এবার পুরো পৃথিবী বাংলায়

মার্টিন কুপার: যিনি মোবাইল ফোন তৈরি করেন “স্টার ট্রেক” সিরিজ দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়ে

291

- Advertisement -

১৯৬০ সাল থেকে শুরু করে “স্টার ট্রেক” সিরিজ অসংখ্য কল্পনা সমৃদ্ধ প্রযুক্তিগত টুকরো আশ্চর্যের জন্ম দিয়ে আসছে। কালের পরিবর্তনের সাথে, এ থেকে উদ্ভূত প্রায় অনেক ধারণাই আজকের দিনে আমরা প্রযুক্তির সুফল হিসেবে গ্যাজেট আকারে নিত্যদিন ব্যবহার করছি। যেমন, এড রবার্টস উদ্ভাবিত প্রথম ঘরোয়া কম্পিউটারের কথাই ধরা যাক, দ্যা অলটেয়ার ৮৮০০। তৎকালীন সাই ফাই ফ্র‍্যঞ্চাইজি এমনকি বারংবার রবার্টকে উৎসাহিত করেছেন যাতে ডিভাইসটির নামকরণ অলটেয়ার সোলার সিস্টেমের অনুসরণেই করা হয়, যা প্রাথমিকভাবে আবির্ভূত হয় সিরিজটির “আমোক টাইম” নামক পর্বে।

মার্টিন কুপার

ট্যাবলেট কম্পিউটার গুলোর ব্যাবহার দেখানো হয়েছিল স্টারফ্লিট অফিসার এবং হর্তাকর্তাদের দ্বারা, এমনকি বিভিন্ন জাগতিক বিনোদনমূলক কাজ, যেমন গান শোনা ইত্যাদির জন্যও এগুলো প্রয়োজনীয় ছিল। স্টার ট্রেক সিরিজটি মূলত কিভাবে হাই টেক আধুনিক সমস্ত গ্যাজেট এর আবিষ্কার প্রভাবিত করে আসছে এর তালিকা অসম্পূর্ণ রয়ে যাবে যদি না মার্টিন কুপারের নাম উল্লেখ করা হয়। গ্রাহাম বেল তার প্রথম ঐতিহাসিক টেলিফোন কল করার প্রায় এক শতাব্দী সময়ের মধ্যেই যিনি হয়ে উঠেছিলেন বিখ্যাত “মটোরোলা” কোম্পানির অধিকর্তা, এই প্রতিষ্ঠানটিই সর্বপ্রথম বহনযোগ্য মোবাইল ফোন বাজারে আনে, ১৯৭৩ সালে।
কুপার, একজন ইলেকট্রিকাল ইঞ্জিনিয়ার, মটোরোলা তে যুক্ত হন ১৯৫৪ সালে। তার প্রথম কর্তব্য  ছিল পেজার’স এর উপর কাজ করা এবং পরবর্তীতে তাকে গাড়িতে ধারণযোগ্য রেডিও টেলিফোন এর উন্নতি কাজে নিয়োগ দেয়া হয়। এই কাজটির কিছুটা সীমাবদ্ধতা ছিল কেননা, উক্ত সেবাটি VHF রেডিও টেকনোলোজি ভিত্তিক ছিল যা পাবলিক টেলিফোন নেটওয়ার্ক এর সাথে সম্পৃক্ত ছিল। তবেঁ ১৯৭০ এর শুরুর দিকে কুপার মটোরোলার সবচাইতে শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী AT&T এর সাথে লাগাতার প্রতিযোগীতায় পিছিয়ে পড়া নিয়ে চিন্তিত হয়ে উঠেন। এবং তখনই আশ্চর্যজনক ভাবে প্রতিষ্ঠানটিকে ব্যাপক আকারে সফলতা এনে দেয় ; পৃথিবীর সর্বপ্রথম মুঠোফোন।

কুপার এই যুগ পরিবর্তনকারী আইডিয়াটির প্রেরণা পেয়েছিলেন ক্যাপ্টেন কির্ক ও তার সঙ্গী সাথীদের দেখে যারা স্টার ট্রেক সিরিজে প্রায়শই নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ করার ক্ষেত্রে নিজস্ব কমিউনিকেটর ব্যাবহার করত। যন্ত্রটি ছিল একটি ইটের ন্যায় বড় এবং এর ওজন ছিল ২.২ পাউন্ড, এটি ছিল ৮০০ মেগা হার্টজ পোর্টেবল সেলুলারের প্রোটোটাইপ। একটি মাত্র লাইনের বার্তা বিশিষ্ট, এলইডি স্ক্রিন ছিল এটির বৈশিষ্ট্য।

নতুন প্রোটোটাইপটি আবিষ্কারের তিন মাসের মাথায় কুপার ১৯৭৩ সালের এপ্রিলে নিউইয়র্কে একটি প্রেস কনফারেন্স এর আয়োজন করেন। জনসাধারণ এর নিকট উন্মুক্ত করার জন্য এটি থেকে প্রথম কলটি তিনি করেন জোয়েল ইঞ্জিলকে যিনি কিনা তখন AT&T এর রিসার্চ বিভাগের প্রধান হিসেবে অধিষ্ঠিত ছিলেন।

বেশ কয়েকবছর পর CNN কে দেয়া একটি সাক্ষাতকারে কুপার তাদের কথোপকথন এর স্মৃতিচারণ করে বলেন, ” আমি তাকে ফোন করলাম এবং বললাম, ‘জোয়েল, আমি তোমাকে একটি আসল সেলুলার ফোন থেকে কল করেছি, সহজে ধারণযোগ্য ও বহনযোগ্য, আসল সেলুলার ফোন।’ আমার প্রকৃতভাবে মনে নেই সে কি উত্তর দিয়েছিল, তবেঁ দীর্ঘক্ষণ অপর পাশ থেকে কোন আওয়াজ আসছিল না। আমি নিশ্চিত সে নিশ্চই দাঁতে দাঁত পিষেছিল। খুবই ভদ্রভাবে সে তারপর আমার ফোনটি কেটে দিল।”
যেসকল সাংবাদিকেরা প্রেস কনফারেন্সটি ধারণ করতে গিয়েছিলেন এবার ছিল তাদের পালা এটি পরীক্ষা করে দেখবার, সকলেই ফোন করে এর কর্মক্ষমতা সম্পর্কে নিশ্চিত হলেন। সেলফোনের সংবেদনা সবার মাঝে চালিত হচ্ছিল।

অলটেয়ার ৮৮০০

- Advertisement -

মটোরোলা DynaTCA একদিকে ছিল অত্যধিক ওজন সম্পন্ন, অপরদিকে এর দ্বারা কথা বলার ক্ষেত্রেও সীমাবদ্ধতা ছিল। কুপার একবার বেশ মজা করে বলেন যে, “এর ব্যাটারির আয়ুষ্কাল যদিও ২০ মিনিট, কিন্তু ততক্ষণ কেউ এর দ্বারা কথা বলতে পারবে না, কারণ ততক্ষণ এটি হাতে ধরে রাখাই যাবে না।”

এরপর আরো ১০ বছর সময় লেগে যায় বৃহত্তর বাজারে প্রবেশের জন্য ফেডারেল কমিউনিকেশন কমিশন এর অনুমতি আদায় করে নিতে। ১৯৮৩ সালে মুক্তি পাওয়া মটোরোলা DynaTCA800X ছিল ওজনে এর পূর্বতন মডেল এর অর্ধেক এবং বাড়তি ব্যাটারির আয়ুষ্কাল সমৃদ্ধ এ মডেলে কমপক্ষে আধ ঘন্টা নির্বিঘ্নে কথা বলা সম্ভব ছিল। এটির মূল্য ছিল তখনকার দিনে প্রায় ৩,৮৮৫ মার্কিন ডলার যা আজকের বাজারদর অনুযায়ী ৯০০০ মার্কিন ডলারের সমান।

মটোরোলা DynaTCA800X

সেল ফোন প্রযুক্তি আজ এমন একটা সময়ে এসে উপনীত হয়েছে, নিত্যদিন একে হাতের মুঠোয় স্মার্টফোন ছাড়া আমরা চিন্তাই করতে পারি না। স্টার ট্রেক নির্মাতারা হয়ত ভাবতেও পারেননি যে সিরিজে ব্যাবহৃত কল্পিত প্রযুক্তি সামগ্রী এত তাড়াতাড়ি বাস্তবে রুপ লাভ করবে। যুগ পরিবর্তনের কল্যাণে আমাদের হাতে এসেছে ভাষান্তর প্রদানকারী এপস যা যে কোন অজানা ভাষাকে নিমেষেই বোধগম্য করে তুলতে পারে, অনেকটা যেন ইউনিভার্সাল ট্রান্সলেটর এর মত, যা কিনা স্টার ফ্লিট অফিসারগণ ব্যাবহার করত এলিয়েন দের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপনের জন্য।

হয়ত আগামী শতকের মধ্যে থ্রিডি প্রিন্টার এর মাধ্যমে আসল খাবারের রেপ্লিকা দিয়েই এর সুস্বাদ গ্রহণ করা যাবে, বা গরম গরম এক কাপ ধোয়া উঠা কফিও ঘুমকাতুরে স্টার ফ্লিট অফিসারের মতই আপনার বেডসাইডে এসে হাজির হয়ে যাবে।

অনুবাদ সূত্র: ভিনটেজ নিউজ

মন্তব্য
লোডিং...