এবার পুরো পৃথিবী বাংলায়

বাংলাহাব মুভি এক্সপেরিয়েন্স- দ্য গডফাদার ট্রিলজি

যেখানে জীবনের গল্প মাফিয়া বৃত্তিকে ছাড়িয়ে গেছে

124

অপরাধ মুলক গল্পগুলোর আলাদা আকর্ষণ এবং চাহিদা আছে হলিউডের ফিল্ম জগতে। আর তা যদি হয় মাফিয়া এবং স্মাগলার দের নিয়ে তাহলে তো কথাই নেই । গোগ্রাসে গেলার জন্য প্রস্তুত হয়ে যান সিনেমা প্রেমিরা । ১৯৭২ সালে Francis Ford Coppola এমনি এক কাহিনী বেছে নিয়েছিলেন যা কিনা আজো দর্শক দের মনে স্থায়ী জায়গা করে টিকে আছে। প্রাথমিক ভাবে ততটা উচ্চাশা তৈরি না করলেও দ্যা গডফাদার পার্ট ১ মুভি টা মুক্তি পাবার পর সিনেমাপ্রেমীদের তো আক্কেল গুড়ুম । অসাধারণ এক মাস্টারপিস বানিয়ে বসে আছেন Coppola। এরপর ১৯৭৪ সালে এসেছে এর দ্বিতীয় পর্ব দ্যা গডফাদার পার্ট ২। বলতে গেলে প্রায় সমান জনপ্রিয়তা পায় এই মুভিটিও। এরপর অবশ্য একটা বড় বিরতি নেন পরিচালক Coppola। ১৬ বছর পর ১৯৯০ সালে আসে তৃতীয় কিস্তি দ্যা গডফাদার পার্ট ৩।

কি এমন আছে এই মুভিগুলোতে, যে বছরের পর বছর ধরে আজো মানুষ মনে রেখেছে এই মুভি গুলোকে? মাফিয়া বৃত্তিকে ছাড়িয়ে জীবনের গল্পটাই প্রধান হয়ে দেখা দিয়েছে, এটাই সম্ভবত এই মুভিগুলোর সফলতার কারন । ভিটো করলেওনি যতটা না একজন মাফিয়া ডন তারচেয়েও বেশি একজন বাবা এবং পরিবারের প্রধান কর্তা । এই দ্বিমুখী সত্ত্বা টাকেই দর্শক রা লুফে নিয়েছেন দারুণভাবে।

কোন প্রকার কাহিনী প্রকাশ না করে চলুন মুভিগুলো সম্পর্কে কিছু জেনে নেয়া যাক ।

দ্যা গডফাদার পার্ট ১ :

আগেই বলেছি ১৯৭২ সালের এই মুভিটি তাজ্জব করে দেয় সারা বিশ্বের দর্শক এবং সমালোচকদের। মুভি সমালোচক ওয়েবসাইট মেটাক্রিটিক তো ১০০ তে ১০০ দিয়েছে এই মুভিটাকে ! এই মুভিটাকে অনেকেই এই genre এর cult following মনে করেন অর্থাৎ পরবর্তীতে অনেক বার অনুসৃত হয়েছে এই কাহিনী, গল্প বলার ভঙ্গি ।

আসলে প্রথম কিস্তি হলেও কাহিনী শুরু হয়েছে প্রবীণ ডন ভিটো করলেওনির পরিবার নিয়ে। আমেরিকার মাফিয়া বস এই  ডন ভিটো করলেওনি । কিন্তু এই ব্যবসায় শত্রুর যেমন অভাব নেই তেমনি আছে কিছু অকৃত্রিম বন্ধু । ঝামেলা শুরু হয় যখন তাঁর বড় ছেলে সনি করলেওনি কে হত্যা করা করা হয় । এবং আরও কিছু শত্রুর ষড়যন্ত্রের ফলে কোণঠাসা হয়ে পড়েন ডন ভিটো করলেওনি। এ অবস্থায় ছোট ছেলে মাইকেল করলেওনি বাবার ব্যবসার হাল ধরেন।

আরো পড়ুনAvengers: End Game এর সাতকাহন

ব্যবসাটা ড্রাগ এবং স্মাগলিং হলেও ডন করলেওনির নীতি ছিল একজন সৎ ব্যবসায়ির। একজন ভাল মানুষ হিসেবেই তাঁকে চিনত সবাই। এই ভালোমানুষি অবশ্য পরবর্তীতে কাল হয় তাঁর জন্য। কিন্তু মাইকেল এসে রাতারাতি বদলে দেয় তাদের ব্যাবসার ধরন। সৎ নীতির চেয়ে শত্রু উৎপাটন তাঁর কাছে মুখ্য হয়ে উঠে। অল্প সময়ের মধ্যেই মাইকেল ড্রাগ এবং স্মাগলিং সাম্রাজ্যের একচ্ছত্র অধিপতি হয়ে উঠেন। প্রথম পর্বের কাহিনী মূলত এতোটুকুই।

তাহলে বিশেষ কি আছে এই মুভিটাতে? ওই যে বললাম গডফাদার  ডন ভিটো করলেওনির দ্বিমুখী সত্ত্বা। মুভি দেখে শেষ করার পর আপনার মনেই থাকবে না তিনি একজন মাফিয়া ডন ছিলেন, আপনার মনে একজন পরিপূর্ণ বাবার ছবিই ভেসে থাকবে সবসময়, যে কিনা সারা জীবন তাঁর পরিবার কে আগলে রাখার সাথে সাথে অসংখ্য মানুষের বিপদে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। বিখ্যাত এবং তর্কযোগ্য ভাবে গত শতাব্দীর শ্রেষ্ঠ অভিনেতা Marlon Brando এর অভিনয় দেখে মনে হবে কাহিনিকার মনে হয় তাঁকে মাথায় রেখেই ডন ভিটো করলেওনির চরিত্র টি লিখেছেন। পুরো ছবিটা তাঁকে ঘিরেই আবর্তিত হতো যদি না তখনকার তরুন অভিনেতা আল পাচিনো সমান তালে অভিনয় না করতেন ! মাইকেল চরিত্রে আল পাচিনোও কম যান নি । কিছু কিছু জায়গায় কি তিনি ছাড়িয়ে গেছেন Marlon Brando কে? বড় পর্দায় বাবা ছেলের এই অসাধারণ রসায়ন তো আপনাকে ধাঁধায় ফেলে দেবে তাঁদের অভিনয়ের গভীরতা মাপতে! এ যেন শ্যাম রাখি না কুল রাখি অবস্থা! আর শেষমেশ বলতে হয় মুভির পরিচালক Francis Ford Coppola এর কথা। তাঁর মুন্সিয়ানাই তো একসাথে উপস্থাপন করেছে এরকম সুন্দর গল্প এবং অভিনয় কে। আরেকটা কথা না বলে পারছি না মুভির থিম সং নিয়ে। সম্ভবত এই থিম সং টিও আপনাকে টেনে রাখতে বাধ্য করবে মুভির শেষ পর্যন্ত।

দ্যা গডফাদার পার্ট 2 :

যারা ভেবেছেন এই পর্বে মাইকেল এর উত্থানকেই প্রাধান্য দেয়া হবে, তাদের জন্য বড় চমক হয়ে আসবে ডন ভিটো করলেওনির ব্যাক স্টোরি। ভিটো করলেওনি থেকে কিভাবে তিনি ডন হলেন তা যেমন দেখানো হয়েছে সাথে সাথে মাইকেল এর বর্তমান প্রেক্ষাপটও সমান তালে ফুটিয়ে তলা হয়েছে। এই প্রায় অসম্ভব কাজ টির সফলতার সিংহভাগ যাবে Francis Ford Coppola কাছে। তাই এই কিস্তি টিও করলেওনি পরিবারের গল্প। হত্যা, অবিশ্বাস, যুদ্ধ থাকা সত্ত্বেও আমাদেরকে ওই পারিবারিক গল্পটিই টানবে বেশি।

যারা মনে করেছিলেন গল্পের অধিকাংশই প্রথম পর্বে বলা হয়ে গেছে তারাও মুগ্ধ বিস্ময়ে দেখেছেন এই মুভিটি। আর হবে নাই বা কেন, মাইকেল চরিত্রে এতটুকু ছাড় না দেয়া আল পাচিনো যেন ছাড়িয়ে গেছেন নিজেকে। তবে আসল চমক টি এসেছে সম্ভবত রবার্ট ডি নিরোর কাছ থেকে। যুবক ভিটো করলেওনি চরিত্রে তাঁর অভিনয় ছিল নিঃসন্দেহে শতাব্দীর অন্যতম সেরা অভিনয়। মুভির শেষ টা নিয়ে কারো কারোর একটু প্রশ্ন থাকলেও সিকুয়েল মুভি গুলোর মধ্যে দ্যা গডফাদার পার্ট 2 যে সর্বকালের সেরা তা মনে হয় সবাই স্বীকার করবেন।

দ্যা গডফাদার পার্ট ৩ :

চলচ্চিত্র সমালোচকরা এই মুভি টিকেও পছন্দ করেছেন তবে তা প্রথম দুটির মত ইতিহাস সৃষ্টি করতে পারে নি। একটা কারণ হতে পারে দ্বিতীয়টির পর ১৬ বছরের বিরতি । আরেকটা কারন মূল গল্প তো বলা হয়ে গেছে, আর কি বাকি থাকতে পারে? তবে গল্পের কিছুটা বাকি আছে এবং এখানেই মুন্সিয়ানার পরিচয় দিয়েছেন Francis Ford Coppola। গল্প প্রায় শেষ কিন্তু তারপরেও তো কিছু বাকি থাকে, এটাই সম্ভবত এই মুভির মূল শক্তি। এখানেও আছেন প্রতিবারের মত আল পাচিনো এবং তাঁর দুর্দান্ত অভিনয়। মুভি টিকে প্রায় একাই টেনেছেন তিনি। সাথে অবশ্য কিছুটা হলেও Andy Garcia এর কথা বলতে হবে। শেষটা অনেকেই ঠিক ঠিক অনুমান করেছেন তারপরও মুভিটা যেন অনেকটা underrated, সমালোচক দের কাছ থেকে ঠিক প্রাপ্য টা বুঝে পায়নি কখনই। তাতে অবশ্য সমস্যা নেই, মুভি দেখে ভরপুর আনন্দ পাবেন এটুকু বলাই যায়।

আরো পড়ুন- মন ছুঁয়ে যাওয়ার মত কিছু কোরিয়ান ড্রামা

মন্তব্য
লোডিং...