বাংলাহাব ধারাবাহিক গল্প- তিনি কোথায় আছেন? (পর্ব ০১)

image source: http://unisci24.com

শীত শীত অনুভূতি তে ঘুম ভাঙলো সুকুমারের।

চোখ মেলে দেখলো সে একটা রাজকীয় রুমে শুয়ে আছে। জায়গা টা অচেনা লাগছে তার। গত রাতে সে বাস স্টেশনের যাত্রী ছাউনিতে শুয়ে ছিল। এখানে কিভাবে এলো! সুকুমার খুব ভাবনায় পড়ে গেল। মাথা টা খুব এলোমেলো হয়ে যাচ্ছে। স্বপ্ন তপ্ন দেখছে নাতো? চিমটি কেটে সিউর হলো, না।খুব ঘোরের মধ্য পড়ে গেল সুকুমার। চারদিকে চোখ বুলাতে লাগল।বেশ সুন্দর বাড়িটা। সে রুম থেকে বের হতেই একটা লোক তাকে সকালের অভ্যর্থনা জানালো এবং ঘুমাতে কোনো অসুবিধা হয়েছে কিনা জানতে চাইলো। সুকুমার এখনো কিছু বুঝে উঠতে পারছে না। এ কোথায় আসলো সে? আর কেনই বা তাকে এত গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে? সেতো ফুটপাতের একজন মানুষ। তাকে এখানে আনার উদ্দেশ্য কী?

আমি এ বাড়ির মালিক। আমার নাম জোসেফ। আমার স্ত্রী আর আমিই এ বাড়িতে থাকি। একটু পর পরিচয় করিয়ে দেবো আপনার সাথে। আপনার মত একজনকে আমি অনেক দিন ধরে খুজছিলাম। গতরাতে অফিস থেকে ফেরার পথে আপনাকে দেখলাম ছাউনিতে শুয়ে আছেন। যেহেতু ছাউনিতে শুয়ে ছিলেন,তাই আপনার ভাল একটা ঘুমের ব্যবস্থা করা আমার দায়িত্ব। তাছাড়া রুলস অনুযায়ী এ বাড়িটা তে সরকার কতৃক ঘোষিত আপনার অংশ আছে।কেননা আপনার যেহেতু বাড়ি নেই এবং আমার প্রয়োজন থেকেও বেশি আছে। জোসেফের কথা যত শুনছে ততই অবাক হচ্ছে সুকুমার।এ কোন দেশে এলো সে! লোকটার বয়স চল্লিশ এর কাছাকাছি। পোশাকআশাক খুব সাধারণ।

জোসেফ তাকে খাবারের টেবিলে নিয়ে গেল। সেখানে খুব সুদর্শনা একজন মহিলা বসে আছে।বয়েস ত্রিশ-পঁয়ত্রিশ হবে বড়জোর। তারা কাছাকাছি যেতেই মহিলাটা তাকে অভ্যর্থনা জানালো।

জোসেফ পরিচয় করিয়ে দিলো তার স্ত্রীর সাথে। তার স্ত্রীর নাম জোহানা উইলিয়াম।

সুকুমার তাদের সাথে কথা বলতে বলতে অনেকটা স্বাভাবিক হয়ে এলো। কিন্তু সে বিশ্বাস করতে পারছিলো না এটা বাস্তবে ঘটছে। তাদের কথা বার্তাতে তার বেশ ভালই লাগছিল।খাওয়া দাওয়া শেষে জোহানা তাকে একটা আইডি কার্ড দিলো এবং বলে দিলো, “যতদিন না আপনার একটা চাকরি হচ্ছে ততদিন আপনি এটা ব্যবহার করতে পারবেন। আপনি যখন একটা চাকরি পাবেন তখন এই কার্ড টা ভ্যালুলেস হয়ে যাবে। আর এই কার্ড টা দিয়ে আপনার জীবন নির্বাহ করার জন্য যা যা প্রয়োজন তা করতে পারবেন। সরকার থেকে রেশন পাবেন। আর আপনি যেহেতু তেমন কোনো কাজ জানেন না তাই আপনাকে একটা এড্রেস দিচ্ছি। ওই ঠিকানায় গিয়ে আপনার এই কার্ড টা দেখাবেন।তাহলে তারা আপনাকে অনেক গুলো কাজের অপশন দিবে আপনার যেটা ভাল লাগবে সে বিষয়ে আপনাকে আগে ট্রেনিং দেওয়া হবে। তারাই আপনাকে অই বিষয়ে দক্ষ বানাবে এবং আপনার চাকরির ব্যবস্থা করবে।”

জোসেফ সুকুমারকে কিছু ডলার দিয়ে বললো,” এগুলোর তেমন প্রয়োজন হবেনা।আমাদের রাষ্ট্র কাঠামো অনেক উন্নত এবং এখানকার প্রায় সবাই সৎ।আপনার যাবতীয় বেসিক খরচ এই কার্ড টা পাঞ্চ করলে সরকার থেকে পেইড হয়ে যাবে।গাড়ি ভাড়া, খাওয়ার বিল,ছয় মাসে একবার ২ টা ড্রেস, সপ্তাহে একবার হলে গিয়ে মুভি দেখার সুযোগ ইত্যাদি মৌলিক চাহিদাগুলো।

“মি। সুকুমার ৮টা প্রায় বেজে গেলো, ৯ টায় আমাদের অফিস। আমাদের এখন যেতে হবে। আপনি আজকেই অই ঠিকানায় গিয়ে অথরিটির সাথে দেখা করে আসুন।”

সুকুমার তাদেরকে বিদায় জানিয়ে কিছুক্ষন পর সেও বেড়িয়ে পড়লো। বাড়ির সামনের যে রাস্তা টা সেটা ধরে এগুতে থাকলো সামনের দিকে। রাজকীয় কায়দায় বানানো মনে হচ্ছে রাস্তা ঘাট । রাস্তাটা বেশ প্রশস্ত। পরিস্কার পরিচ্ছন্ন। ধূলো বালি খাদ খন্দের কোনো ছাপ এখানে নেই।
রাস্তার দুধারে জারুল গাছের সারি।

কিছুদুর পর পর পথ চারিদের জন্য ছাউনি।পানি পানের ব্যবস্থা ও আছে।

এসব দেখে মনে হচ্ছে অচেনা অজানা নতুন এ শহর টা বেশ পরিকল্পিত। সে একটা ছাউনিতে গিয়ে বসলো।

রাস্তা দিয়ে অনেকক্ষন পর পর দু একটা বাস গাড়ি যাতায়াত করছে। ছাউনির সামনে থেমে কাউকে নামিয়ে দিয়ে কাউকে উঠিয়ে নিয়ে চলে যাচ্ছে সামনের দিকে গাড়ি গুলো।সুকুমার একটা বিষয় খেয়াল করলো গাড়ি গুলো তে কোনো ভিড় নেই।সিট অনুযায়ী যাত্রী বহন করছে।

ছাউনি তে আরো কয়েক জন বসে ছিলো হয়তো তাদের গন্তব্যের গাড়ির জন্য। সুকুমার ছাউনি তে বসে থাকা একজনকে তার ঠিকানাটা দেখালো লোকটি তাকে খুব সম্মান দেখিয়ে তাকে বিস্তারিত বলে দিল, কিভাবে যেতে হবে, কোন গাড়িতে উঠতে হবে।

পাঁচ মিনিটের মত বসে থাকার পর ট্রেনিং সেন্টারের বাস টি আসলো।

সুকুমার গাড়িতে উঠে পড়ল এবং একটা সিটে গিয়ে বসলো। গন্তব্য পৌছাতে প্রায় আধা ঘন্টার মতো লাগলো। বাসের স্টাপ ভাড়া চাইলে সে তার কার্ড টি দেখালো স্টাপ খুব বিনয়ের সাথে তাকে ধন্যবাদ জানালো।

বাস থেকে নেমে ঠিকানা টা আরেক টা পথচারি কে দেখালো।

পথচারি তাকে বল্ল সামনের রাস্তা টা ধরে তিন মিনিটের মত হেটে গেলে আপনি ট্রেনিং সেন্টারের সাইনবোর্ড দেখতে পাবেন।সুকুমার তাকে ধন্যবাদ জানিয়ে হাঁটা শুরু করলো সে।এবং ট্রেনিং সেন্টারে গিয়ে অথরিটির কথা বল্ল। তারা তাকে খুব সম্মানের সাথে কি কি বিষয়ে ট্রেনিং দেয় তার খুঁটিনাটি জানালো বিস্তারিত ভাবে।এবং তার নাম এন্ট্রি করে আগামিকাল থেকে ট্রেনিং এ আসার জন্য আমন্ত্রন জানালো।সুকুমার তাদের ধন্যবাদ জানিয়ে বিদায় নিলো। একটা বিষয় খেয়াল করলো সুকুমার এখান কার বাড়িঘর অফিস আদালত খেলার মাঠ রাস্তাঘাট যাবতীয় স্থাপনার মত এখানকার মানুষ জনও খুব ই সুশৃঙখল।

সুকুমার তার দেশের জন্য দুঃখ বোধ করতে লাগল। দুপুরে বাইরে লাঞ্চ করলো সুকুমার। নতুন এ অপরিচিত শহরে হেটে হেটে দেখলে লাগল।

ফিরতি পথে সে যখন বাড়িতে এসেছে তখন প্রায় সন্ধ্যা।

জোহানা জোসেফ দম্পতি ও ততক্ষণে অফিস করে বাসায়। তারা সোফায় বসে কফি খাচ্ছিল।

সুকুমার কে ফ্রেশ হয়ে এসে তাদের সাথে কফি খাওয়ার আমন্ত্রণ জানালো। সুকুমার ফ্রেশ হয়ে এসে কফির মগে চুমুক দিলো।টুকটাক কথাবার্তা শেষে যে যার রুমে গেল। 

( চলবে)