যান্ড দল আছে। ওই বয়সটায় ব্যান্ডের গানই বেশি শুনতাম। পছন্দের তালিকায় অর্থহীন, আর্টসেল, শিরোনামহীনের সাথে যুক্ত হলো আরো একটা ব্যান্ড- ব্ল্যাক। আর সেই সাথে পরিচয় হলো সফট গান গাইতে ভালোবাসে, এমন একজন গায়কের সাথে- তাহসান

সেই সময়ে লিরিক নিয়ে অতো একটা মাথা না ঘামালেও তার কিছুদিন পরে গান শোনার চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো, লিরিক মুখস্থ করা। কোনও গান ভালো লাগলে আগেই লিরিক লিখে নিয়ে মুখস্থ করতাম। সেসময়ে দেখলাম, কি অসম্ভব সুন্দর শব্দ সাজিয়ে তৈরি হয় তাহসানের গানের লিরিক! ঠিক যেন উচ্চমার্গীয় কোনো সাহিত্য। ভাবতাম, অবাক হতাম, মুগ্ধ হতাম।

তারও অনেকদিন পর তাহসানের ব্যাকগ্রাউন্ড জানতে পারি। নটর ডেম কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের থেকে মার্কেটিংএ পড়াশোনা করে মাস্টার (ফাইন্যান্স) ডিগ্রী লাভ করেছেন। তারপর স্কলারশিপ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব মিনেসোটা কার্লসন স্কুল অব ম্যানেজমেন্টে ব্র্যান্ড ম্যানেজমেন্টের উপর পড়তে যান। ২০১০ খ্রিস্টাব্দে মাস্টার অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন ডিগ্রী অর্জন করে দেশে ফিরে আসেন। বাংলাদেশে এতো চমৎকার গান করেন, এমন একজনের হায়ার এডুকেশন ব্যাকগ্রাউন্ড জানতে পেরে আমার মুগ্ধতা বাড়ে।

তার উপরে বেশ কয়েকটি বেসরকারী ইউনিভার্সিটিতে শিক্ষকতা করেছেন। এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট ফর রিসার্চ ইন মার্কেটিং এ গবেষণা সহকারী হিসেবে কাজ করেছেন। এসব তথ্য যেন আপনা আপনিই তার প্রতি শ্রদ্ধা জাগায়।

খারাপ লেগেছিল, ব্ল্যাক ছেড়ে দেওয়ায়। কিন্তু সে সম্পর্কে তার বক্তব্য শুনে আর কিছু বলার ছিলো না। ব্যান্ড ছেড়ে দিলেও কাদা ছোঁড়াছুড়ির কোনও ব্যাপার চোখে পড়েনি। ব্ল্যাক সম্পর্কে তাহসান বলেছিলো- “ব্ল্যাক ব্যান্ডের সবাই এখনো আমার ভালো বন্ধু। আসলে ওঁরা অল্টারনেটিভ রক ধাঁচের গান করতে চেয়েছে। আর আমি স্লো ব্যালেড ধাঁচের গান করি। তাই আমি ওঁদের ইচ্ছাকেই সম্মান জানিয়েছি। নিজের ইচ্ছাকে জোর করে চাপিয়ে দিতে চাইনি।”

আজকাল অভিনয় করে বেশ কিছু হেটার জন্ম দিয়েছেন তাহসান। এখনকার নাটকের দর্শকরা তাহসানকে ট্রল না করে স্বস্তিই পায় না। কিন্তু সত্যি বলতে কী, আমি তার যে কয়েকটা নাটক দেখেছি, ভালো লেগেছে আমার। মন ফড়িংয়ের গল্প, মনসুবা জাংশন, নীলপরি নীলাঞ্জনা, মনের মতো মন; এই নাটকগুলো ভালো লেগেছে। হ্যাঁ, কিছু নাটক ছিলো একদমই বাজে। সেসব ক্ষেত্রে তার উচিৎ ছিলো, গল্প বেছে বেছে নাটক করা। আসলে ওসব নাটকই তাকে বাঙালির কাছে হাসির পাত্র করেছে।

তবে এখনো যদি কেউ তার গান নিয়ে ট্রল করে, তাহলে বলবো বোকার স্বর্গে বাস করছে তারা। হ্যাঁ, কথোপকথন, কৃত্যদাসের নির্বান এর তাহসান আর লাস্ট অ্যালবামের তাহসানে অনেক তফাত আছে। কিন্তু তবুও কি ব্যান্ড দল ছাড়া সমসাময়িকদের তার চেয়ে ভালো গায়ক আর একজনও আছে বাংলাদেশে? এতোই যদি বাজে হবে, তাহলে ২০১৫ সালের মেরিল-প্রথম আলো পুরস্কারে সেরা গায়ক কী করে হলেন তাহসান?

তাহসানের ভয়েস,মিউজিক সেন্স দুইটাই দারুণ। ব্যক্তি হিসেবে তিনি অসম্ভব সফল একজন মানুষ। যেটাকে ঈর্ষা করা যায়। হয়তো ওই ঈর্ষা থেকেই লোকের ট্রল করার ভাবনা আসে। ব্যক্তি জীবনেও মানুষ হিসেবে যথেষ্ট পরিপক্ক তাহসান। অন্তত মিথিলার সাথে ডিভোর্স নিয়েকাদা ছোঁড়াছুঁড়ি তো করেননি!

এই ছবি এখন শুধুই স্মৃতি

একজন মানুষ হিসেবে তাহসান সেরাদের কাতারেই থাকবে। জন্মদিনে তাকে অনেক অনেক শুভেচ্ছা জানাই। 
ভালো থাকুন তাহসান। 
ভালো থাকুক তার সঙ্গীত।

মন্তব্য
লোডিং...