এবার পুরো পৃথিবী বাংলায়

টিম রিভিউ : আর্জেন্টিনা (পর্ব : ২)

দলগত পারফর্মেন্স নাকি, ওয়ান ম্যান শো? এবারের আর্জেন্টিনা দলের রিভিউ পড়ুন ও শেয়ার করুন বন্ধুদের সাথে।

513

- Advertisement -

এবারের বিশ্বকাপ কার হাতে উঠবে? এই প্রশ্নে বেশ কয়েকটা উত্তর চলে আসে আমাদের সামনে। এই উত্তরগুলোর পিছনে থাকে  অনেক যুক্তি, থাকে অনেক হিসেব-নিকেশ। তবে যে একটা উত্তর সবসময় সব বিশ্বকাপের সময় একই থাকে, সেটা হলও “আর্জেন্টিনা”। আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপের অন্যতম দাবিদার বলার পিছনে কারণটা কি হতে পারে, মোটে দু’বার ট্রফি উঁচিয়ে ধরতে পারা এই দলের থেকে আরও বেশী বিশ্বকাপ জেতা দল রয়েছে। তবুও কেন আর্জেন্টিনা! কারণ বিশ্বের অন্যতম সেরা সেরা কিছু প্লেয়ার খেলে গেছেন এই দলের হয়ে। আর বর্তমান দলের দিকে যদি চোখ ফেরাই তাহলে দেখা যাবে, বিশ্বের অন্যতম সেরা (অনেকের মতে সবথেকে সেরা প্লেয়ার) প্লেয়ারটাই খেলে এই দলের হয়ে। আর তিনি হলেন,”লিওলেন মেসি”। তারও আগে এই দলের জার্সি গায় মাঠ দাপিয়ে বেড়িয়েছেন ম্যারাডোনা,রিকুয়েলেম,বাতিস্তুতার এরা। এজন্যই আর্জেন্টিনাকে এবারের বিশ্বকাপের অন্যতম ফেভারিট ধরা হচ্ছে।

গতবারের রানার্স-আপ আর্জেন্টিনার এবারের বিশ্বকাপ খেলার যোগ্যতা অর্জন এতটা সহজ ছিল না। আর্জেন্টিনার দক্ষিণ আমেরিকার কোয়ালিফাইং বিভাগে তৃতীয় স্থান অর্জন করে, যেখানে প্রথম এবং দ্বিতীয় হয় চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ব্রাজিল এবং উরুগুয়ে। কোয়ালিফাইং এর ১৮টি ম্যাচে মাত্র ৭টি তে তারা জয় লাভ করে। হেরে বসে ৪টি ম্যাচে এবং ড্র করে আরও ৭টি ম্যাচে। বাচা-মরার শেষ ম্যাচে ইকুয়েডরের কাছে খেলার প্রথম মিনিটেই গোল হজম করে আর্জেন্টিনা। কিন্তু ফুটবল জাদুকর লিওলেন মেসির হ্যাট্রিক এ জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে আর্জেন্টিনা এবং তৃতীয় হয়ে বিশ্বকাপ খেলার গৌরব অর্জন করে। বিশ্বকাপের টিকিট পেতে অনেক ঘাম ছড়াতে হলেও, মেসি-মারিয়া-আগুয়ারো-মাসচেরানো-ওটামেন্ডি-বানেগা-দিবালাদের উপর আস্থা আছে সমর্থকদের।

বাছাই পর্বে আর্জেন্টিনার করা সবগুলো গোল দেখতে এখানে ক্লিক করুন
বিশ্বকাপের টিকিট নিশ্চিত হবার পর উল্লাসিত আর্জেন্টাইন খেলোয়াড়রা

এক নজরে দেখে নেয়া যাক বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া আর্জেন্টিনা দলটিকে-

ডাকনাম : লা অ্যালবিলেস্তে (হোয়াইট অ্যান্ড স্কাই নীল)

কোচ : জর্জ স্যাম্পোলি (জুন ২০১৬ সাল থেকে)

ফিফা  র‍্যাংকিংঃ ৫

অধিনায়ক : লিওলেন মেসি

গোলকিপার: উইলি কাবায়েরো(চেলসি), ফ্রাঙ্কো আরমানি(রিভারপ্লেট), নাহুয়েল গুজম্যান(টাইগ্রেস)

ডিফেন্ডার: এডুয়ার্ডো সালভিও(বেনফিকা), গ্যাব্রিয়েল মেরকাডো(সেভিয়া), নিকোলাস ওটামেন্ডি(ম্যান সিটি), ফেডেরিকো ফাজিও(রোমা), মার্কোস রোহো(ম্যান ইউনাইটেড), জ্যাভিয়ের মাসচেরানো, নিকোলাস টাগলিয়াফিকো(আয়াক্স), ক্রিস্টিয়ান আনসালদি(তরিনো)

মিডফিল্ডার: লুকাস বিগলিয়া(মিলান), জিওভানি লো চেলসো(পিএসজি), এনহেল ডি মারিয়া(পিএসজি), ম্যানুয়েল লানজিনি(ওয়েস্টহাম), এভার বানেগা(সেভিয়া), মার্কোস আকুনা(স্পোর্টিং), ম্যাক্সিমিলানো মেজা(ইন্ডিপেনডিয়েন্টে)

ফরোয়ার্ড: লিওনেল মেসি(বার্সা), সার্জিও আগুয়েরো(ম্যান সিটি), ক্রিস্টিয়ান প্যাভন(বোকা জুনিয়ার্স), পাওলো ডিবালা(জুভেন্টাস), গঞ্জালো হিগুয়েন(জুভেন্টাস)

গ্রুপ “ডি”তে খেলা মেসিদের এবারের প্রতিপক্ষ-নাইজেরিয়া,ক্রোয়েশিয়া এবং আইসল্যান্ড। মোটামোটি শক্ত-পোক্ত গ্রুপ। নাইজেরিয়া বরাবরই কঠিন প্রতিপক্ষ আর্জেন্টিনার জন্য। বিশ্বকাপের মোট ৪বারের দেখায় কোনবারো জিততে না পারলেও, প্রত্যেকবার আর্জেন্টিনার জয় ছিনিয়ে নিতে ঘাম ঝরাতে হয়েছে। অন্যদিকে পৃথিবীর সবচেয় ক্ষুদ্রতম দেশ হলেও আইসল্যান্ড এর শক্তিমত্তার পরিচয় পেয়েছি আমরা ২০১৬র ইউরোতে। কোয়ার্টার ফাইনাল খেলা এই দল, তাঁদের প্রথম বিশ্বকাপ অভিযান যাতে মেমোরেবল হয়ে থাকে। ক্রোয়েশিয়াও সবসময় টাফ এন্ড টাইট অপনেন্ট হিসেবে পরিচিত। ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে অবস্থান ১৮ ক্রোয়েশিয়ার। জেলাটকো ড্যালিচের অধীনে মড্রিচ, কোভাসিচ, র্যাকিটচ, আর মানজুকিচরা দলটি এতটাই দুর্দান্ত যে বিশ্বকাপের যেকোন ফেভারিটদের জন্য মাথা ব্যথার কারণ হতে পারে তারা। তবে আর্জেন্টিনার জন্যে আশাব্যঞ্জক এই যে এদের সবাইকে হারানো ক্ষমতা আছে তাঁদের।

কোচ জর্জ স্যাম্পোলি দলকে তাঁর পছন্দের ফর্মেশন ৩-৪-৩ বা ৪-৪-২ এ দলকে সাজাতে চান। কিন্তু টিম কম্বিনেশন মেলাতে হিমশিম খাচ্ছেন কোচ স্যাম্পোলি, কোথায় যেন সুরে মেলাতে পারছেন না দলকে। তাই আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ স্কোয়াড নিয়ে আছে অনেক বিতর্ক।

দুশ্চিন্তার ভাজ স্যাম্পোলির কপালে, টিম কে কি ঠিক মতন সাজাতে পারবেন বিশ্বকাপের জন্যে?

দল ঘোষণার কয়েকদিন পর এক দুঃসংবাদ হাজির। দলের ফার্স্ট চয়েস কিপার রোমেরো ইনজুরিতে। রোমেরোর অনুপস্থিতিতে তাই গোলবার সামলানোর দায়িত্ব গিয়ে পড়েছে চেলসির কিপার উইলি কাবায়েরো উপর। খুব একটা সুবিধার কিপার না হলেও এ মুহূর্তে তাঁর বিকল্প আর কেউ নেই । রাইট ব্যাক পজিশনে খেলছেন বেনফিকার রাইট মিডফিল্ডার এডুয়ার্ডো। প্রথাগত রাইটব্যাক না হলেও তাকে এই পজিশনে খেলাতে চান কোচ। সেন্টার ব্যাকে দেয়াল তৈরি করবেন ম্যানসিটির নিকোলাস ওটামেন্ডি ও রোমার ফেডেরিকো ফাজিও। দুর্দান্ত ফর্মে থাকা এই দুই ডিফেন্ডারকে ফাঁকি দেওয়া মুশকিল হবে যেকোনো স্ট্রাইকারের জন্যে । লেফট ব্যাকে আয়াক্স এর নিকোলাস টাগলিয়াফিকো বেশ ভালো পারফরম্যান্স করছেন ক্লাবের হয়ে। ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডে খেলবেন এসি মিলানের লুকাস বিগলিয়া। সেন্ট্রাল মিডফিল্ডে থাকছেন পিএসজির তরুণ মিডফিল্ডার জিওভানি লো চেলসো। এটাকিং মিডফিল্ডে খেলছেন লা অ্যালবিলেস্তেদের ট্রাম্প কার্ড বার্সা সুপারস্টার ও আর্জেন্টাইন অধিনায়ক লিওনেল মেসি। দুই উইং এ ভরসা পিএসজির এনহেল ডি মারিয়া ও ওয়েস্টহামের ম্যানুয়েল লানজিনি। এদের সাথে আটঘাট বেধে আক্রমণ সাজাবেন লিওলেন মেসি। স্ট্রাইকার হিসেবে থাকছেন ম্যানসিটির হয়ে ইপিএল জিতে আসা সার্জিও আগুয়েরো।যদিও ইনজুরির ভয়াল থাবার কারণে স্কোয়াডে থাকা নিয়ে দোলাচল ছিল। তবুও তিনি আছেন দলের সাথে। ইনজুরির কারণে বাদ পড়েছেন সার্জিও রোমেরোর আর দলে জায়গা হয় নি এভারটন ডিফেন্ডার রামিরো ফুনেস মরির, মিডফিল্ডার লিন্দ্রো পারেদেস ও এটলেটিকো উইঙ্গার এঞ্জেল কোরেয়া ।

- Advertisement -

কিন্তু সবচেয় বেশী কোন্ট্রোভার্সির জন্ম দিয়েছে ইন্টারের হয়ে এবারের সিরি-এ’র সর্ব্বোচ্চ গোল স্কোরার মারিও ইকার্দির দলে না থাকা। অভিমানে দলের উপর আক্ষেপই ঝেড়েছেন এই আর্জেন্টাইন। যদিও গত ওয়ার্ল্ড কাপ ফাইনালের খলনায়ক গঞ্জালো হিগুয়েন এবারো আছেন দলের সাথে। এখানে তাঁর ক্লাব পারফর্মেন্স কে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

 

আর্জেন্টিনা দলের স্ট্রং পয়েন্ট :

দল হিসবে বরাবরই ফেভারিট আর্জেন্টিনা। গত পাঁচ বিশ্বকাপের সমীক্ষা যদি দেখি তাহলে দেখা যাবে-

  • ব্রাজিল ২০১৪- রানার্স-আপ
  • দক্ষিণ আফ্রিকা ২০১০- কোয়ার্টার ফাইনাল
  • জার্মানি ২০০৬- কোয়ার্টার ফাইনাল
  • কোরিয়া/জাপান ২০০২- গ্রুপ স্টেজ
  • ফ্রান্স ১৯৯৮- কোয়ার্টার ফাইনাল

কিন্তু দুঃখজনকভাবে পাঁচবারের তিনবারই জার্মানির বাঁধা টপকাতে পারেনি আর্জেন্টাইনরা।

 

এবারের দলের মূল আস্থার প্রতীক অবশ্যই লিওলেন মেসি। দলের তুরুপের তাস এই খেলোয়াড় খেলার ফল কিভাবে বদলাতে পারেন, তা আমরা যারা নিয়মিত ফুটবল দেখি তাঁদের বলার অপেক্ষা রাখে না। কোয়ালিফাইং এর ৫ম্যাচে ৭গোল আর সম্প্রতি প্রীতি ম্যাচে হাইতির বিপক্ষে হ্যাট্রিক ইঙ্গিত দিচ্ছে ওয়ার্ল্ড কাপের জন্যে সম্পূর্ণ তৈরি মেসি। ডিফেন্সে মূল ভরসা নিকোলাস ওটামেন্ডি ও ফেডেরিকো ফাজিও। এবার ইপিএল এ সর্ব্বোচ্চ পয়েন্ট অর্জন করেছে ম্যানসিটি, আর এই অর্জনের অন্যতম মূল কাণ্ডারি ধরা হয় ওটামেন্ডি কে। ৩৮ম্যাচে ক্লিশিট ১৪টি! অপরদিকে ইউসিএল সেমিফাইনাল খেলা ফাজিওর রেকর্ড মন্দ নয়। দলের ফার্স্ট লাইন ডিফেন্স এরাই। এছাড়া এবার যে তরুণের উপর সব থেকে বেশী নজর থাকবে, সেই পাবলো ডিবালা খেলেন এই দলের হয়ে। এছাড়া ডি মারিয়া,লানজিনি,হিগুয়েন এরাও থাকবেন স্পটলাইটে।

 

গতবার পুরো টুর্নামেন্ট ভালো খেলেও ফাইনালে তালগোল পাকিয়ে ফেলা আর্জেন্টিনা এবার সচেতন থাকবে সব ভুল এড়িয়ে চলার। মেসি এবারের বিশ্বকাপ নিয়ে বলেছেন-

“আমি এখনো ফাইনালের স্বপ্ন দেখছি,যার পরিণতিতে আমি কাপ তুলে নেব। এটি এমন একটি স্বপ্ন যা আমি সবসময় লালন করে আসছি। প্রতিটি বিশ্বকাপ যখন সামনে আসে,তখন আমার অনুভূতি আরও শক্তিশালী হয়ে ওঠে। আমি আশা করি এটা আমাদের জন্য একটি মনে রাখার মতন বিশ্বকাপ হবে এবং আমরা ২০১৪ এর মতন ভালো কিছু অভিজ্ঞতা অর্জন করতে সক্ষম হবো, যা দেশের জন্য একটি অবিস্মরণীয় অভিজ্ঞতা ছিল, কিন্তু এখন সময় কাপটি নিজেদের করে নেওয়ার। বিশ্বকাপ জয় করা সহজ নয়। এটা প্রায়ই ঘটবে না। শেষ সময় আমরা ভাল কাজ করেছি কিন্তু ছোটখাটো ভুলের কারণে আমদের এটি পাওয়া হয়নি। আমরা আমাদের দেশের জন্য কাপ উত্তোলন করতে খুবই  উৎসাহী এবং আগ্রহী। আমি আশা করি ঈশ্বর আমাদের সাহায্য করেন এবং এটি অবশ্যই ঘটবে। “

গতবার অল্পের জন্য ছোঁয়া হয়নি অনেক সাধনার কাপটি

আর্জেন্টিনা দলের দুর্বল পয়েন্ট :

আর্জেন্টিনার শক্তিমত্তা যেমন মেসি, ঠিক তেমনি দুর্বলতার দিকটাও মেসি! আর্জেন্টিনা বলতে গেলে কিছুটা মেসি নির্ভর, অনেক কোচ এমনকি খোদ মেসিও অনেক প্রচেষ্টা চালিয়েছে এই নির্ভরতা কমানোর। কিন্তু ফলাফল আগের মতনই। এর প্রতিচ্ছবি দেখা যায় কোয়ালিফাইং এ। মেসি গোল করতে না পারলে দল যেন খেই হারিয়ে ফেলে। গোলবারে শক্ত-পোক্ত একজন কিপারের কি যে মূল্য তা আমরা গত বিশ্বকাপেই দেখেছি। রোমেরো অনুপস্থিতি কেমন ভোগাবে দলকে সেটাই দেখার বিষয়। দলের আরেক বোঝার নাম গঞ্জালো হিগুয়েন। ক্লাবের হয়ে যতটা সমৃদ্ধ তাঁর পারফর্মেন্স, দেশের হয়ে ততটাই মলিন। কিছুদিন আগে হাইতির বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে একের পর এক ভুল করতেই থাকেন হিগুয়েন। সহজ তিনটি গোলের সুযোগ নষ্ট করেন তিনি একাই। ম্যাচ শেষে এক সাক্ষাতকারে অবশ্য তিনি বলেন, ‘বিশ্বকাপের জন্য সব গোল বাঁচিয়ে রেখেছি’। কিন্তু তাঁর এই কথায় কোন ভরসা পাচ্ছেন না সমর্থকরা।

বাংলাদেশের এক বড় অংশজুড়ে আর্জেন্টিনার সমর্থক। গতবারে আশার আলো জাগিয়েও হতাশ করা এই দলটিকে ইতিমধ্যে সমর্থন জানাতে শুরু করেছে সবাই। ঘরে ঘরে উড়ছে পতাকা, গায়ে গায়ে আর্জেন্টিনার জার্সি। এবারের বিশ্বকাপ হয়তো মেসির শেষ বিশ্বকাপ, হয়তোবা না। বিধাতা কি এবারো বঞ্চিত করবে ফুটবলের অন্যতম সেরা এই খেলোয়াড়টিকে? প্রশ্ন রইল!

সমগ্র বিশ্ব অধীর আগ্রহের সাথে অপেক্ষা করছে “রাশিয়া বিশ্বকাপ ২০১৮”র জন্যে। আর কিছুদিন পরই পর্দা উঠতে যাচ্ছে বিশ্বের সবথেকে জনপ্রিয় এই আসরের। ধারাবাহিকভাবে বিশ্বকাপের বিভিন্ন দলকে নিয়ে ফিচার আসবে সামনে। পর্ব আকারে সবগুলো লেখা পাবেন, “Bangla Hub”-সাইটে।

আগের পর্ব পড়ুন এখানেঃ
রাশিয়া বিশ্বকাপ : ফুটবল এখন তুযারশুভ্র দেশ “রাশিয়ার” পথে (পর্ব :১)
মন্তব্য
লোডিং...