এবার পুরো পৃথিবী বাংলায়

ইতিহাসের সাক্ষী বিভিন্ন যুদ্ধে অংশ নেয়া ভয়ঙ্কর ১০ যুদ্ধবিমান

বিশ্বের প্রতিটি দেশেরই তার আকাশসীমার সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকল্পে বিমান বাহিনীর গুরুত্ব। বিরুদ্ধ দেশের বিমান  আক্রমন মোকাবেলা এবং  প্রতি আক্রমনের মাধ্যমে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় প্রতিটি দেশের নিজস্ব বিমান বাহিনী থাকা আবশ্যক। কার অস্ত্রভাণ্ডার কত সজ্জিত তা সব সময়েই কোনও না কোনও ভাবে শক্তিধর দেশগুলি প্রমাণ দিয়ে চলেছে। অস্ত্রভাণ্ডারে সজ্জিত যুদ্ধবিমানের অধিকারীর প্রমাণ দিয়ে চলেছে শক্তিধর দেশগুলো। বিভিন্ন যুদ্ধে অংশ নেয়া বিশ্বের সেরা দশটি যুদ্ধবিমান সম্পর্কে কিছু তথ্য জেনে নেয়া যাক।

 ০১. এফ১৫ ঈগল

F-15

আধুনিক এবং সফলতম যুদ্ধবিমানগুলির মধ্যে একটি। ১৯৭২ সালে প্রথম আত্মপ্রকাশ।এফ ১৫ ঈগল আমেরিকার  নির্মিত একটি অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান। ভিয়েতনাম যুদ্ধের পর আমেরিকার উদ্দেশ্য ছিল  সোভিয়েত মিগ সিরিজের বিমানগুলোকে আকাশযুদ্ধে পরাজিত করা। ফলশ্রুতিতে হেভিওয়েট ফাইটার হিসেবে জন্মলাভ করে । এফ১৫ ঈগল  মূলত একটি এয়ার সুপেরিয়রিটি ফাইটার। দুই ইঞ্জিন বিশিষ্ট সুপার সনিক বিমানটির  সর্বোচ্চ গতি প্রতি ঘণ্টায় ২৬৬৫ কিলোমিটার। একশোরও বেশি যুদ্ধে ব্যবহৃত হয়েছে। সাফল্যও পেয়েছে। বর্তমানে আমেরিকা ছাড়াও ইসরায়েল,জাপান ও সৌদি আরবের বিমানবাহিনীতে এই বিমান ব্যবহৃত হয়।

০২. দাসল্ট রাফা

rafale-fighter-aircraft

রাফালে ফ্রান্সের নির্মিত একটি ডেল্টাউইং মাল্টিরোল ফাইটার। ১৯৭০ সালে ফ্রান্স সরকার  নিজস্ব প্রযুক্তি ও ডিজাইনে ২০০০ সালের ৪ ডিসেম্বরে রাফালে বিমানটি নির্মিত হয়। রাফালে বিমানটিতে সর্বাধুনিক প্রযুক্তির রাডার,সেন্সর সিস্টেম, কম্পিউটার সংযোজিত হয়েছে । দুটি ইঞ্জিনসংবলিত এই বিমানটি অত্যন্ত দ্রুতগামী। এর সর্বোচ্চ গতিবেগ ২১৩০ কিমি./ ঘণ্টা। এটি দিবারাত্রি যুদ্ধের উপযোগী একটি অত্যন্ত কার্যকর বিমান। ফ্রান্সের নৌ ও বিমান বাহিনীতে বর্তমানে এই বিমান ব্যবহৃত হয়।

০৩. সুখোই এসইউ২৭

sukhoi-su-27

সুখোই এসইউ-২৭ সোভিয়েত রাশিয়া নির্মিত একটি সুপারসনিক যুদ্ধবিমান।  ১৯৬৯ সালে সোভিয়েত ইউনিয়ন আমেরিকার এফ-১৫ এবং এফ-১৬ বিমানগুলোকে আকাশযুদ্ধে প্রতিহত করার লক্ষ্যে ১৯৮৪ সালে এসইউ-২৭ বিমানগুলো নির্মিত হয়। এসইউ-২৭ অত্যাধুনিক রাডার,সেন্সর এবং ক্ষেপণাস্ত্র সজ্জিত। দুটি শক্তিশালী  ইঞ্জিনবিশিষ্ট এই বিমানের সর্বোচ্চ গতিবেগ ২.৩৫ বা ২৫০০ কিমি./ঘণ্টা। বর্তমানে রাশিয়া, গণচীন, উজবেকিস্তান, কাজাখস্তান, ভিয়েতনাম, ইউক্রেনসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ তার বিমান বাহিনীর জন্য এই বিমান ব্যবহার করছে।

০৪. বোয়িং এফ/১৮ই/এফ সুপার হর্নেট

f-18-e-super-hornet

ইউএস আর্মির সর্বপ্রথম স্ট্রাইক ফাইটার বিমান হচ্ছে এফ সুপার হর্নেট। ১৯৮০ সালে এই যুদ্ধ বিমানটি সার্ভিস শুরু হয়। এটি মূলত এফ/এ – ১৮ হর্নেট ফাইটারের একটি লাইট আর্ম ভার্সন । বহু গুণসম্পন্ন এই বিমান আকাশে একচ্ছত্র আধিপত্য বজায় রাখতে সক্ষম।

ভূমি এবং  ভূমির উপরের এ্যারিয়াল উভয় টার্গেটে আক্রমন করতে সক্ষম এই যুদ্ধ বিমান।  এটি এ্যান্টি এ্যায়ারক্রাফ্ট রাডার অবজেক্ট কে খুজে বের করে এবং শত্রু পক্ষের কমিউনিকেশান সিস্টেমে নিজের পাঠানো সিগন্যালের মাধ্যমে পুরো জ্যাম করে দিতে সক্ষম।বর্তমানে এটি ইউএস আর্মি ছাড়াও কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, স্পেন, সুইজারল্যান্ড, ফিনল্যান্ড, কুয়েত এবং মালয়েশিয়া আর্মিতে ও সার্ভ করে যাচ্ছে।

০৫. সুখোই এসইউ৩৫

sukhoi-su-35

রাশিয়ার তৈরি দূরপাল্লার এই বিমান বহু ক্ষমতাসম্পন্ন। এসএউ-২৭এম যুদ্ধ বিমানের আধুনিক ভার্সন হচ্ছে সুখোই এসইউ-৩৫। সুখোই এসইউ-৩৫ এর অত্যাধুনিক যুদ্ধ বিমানগুলো এক কথায় মার্কিন বৈমানিকদের মাথা ঘুরিয়ে দেয়ার জন্য যথেষ্ট। নিখুত লক্ষ্যভেদের বাইরেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতিতে অন্যান্য এর জুড়ি মেলা ভার। উদাহরণস্বরূপ সিরিয়ার যুদ্ধক্ষেত্রে এই যুদ্ধ বিমানগুলো তাদের কার্যকারিতা প্রমাণ করেছে। অনেক প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞের কল্পনাও ছিল না যে রাশিয়ার যুদ্ধবিমান এমন ক্ষয়ক্ষতি করতে পারে।

০৬. মিগ ২১

mig-21

মিগ ২১ ষাটের দশকের দিকে নির্মিত সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের তৈরি একটি যুদ্ধবিমান। এটি পৃথিবীর সর্বাধিক উৎপাদিত এবং বিক্রিত বিমান গুলোর একটি।  বাংলাদেশ, ভারত, ভিয়েতনামসহ এখনও পর্যন্ত পৃথিবীর বহু দেশ এই যুদ্ধ বিমান ব্যবহার করে থাকে । মিগ২১ একটি সুপারসনিক জেট ফাইটার। এটি আকাশ থেকে মাটিতে এবং আকাশ থেকে আকাশে শত্রু বিমানের সাথে যুদ্ধ করতে বিশেষ পারদর্শী। সুপারসনিক গতি এবং উন্নত ম্যানুভ্যারিটি ক্ষমতা সম্পন্ন এই বিমান শত্রুর উপর নিমেষে আঘাতহানতে পারে।  ভিয়েতনাম যুদ্ধে উত্তর ভিয়েতনাম এই বিমান ব্যবহার করে আমেরিকানদের বাঘা বাঘা বিমানকে ভুপাতিত করেছিল। একজন দক্ষ পাইলটের পরিচালনায় এই বিমান এক ভয়ঙ্কর বিধ্বংসী মারণাস্ত্র।

০৭. ইউরোফাইটার টাইফুন

eurofighter

ইউরোফাইটার টাইফুন মূলত ইংল্যান্ড, জার্মানি, ইটালি ও স্পেনের চারটি বিমান নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের একটি যৌথ প্রকল্প। ২০০৩ সালে প্রথম সার্ভিসে আসে ইউরোফাইটার টাইফুন। এটি দুই ইঞ্জিন বিশিষ্ট একটি অসম্ভব দ্রুতগতির সুপারসনিক সেমি- স্টিলথ যুদ্ধ বিমান। আকাশ থেকে আকাশ এবং আকাশ থেকে ভূমিতে লড়াই চালানোর ক্ষমতা রয়েছে এই বিমানে। বর্তমানে ইংল্যান্ড, জার্মানি, ইটালি, স্পেন ছাড়াও সৌদি আরবসহ প্রভৃতি দেশ এই বিমান ব্যবহার করছে।

০৮. মিগ ২৯

mikoyan-mig29

মিগ-২৯ বর্তমান সময়ের অন্যতম ভয়ঙ্কর একটি যুদ্ধবিমান। এটি সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের তৈরি ৪র্থ প্রজন্মের যুদ্ধবিমান। ১৯৮৩ সালে প্রথম সোভিয়েত বিমানবহরে অন্তর্ভুক্ত হয়। অত্যাধুনিক অস্ত্রসজ্জায় সজ্জিত এই বিমানের বিশেষত্ব এইএসএ রাডার এবং গ্রাউন্ড কন্ট্রোল ইন্টারসেপশন সিস্টেম রয়েছে।  এটি একইসাথে আকাশে ও ভূমিতে হামলার জন্য অত্যন্ত পারদর্শী। এর শক্তিশালী বার্নিং টার্বো ফ্যান ইঞ্জিন নিমেষেই বিমানকে সাবসনিক থেকে সুপারসনিক গতিতে নিয়ে যেতে পারে। অত্যাধুনিক ম্যানুভ্যারিটি ক্ষমতাসম্পন্ন এই বিমান বিপক্ষ বিমানের মিসাইলকে ফাঁকি দিয়ে পুনরায় পাল্টা আক্রমন চালাতে পারে। এটি দীর্ঘদিন পশ্চিমা এবং ইউরোপিয়ান দেশ গুলোর ফিয়ার ফ্যাক্টর ছিল। মিগ২৯ বর্তমান সময়ের আলোচিত একটি বিমান যা পৃথিবীর বিভিন্ন বিমানবাহিনীতে অত্যন্ত সফলতার সাথে ব্যবহৃত হচ্ছে। বাংলাদেশ বিমানবাহিনীতে বর্তমানে ৮টি মিগ২৯ বিমান আছে।

. এফ১৬ ফাইটিং ফ্যালকন

f-16-fighting-falcon

মার্কিন বায়ুসেনার জন্য এই বিমান তৈরি করেছে জেনারেল ডায়নামিকস নামক এক মার্কিন প্রতিষ্ঠান। বর্তমানে লকহিড মারটিন কোম্পানি এই বিমান উৎপাদন করছে। মিগ-২৯ বিমানের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে মূলত এই বিমান নির্মাণ করা হয়। এটি ৪র্থ প্রজন্মের মাল্টিরোল যুদ্ধ বিমান। এই যুদ্ধবিমান বহুমুখী ক্ষমতাসম্পন্ন । ১৯৭৮ সালে সার্ভিসে আসার পর থেকে এই বিমান ২৫টি দেশের বায়ুসেনা ব্যবহার করে আসছে। এই বিমানকে অফিসিয়ালি ফাইটিং ফ্যালকন বলা হলেও এর ভয়ঙ্কর ধ্বংস ক্ষমতার জন্য পাইলটরা একে ভাইপারও বলে থাকে। এর পরিচালন খরচ অন্যান্য বিমান থেকে কম হওয়ায় পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের বিমান বাহিনীর কাছে এর গ্রহণযোগ্যতা অনেক বেশি।

১০. চেংডু জে১০

chengdu-j-10-fighter-plane

সব আবহাওয়ায় লড়াইয়ের ক্ষমতাসম্পন্ন  চেংডু জে-১০ গণচীনের তৈরি বিশ্বের অন্যতম আধুনিক মাল্টিরোল যুদ্ধবিমান।  এই বিমানটি Vigorous Dragon নামে পরিচিত। বর্তমানে রাশিয়ার তৈরি ইঞ্জিনে পরিচালিত এই ফাইটারের পরবর্তীতে ভার্সন গুলোতে চীনের নিজস্ব  ইঞ্জিন ব্যবহার করা হবে বলে চীনা প্রতিষ্ঠান সিদ্ধান্ত নিয়েছে। চীনা বিমানবাহিনীর অন্যতম একটি স্তম্ভ হিসেবে এই বিমানটি পরিচিত। এর সর্বোচ্চ গতি ম্যাক ২.২ যার ফলে এটি নিমেষেই সুপারসনিক স্পিডে শত্রূ বিমানকে ধাওয়া করতে পারে। চীনের নিজস্ব প্রযুক্তির রাডার, সেন্সর, ককপিট ও অন্যান্য যন্ত্রাংশ সংযোজিত এই বিমানটি অত্যন্ত আধুনিক ও যুগোপযোগী। বর্তমানে চীনের বিমানবাহিনীতে ২৬০টির বেশি জে-১০ বিমান আছে।

মন্তব্য
লোডিং...