এবার পুরো পৃথিবী বাংলায়

ব্রিটিশ রাজপরিবারে প্রচলিত অদ্ভুত কিছু প্রথা!

“রাজা-রানী” শব্দগুলো শুনলেই চোখের সামনে ভেসে উঠে বাহারী আলখেল্লা গায়ে দিয়ে,অসংখ্য মূল্যবান অলংকার আর জমকালো মুকুট পরে রাজকীয় শকটে চড়ে যাওয়া কারো কথা।ছোটবেলায় রাজাদের নিয়ে বানানো সিনেমা দেখে মনে হত সৃষ্টিকর্তা কেনো আমাকে রাজপরিবারে জন্মাতে দিলেন না!

সাধারণ মানুষদের কাছে রাজকীয় পরিবারের জীবন অনেক লোভনীয় মনে হলেও তাঁদের জীবন কিন্তু অনেক নিয়ম কানুনের ছকে বাধা।চাইলেও রাজপরিবারের সদস্যরা সাধারণ মানুষদের মত সবকিছু করতে পারেন না।

এখনকার গণতান্ত্রিক পৃথিবীতে রাজা-রাজড়ারা আর ক্ষমতায় নেই,তবে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে এখনো তাঁরা উচ্চাসনে আসীন।এমন প্রাচীন রাজপরিবারের মধ্যে ব্রিটিশ রাজপরিবার অন্যতম,আজ তাদের কিছু অদ্ভুত নিয়ম নীতির কথা বলব।

৮ বছর বয়স হয়নি? তাহলে ফুলপ্যান্ট নিষিদ্ধ!

প্রিন্স জর্জের ছবি দেখে আমার মনে হয়েছিলো এই বাচ্চাটাকে সবসময় হাফ-প্যান্ট পরিয়ে রাখে কেনো তার মা? জিন্সের প্যান্ট কিংবা নিদেনপক্ষে মাঝেমাঝে ফুলপ্যান্ট পরালে কি সমস্যা! পরে ইন্টারনেট থেকে জানলাম যে ফুল-প্যান্ট শুধুমাত্র বয়ঃপ্রাপ্ত পুরুষরা পড়বে,আর ৮ বছরের নিচের বাচ্চারা একটু কম ফরমাল ড্রেস মানে হাফ-প্যান্ট পরেই ঘুরবে।

সবাই ভোটাধিকার নিশ্চিত করবেন কিন্ত,একমাত্র রাজকীয় সদস্যরা বাদে!

রাজপরিবারের সদস্যরা ভোট দিতে পারবেন না-এমন কোনো আইন অবশ্য নেই। কিন্তু তারা কোনো নির্দিষ্ট দলের প্রতি পক্ষপাতিত্ব না করার জন্য ভোট দেওয়া থেকে বিরত থাকেন।

শখের কালো ড্রেস শুধু শোকের দিনেই পরা যাবে!

কালো রঙের জামা আমরা অনেকেই শখ করে প্রাত্যহিক জীবনে পরে থাকি।কিন্তু রাজপরিবারের সদস্যদের শুধুমাত্র শোকের দিনেই কালো পোশাক পরার নিয়ম আছে।

তবে প্রিন্সেস ডায়ানা কিন্তু অফিশিয়ালি প্রিন্স চার্লসের স্ত্রী থাকা অবস্থায় ১৯৯৪ সালে এই নিয়ম ভেঙেছিলেন।লন্ডনের সারপেন্টাইন গ্যালারীর বার্ষিক ভ্যানীটি ফেয়ার পার্টিতে তিনি কালো রঙের লো কাট নেকের একটি কালো পোশাক পরেছিলেন, এবং বলতেই হবে যে প্রিন্সেসকে সেদিন দেখতে অপরূপ সুন্দরী লেগেছিলো।

অনেকেই বলে থাকেন যে ডায়ানার এই কালো পোশাক পরা’টা ছিল “রিভেঞ্জ ড্রেস”,কারণ সেই দিনই প্রিন্স চার্লস সর্বসমক্ষে ক্যামিলা পার্কারের সঙ্গে নিজের পরকীয়ার কথা স্বীকার করেন।

রাজকীয় ডিনারে ঝিনুক?একদমই না!

রুল-বুকে লেখা আছে যে স্বাস্থ্যগত কারণে রানী এবং রাজপরিবারের সদস্যরা ঝিনুক জাতীয় শেলফিস খেতে পারবেননা।তবে প্রিন্স চার্লস কিন্তু ঝিনুকের লোভনীয় স্বাদ নেওয়ার জন্য কেন্টের হুইস্টেবল ওয়েস্টার উৎসবে যোগ দিয়েছিলেন।

ঝিনুক ছাড়াও আরো কয়েকটি খাবার আছে যা রাজ-পরিবারের সদস্যদের জন্য নিষিদ্ধ,তবে খুশির বিষয় হলো আইস্ক্রিম খাওয়া কিন্তু নিষেধ না।

অনলি ফোটোগ্রাফ,নো অটোগ্রাফ!

রাজপরিবারের সদস্যদের অটোগ্রাফ নেওয়ার জন্য পিছনে পিছনে ঘুরে লাভ নেই।অফিসিয়াল ইভেন্টে আপনি উনাদের সাথে মনখুলে কথা বলুন কিংবা ছবি তলে বন্ধুদের দেখান,এতে কোনো সমস্যা নেই।সমস্যা হল একমাত্র অটোগ্রাফ দিতে,কারন তাদের সিগনেচার জাল করার সম্ভাবনা থাকায় তাঁরা শুধু অফিসিয়াল কাগজেই সই করেন।তবে প্রিন্স চার্লস ২০১০ সালে বন্যা দুর্গত একজনকে অটোগ্রাফ হিসেবে “চার্লস ২০১০” লিখে দেন।

সম্ভাব্য রাজারা কখনো একই যানবাহনে চলাচল করতে পারবেননা!

একসাথে পরিবারের সবাই মিলে কোথাও ভ্রমনে যাওয়ার মজাই আলাদা।কিন্তু রাজপরিবারের সরাসরি উত্তরাধিকারীরা কখনোই একত্রে ভ্রমণ করতে পারেননা,কারণ দুর্ঘটনায় একসাথে সব উত্তরাধিকারীদের মৃত্যু হলে কি হবে?

ফার পরা যাবেনা!

আইনমতে রাজপরিবারের সদস্যদের পোশাক হবে ছিমছাম এবং অত্যধিক দামী কখনোই হবেনা।তাই তাঁরা চাইলেও আভিজাত্যপূর্ণ “ফার”এর কোট পরে শুধুমাত্র বিশেষ অনুষ্ঠানে যেতে পারবেন।এমন একটি বিশেষ উপলক্ষ হলো ১৯৯৩ সালে রানীর রাশিয়া গমন এবং সেখানে তিনি ফারের তৈরি কোট পরেছিলেন।

রাজকীয় সদস্যরা শুধু এংলিক ধর্ম পালন করতে পারবেন!

এটা সবাই জানে যে গ্রেট ব্রিটেনের “মোনার্ক”রা সারাবিশ্বের এংলিকান ধর্মের প্রধানের দায়িত্ব পালন করেন।তাই এই ধর্ম বাদ দিয়ে তাদের অন্য ধর্ম পালন করাটা বেখাপ্পা লাগবে।অতীতে রাজ-সদস্যরা ভিন্ন ধর্মীয়মতবাদে বিশ্বাসীদের বিয়ে করতে না পারলেও ২০১১ সালে এই আইনের পরিবরতন হয়।

ক্রিসমাসে দূরে কোথাও বেড়াতে যেতে চান? রাজকীয় সদস্যদের জন্য নিষেধ!

পারিবারিক ঐতিহ্য এবং নিয়ম অনুসারে রাজ-পরিবারের প্রত্যেকেই ক্রিসমাস পালনের জন্য রানীর নরফোকের স্যান্ডরিংহাম প্রাসাদে জড়ো হন।সেখানে তারা ব্যক্তিগতভাবে ক্রিসমাস পালন করেন।

এই হলো রাজপরিবারের সামান্য কয়েকটা নিয়ম,আরো গাদা গাদা নিয়মের কথা নাইবা বললাম।এতসব নিয়ম-কানুন দেখে এখন মনে হয় যে সাধারণ পরিবারে জন্ম নিয়ে ভালোই হয়েছে,এতো ঝামেলায় পড়তে হয়নি!

তথ্যসূত্র ও ছবিঃ ইন্টারনেট

 

 

মন্তব্য
লোডিং...