এবার পুরো পৃথিবী বাংলায়

অ্যাডাম’স পিকঃ হিন্দু-মুসলিম, বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ধর্মের পবিত্রভূমি

544

পৃথিবীতে এমন স্থান কি কোথাও আছে যেখানে প্রধান চারটি ধর্মের অনুসারীদের জন্য পবিত্র? হ্যাঁ এমন একটি জায়গা আছে। শ্রীলংকার দক্ষিণ-পশ্চিম সীমান্তঘেঁষা প্রদেশ রত্নাপুরা গ্রামে রয়েছে সেই রহস্যময় স্থান— অ্যাডাম’স পিক। এটি একটি কোণাকৃতির পাহাড়ের চূড়া। এ চূড়ার উচ্চতা ৭৩৬২ ফুট বা ২২৪৩ মিটার। পাহাড়ি এ চূড়ার চারপাশে রয়েছে হাজারো ছোট ছোট নদী আর পাহাড়ি ঝরণা। ছোট-বড়, উঁচু-নিচু পাহাড়ি টিলা অ্যাডাম’স পিককে বেষ্টন করে আছে। সব মিলিয়ে এ যেন এক রহস্যঘেরা সবুজের লীলাভূমি। এখানে নাকি হাজারো প্রজাপতির মেলা বসে। তাই একে বাটারফ্লাই মাউন্টেনও বলা হয়। এমন নৈসর্গিক সৌন্দর্য্য এ ধরায় খুব কমই দেখা যায়।

ইসলাম ধর্মমতে, মানবজাতির আদি পিতা হযরত আদম (আঃ) কে আল্লাহ তায়ালা বেহেশত থেকে শ্রীলংকার এ চূড়ায় নিক্ষেপ করেছিলেন। অন্যদিকে আদি মাতা বিবি হাওয়া (আঃ) কে জেরুজালেমে নিক্ষেপ করেন। শ্রীলংকা থেকে জেরুজালেমের দূরত্ব প্রায় কয়েক শ হাজার কিলোমিটার। এরপর তাঁদের অনেক অনুতাপের বিনিময়ে আল্লাহ তায়ালা উভয়কে মধ্যপ্রাচ্যে মিলিয়ে দেন। যা হোক, হযরত আদম (আঃ) এর নামানুসারে এ চূড়ার নাম হয় ‘অ্যাডাম’স পিক’ বা আদমের চূড়া। এখানে তাঁর পায়ের ছাপ পড়ে যার দৈর্ঘ্য প্রায় ৫ ফুট ৭ ইঞ্চি ও প্রস্থ ২ ফুট ৬ ইঞ্চি। বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরা মনে করে, এই পদচিহ্ন গৌতম বুদ্ধের। তিনি যখন স্বর্গের উদ্দেশ্যে রওনা হন তখন এ চিহ্ন আঁকা হয়েছিল। আবার খ্রিস্টান ধর্মমতে, পায়ের ছাপটি সেন্ট টমাসের। হিন্দুরা বিশ্বাস করে, ভগবান শিবের পদধূলি পড়েছিল এই চূড়ায়। সিংহলীদের ধারণা আরেকটু ভিন্ন। তারা মনে করে, ভগবান সামান এ পর্বতচূড়ায় বসবাস করতেন। তাই সিংহলীরা একে ‘সামানালাকান্দা’ বলে ডাকে। যে যা-ই বলুক, যা-ই মানুক ‘অ্যাডাম’স পিক’ সকলের কাছেই তীর্থভূমি।

hqdefaultপ্রকৃতির রহস্য বুঝা দায়। চূড়াটিতে বছরের শুরুর দিকে থাকে ঝলমলে রোদ আর শেষের দিকে মেঘের ঘনঘটা। সেসময় চূড়ার চতুর্দিক শ্বেতশুভ্র মেঘের চাদরে আচ্ছাদিত থাকে। পর্যটকদের কাছেও অ্যাডাম’স পিকের বেশ কদর। যারা একটু এডভেঞ্চার করতে ভালোবাসে, তাদের পছন্দের তালিকায় অ্যাডাম’স পিক শীর্ষে। জঙ্গলাকীর্ণ এ পাহাড়ি এলাকায় রয়েছে জংলী হাতি, হায়েনা, বিষধর সাপ ও পোকামাকড় যাদের কারনে মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। চূড়ার শীর্ষে পৌঁছানোর জন্য রয়েছে প্রায় ৫০০০ ধাপের সিঁড়ি। সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠতে গেলে যথেষ্ট সাবধানতা অবলম্বন করতে হয়। যাই হোক, আমি এখানে ভ্রমণোপদেশ দিতে আসি নি। এসেছি অ্যাডাম’স পিকের মাহাত্ন্য বর্ণনা করতে। রহস্যময়ী রত্নাপুরা থাকুক তার নীলা, রুবি, পান্না নিয়ে। টিকে থাকুক আজীবন অক্ষতভাবে।

বিবেকের কাছে আমার প্রশ্ন, কিছুদিন আগে যারা সকলধর্মের পবিত্রভূমি এ শ্রীলংকাকে সিরিজ বোমা হামলা করে ক্ষত-বিক্ষত করেছে তাদের কেউ কি ধর্মবিশ্বাসী নয়? যদি মনের মধ্যে ছিটে-ফোটা ধর্মবিশ্বাস থেকে থাকে, তাহলে কীভাবে এই হত্যাযজ্ঞ চালায়? মসজিদ মন্দির গীর্জা প্যাগোডা কিছুই বাদ যায় না? আর যদি মনে করি, তারা কোন ধর্মেই বিশ্বাস করে না, তাহলে তাদের পরিবারের কথা একবার ভেবে দেখে নি? তবে ধর্মের নামে কেন এই হত্যাযজ্ঞ? কেন এই ধ্বংসলীলা? কবে ঠিক হবে এসব বিকৃত মস্তিষ্ক? মানবতার কান্না যে আর বাঁধ মানে না!

মন্তব্য
লোডিং...